Published : 03 Jul 2026, 03:21 PM
বাসা হোক বা অফিস, এসি বা ফ্যানের তাপমাত্রা নিয়ে নারী-পুরুষের বিরোধ দীর্ঘদিনের। দেখা যায়, একই তাপমাত্রায় একজন পুরুষ আরাম বোধ করলেও তার পাশের নারী সহকর্মী শীতে রীতিমতো কাঁপছেন, যা কেবল মনের ভুল নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণ।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও একটি ব্যাখ্যা দাঁড় করানো গেছে যে, কেন বিশ্বের অর্ধেক জনগোষ্ঠী বা নারীরা সবসময় নিজেদের গরম কাপড়ে মুড়িয়ে রাখতে চান।
নিউ ইয়র্ক পোস্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, ১৭ থেকে ৩১ ডিগ্রি সেলশিয়াস তাপমাত্রায় ২৮ জন সুস্থ নারী ও পুরুষ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান তা পর্যবেক্ষণ করেছেন গবেষকরা, যেখানে নারীদেহে ‘আর্কটিক’ বা মেরু অঞ্চলের মতো পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। এসব নারীর দেহের তাপমাত্রা তুলনামূলক ঠান্ডা।
সহজভাবে বললে, নারীদেহ অনেকটা মেরু অঞ্চলের প্রাণীদের মতো আচরণ করে, অর্থাৎ বাইরের তাপমাত্রা অনেকটা কমে গেলেও তাদের শরীর ভেতর থেকে শক্তি খরচ করে গরম হওয়ার প্রক্রিয়াটি পুরুষদের তুলনায় দেরিতে শুরু করে।
এ পার্থক্যের কারণটি কেবল চামড়ার উপরিভাগের কোনো বিষয় নয়, বরং আরও গভীরে।
এ গবেষণার প্রধান লেখক রবার্ট ব্রাইচটা বলেছেন, “গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের ত্বকের তাপমাত্রা আসলে পুরুষদের তুলনায় খুব একটা আলাদা না। আমরা দেখেছি, নারীদের ‘রেস্টিং মেটাবলিক রেট’ বা বিশ্রাম নেওয়া অবস্থায় ক্যালরি পোড়ানোর হার পুরুষদের তুলনায় কম, যা তাদের দেহের অপেক্ষাকৃত ছোট আকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
“একজন মানুষ ছোট আকৃতির হলে, তিনি নারী হোন বা পুরুষ, তার শরীরে তাপ উৎপন্ন হওয়ার পরিমাণ কম হবে।”
রেস্টিং মেটাবলিক রেট হচ্ছে সেই ক্যালরি, যা মানুষের দেহ বিশ্রাম নেওয়ার সময় শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্ত সঞ্চালন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মতো মৌলিক জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন কাজ চালিয়ে নিতে খরচ করে।
পুরুষদের রেস্টিং মেটাবলিক রেট গড়ে নারীদের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। এর কারণ, পুরুষদের শরীরে পেশিবহুল টিস্যু বেশি থাকে, যা চর্বির তুলনায় বিশ্রামরত অবস্থায় বেশি ক্যালরি পোড়ায়। আর বেশি পেশি থাকা মানেই দেহে বেশি তাপ উৎপন্ন হওয়া।
এদিকে, ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজেস’-এর গবেষক ব্রাইচটা এ নিয়মের সম্ভাব্য এক ব্যতিক্রমের কথা উল্লেখ করেছেন।
“আমরা এমনটিও খুঁজে পেয়েছি, যাদের দেহে চর্বির পরিমাণ বেশি তাদের ‘থার্মাল ইনসুলেশন’ বা তাপ ধরে রাখার ক্ষমতা বেশি থাকে। সার্বিকভাবে একটি দল হিসেবে নারীদের দেহে চর্বির শতাংশ বেশি হওয়ায় তাদের তাপ ধরে রাখার ক্ষমতাও বেশি।”
গবেষকরা বলছেন, নারীদেহে তাপ উৎপাদনের বিষয়টি তাদের দেহের আকারের ওপর নির্ভর করে। দেহ থেকে তাপ হারিয়ে যাওয়া ঠেকানোর বিষয়টি নির্ভর করে দেহের চর্বির ওপর।
ব্রাইচটা বলেছেন, “আপনি যদি একজন ছোটখাটো গড়নের নারীর সঙ্গে একজন দীর্ঘদেহী পুরুষের তুলনা করেন তবে সেই নারী অবশ্যই বেশি শীত অনুভব করবেন।
“আবার একজন ছোটখাটো গড়নের পুরুষ খুব রোগা ও তার দেহে চর্বির পরিমাণ কম থাকে তিনিও একজন বড়সড় মানুষের চেয়ে বেশি শীত অনুভব করবেন।”
গবেষণা বলছে, কারও বেশি বা কম শীত লাগা মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। শরীরের আকার, ধরন ও গঠন।
আগে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের শীত বেশি লাগার কারণ হতে পারে তাদের শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা প্রাকৃতিকভাবে কিছুটা বেশি থাকে। ফলে বাইরের ঠান্ডা বাতাস তাদের দেহে আরও বেশি অনুভূত হয়।
এ ছাড়া বেশ কিছু বাহ্যিক কারণও মানুষের দেহের তাপমাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে, যার মধ্যে মানসিক চাপের মাত্রা, ধূমপান, খাদ্যাভ্যাস ও হরমোনজনিত জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ভূমিকা রয়েছে।