Published : 08 Jun 2026, 12:54 AM
শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেকমন্ত্রী দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপাকে এক দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেয়।
প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে এই তিন আসামিকে একদিন করে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ সময়ের আবেদন করে। ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ অগাস্ট নতুন তারিখ ধার্য করে।
ট্রাইব্যুনাল-১ এর অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিন ট্রাইব্যুনালে মামলার আসামি দীপু মনি, মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক এবং সাবেক উপমহাপরিদর্শক মোল্যা নজরুল ইসলামকে হাজির করা হয়।
শাহরিয়ার কবির চলাচলে সক্ষম না হওয়ায় শুনানিতে তার জন্য হুইল চেয়ারের আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না। পরে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদ ও গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার পলাতক রয়েছেন।
প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “২০১৩ সালের মে মাসে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে এখন পর্যন্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে ৫৮ জনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।”
এই ৫৮ জনের পরিচয় তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন বলে তিনি তুলে ধরেন।
চলতি বছরের ১৪ মে শাপলা চত্বরের ওই ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দীপু মনি, মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
নারী ও শিক্ষানীতির বিরোধিতা করে ২০১০ সালে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে সমাবেশ ডাকে সংগঠনটি, যা ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা ও তাণ্ডব চলে। ওই রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের শাপলা চত্বর থেকে সরানো হয়।
মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই রাতের অভিযানে ৬১ জন নিহত হন। তবে তৎকালীন পুলিশের দাবি ছিল, রাতের অভিযানে কেউ মারা যাননি এবং দিনভর সংঘাতে নিহতের সংখ্যা ১১।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২০ অগাস্ট শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ জমা পড়ে।
সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, লেখক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, ইমরান এইচ সরকারসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
এর আগে গত বছরের মে মাসে শাপলা চত্বরের ঘটনায় জলিল মণ্ডলসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই মামলায় তিনি ২ নম্বর আসামি এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর তাকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
২০২৪ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফারজানা রূপাকে আটক করা হয়। একই বছরের ৮ অগাস্ট একাত্তর টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়।
অপরদিকে ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ভোরে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্তের কাছে গ্রেপ্তার হন মোজাম্মেল বাবু।