Published : 08 Oct 2025, 05:38 PM
২০০৫ সালের গোল্ডেন গ্লোবে রবিন উইলিয়ামস বিশ্বকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন তার তিন কন্যার সঙ্গে। এবার তার মেজো মেয়ে মুখ খুললেন প্রয়াত বাবার জন্য।
দুই দশক আগে সিসিল বি ডেমিল অ্যাওয়ার্ড গ্রহন করার সময় বড় ও ছোট মেয়ের সম্পর্কে যথাক্রমে বলেছিলেন ‘নিনজা পোয়েট’, ও ‘লোকজনের সিনট্যাক্স সারাই করার দোকান খুলবে’। লাজুক মেজো মেয়ে জেল্ডার প্রতিভা নিয়ে তেমন কিছু বলেননি তিনি।
এবার প্রয়াত বাবাকে নিয়ে তৈরি করা এআইনির্ভর বিভিন্ন ভিডিওর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করেছেন অভিনেতা ও কমেডিয়ান রবিন উইলিয়ামসের মেয়ে জেল্ডা উইলিয়ামস।
সোমবার এক ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে জেল্ডা লিখেছেন, “দয়া করে বাবাকে নিয়ে তৈরি করা এআই ভিডিও আমাকে পাঠানো বন্ধ করুন। ভাববেন না আমি এগুলো দেখতে চাই বা বুঝতে পারব, আমি বুঝতে পারি না, আর পারবও না। আপনার উদ্দেশ্য যদি কেবল আমাকে বিরক্ত করা হয়, তবে জেনে রাখুন আমি আরও খারাপ বিষয়ও দেখেছি। আমি কেবল আপনাকে ব্লক করে এগিয়ে যাব। কিন্তু দয়া করে আপনার যদি একটুও মানবতা থেকে থাকে তাহলে বাবার প্রতি, আমার প্রতি ও সবার প্রতি এমন ধরনের আচরণ করা বন্ধ করুন। এমন আচরণ খুবই অযৌক্তিক, সময় ও শক্তির অপচয়। আর বিশ্বাস করুন আমার বাবা এমনটি মোটেও চাননি।
“একজন সত্যিকারের মানুষের পুরো জীবন ও পরিচিতিকে উপেক্ষা করে কেবল ‘তাদের মতো কিছুটা দেখতে বা শুনতে পাওয়া যায় এমন কিছু হলেই চলবে’ এই ধারণায় সীমাবদ্ধ করে দেওয়া এবং অন্যরাও তা ব্যবহার করে ভয়ংকর টিকটক ভিডিও বানিয়ে নিজেদের মতো করে ঢোল বাজাচ্ছেন– এমনটি সত্যিই হতাশাজনক ও বিরক্তিকর।
“এভাবে আপনারা কোনো শিল্প তৈরি করছেন না, বরং মানুষের জীবন, শিল্প আর সংগীতের ইতিহাসকে বিকৃত করে ঘৃণিত, অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত এক ধরনের ‘হটডগ’-এর মতো কিছু বানাচ্ছেন। তারপর সেই বিকৃত জিনিস অন্যদের মুখে গুঁজে দিচ্ছেন কেবল এই আশায় যে, মানুষজন আপনাকে একটা ‘লাইক’ বা ‘থাম্বস-আপ’ দেবে। বিষয়টি সত্যিই জঘন্য।”
“আর এআইকে ‘ভবিষ্যৎ’ বলা বন্ধ করুন। এআই কোনো নতুন কিছু তৈরি করছে না, বরং এআই কেবল পুরানো বিভিন্ন জিনিসকে খারাপভাবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে আবার আমাদের সামনে উপস্থাপন করছে। আপনারা এমন এক বিকৃত চক্রে আটকে গিয়েছেন, যেখানে মানুষকে পুরানো নানা বিষয় বারবার খেয়ে হজম করতে হচ্ছে। আর এ সারির একদম সামনে যারা রয়েছেন তারা লাভবান হচ্ছেন এবং বাকিরা কেবল ভোগ করছেন।”
ব্রিটিশ দৈনিক পত্রিকা গার্ডিয়ান লিখেছে, তবে এবারই প্রথম নয়, এর আগেও নিজের প্রয়াত বাবাকে নিয়ে তৈরি এআই প্রযুক্তির বিরোধিতা করেছেন অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জেল্ডা উইলিয়ামস। ২০২৪ সালের হরর ঘরানার কমেডি ‘লিসা ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ পরিচালনা করেছেন জেল্ডা। ২০১৪ সালে ৬৩ বছর বয়সে নিজের জীবনাবসান ঘটান রবিন উইলিয়ামস।
২০২৩ সালে ‘স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড’-এর এআইয়ের বিরুদ্ধে প্রচারকে সমর্থন জানিয়ে ইনস্টাগ্রামে জেল্ডা লিখেছিলেন, “কয়েক বছর ধরে আমি দেখছি কত মানুষ এসব এআই মডেলকে এমন অভিনেতার মতো বানানোর চেষ্টা করছে যারা নিজেরা এক্ষেত্রে সম্মতি দিতে পারেন না, যেমন– আমার বাবা। বিষয়টি কোনো কল্পকাহিনি নয়, বিষয়টি একেবারে সত্যি।”
গার্ডিয়ান লিখেছে, জেল্ডার এ সাম্প্রতিক মন্তব্যটি এমন সময়ে এল যখন ‘অশ্লীল’ ভিডিও থেকে শুরু করে রাজনৈতিক প্রচারণা, প্রতারণা ও বিজ্ঞাপন সব ক্ষেত্রেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারকাদের ডিপফেইক বা কৃত্রিমভাবে বানানো ভিডিও।
চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই বলেছে, কোনো কনটেন্টের মালিকরা ‘কপিরাইট বিরোধ ফর্ম’ ব্যবহার করে নিজেদের কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে কোনো শিল্পী বা স্টুডিও পুরোপুরিভাবে এআই থেকে নিজেদের কনটেন্ট বাদ দিতে পারবেন না।
কোম্পানিটির মিডিয়া পার্টনারশিপ বিভাগের প্রধান ভারুণ শেঠি বলেছেন, “আমরা কনটেন্টের মালিকদের সঙ্গে কাজ করব, যাতে তারা চাইলে ‘সোরা’য় নির্দিষ্ট বিভিন্ন চরিত্র ব্লক করতে পারেন। পাশাপাশি এ ধরনের কনটেন্ট মুছে ফেলার বিষয়ে তাদের অনুরোধেও সাড়া দেব আমরা।”