Published : 06 Jun 2026, 10:13 AM
ফার্নান্দা পেশায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা, বয়স ২৯। দুই বছর আগে ফার্নান্দা তার মোবাইল ফোন থেকে ডেটিং অ্যাপগুলো মুছে ফেলেছিলেন। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আর ফিরে আসবেন না।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার বন্ধুদের অনেকেই অনলাইনে পরিচয়ের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়তে শুরু করেন এবং প্রত্যেকেই প্রায় একই ধরনের আশাব্যঞ্জক অভিজ্ঞতার গল্প শোনাতে থাকেন।
কয়েক সপ্তাহ আগে ফার্নান্দা আবারও কয়েকটি ডেটিং অ্যাপ ডাউনলোড করেন।
ফার্নান্দা তার পুরো নাম প্রকাশ করতে চাননি।
এই গল্প কেবল ফার্নান্দার নয়। বিবিসি প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে উঠে এসেছে স্মার্টফোননির্ভর ডেটিং অ্যাপের এক অবিচ্ছেদ্য চক্রের কথা। এই চক্রটি হচ্ছে - ডাউনলোড, বার্নআউট, ডিলিট, ফের ডাউনলোড।
বিজ্ঞান বলছে, ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারকারীরা একটি চক্রের মধ্যেই ঘোরেন। এই চক্র পূর্বানুমানযোগ্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ।
গবেষকদের মতে, এই চক্রের কিছু স্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে, যেগুলো মানুষকে এতে আটকে রাখে এবং ধীরে ধীরে মানসিক ক্লান্তির দিকে ঠেলে দেয়।
আশার কথা, সেখান থেকে বের হওয়ার পথও আছে।
ফার্নান্দা বলেন, “বন্ধুদের গল্প শুনে আমি ভেবেছিলাম এবার হয়তো কিছুটা ভিন্ন হবে।”
কিন্তু তার ধারণা ঠিক ছিল না। খুব দ্রুতই তিনি একাধিক জনের সঙ্গে আলাপে জড়িয়ে পড়েন। এর ফলে, বারবার ফোন চেক করার তাড়না তৈরি হতে থাকে এবং আরো একটি চাপ এসে বসে। সবসময় বুদ্ধিদীপ্ত ও আকর্ষণীয় থাকতে হবে।
ফার্নান্দা বলেন, “এটা খুবই ভারী মনে হয়। একটা অদৃশ্য চাপ থাকে। এটা ধীরে ধীরে আপনার বাস্তব বন্ধুত্ব আর কাজ থেকে আপনাকে দূরে সরিয়ে নিতে শুরু করে।”
অ্যালগরিদম তাকে প্রচুর মানুষের সামনে হাজির করলেও কোনো স্থায়ী সংযোগ তৈরি হয়নি। এরপর তিনি ভাবতে শুরু করেন, এ থেকে তার সম্পর্কে কেমন ধারণা তৈরি হয়?
দুই বছর একা থাকার পরও নিজেকে আরও বেশি একা মনে হয় তার।
ফার্নান্দার এই অভিজ্ঞতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এবং এর একটি নামও আছে: ডেটিং অ্যাপ বার্নআউট। গবেষণা বলছে, এসব অ্যাপ ব্যবহারকারীদের মধ্যে এমন একটি পরিচিত প্যাটার্ন তৈরি করে, যা ডেটিংয়ের চেয়ে অনেক সময় এক ধরনের অতিরিক্ত চাপের কাজের মতো মনে হয়। এতে ক্লান্তি, নিরাশাসহ এমন এক অনুভূতি কাজ করে যে কিছুই কাজ করছে না, আর সমস্যাটা হয়তো নিজের মধ্যেই।
একাকীত্বের অনুভূতি থাকলে এই অভিজ্ঞতা আরও তীব্র হয়। ‘ডেটিং অ্যাপ ইউজ, সাইকোলজিক্যাল হেলথ, অ্যান্ড সাইকোলজিক্যাল ওয়েল-বিয়িং: এ সিস্টেম্যাটিক রিভিউ অ্যান্ড কোয়ান্টিটেটিভ মেটা-অ্যানালিসিস’ শিরোনামের গবেষণায় দেখা গেছে, ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং একাকীত্বের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে যারা আগে থেকেই মানসিক চাপে ভুগছিলেন, তাদের ওপর এর প্রভাব আরও গভীর হয়।
ওই গবেষণার ফার্স্ট অথর এবং যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির রিলেশনশিপস অ্যান্ড টেকনোলজি ল্যাবের পরিচালক লিজেল শারাবি বলেন, “মনে হয় অ্যাপগুলোর লক্ষ্য আর ব্যবহারকারীদের চাওয়া মৌলিকভাবে একে অপরের সঙ্গে মেলে না।”
তিনি বলেন, “মানুষ যদি সত্যিই দারুণ ‘ম্যাচ’ পেত এবং অসাধারণ ডেটে যেত, তাহলে তারা স্থায়ীভাবে অ্যাপ ছেড়ে দিত। কিন্তু সেটা হচ্ছে না। মানুষ বারবার অ্যাপে ঢুকছে এবং আবার বের হচ্ছে।”
যদি আপনি আবার অনলাইনে প্রেম খুঁজতে ফিরে এসে থাকেন, তাহলে আপনি হয়তো এই চক্রের মধ্যেই আছেন। ভালো খবর হলো, একবার এটি চিনতে পারলে নিজেকে রক্ষা করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।
বার্নআউট চক্রে আটকে আছেন?
২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘বার্ন্ট আউট অ্যান্ড স্টিল সিঙ্গেল: সাসসেপ্টিবিলিটি টু ডেটিং অ্যাপ বার্নআউট ওভার টাইম’ শীর্ষক এক গবেষণায় কয়েকশ ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারকারীকে তিন মাস ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষক শারাবি বলেন, “সময়ের সঙ্গে আমরা দেখতে পাই, ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারকারীরা সব ক্ষেত্রেই বার্নআউট অনুভব করছেন।”
এটি এক ধরনের প্রত্যাশিত বাস্তবতাও বটে। কেউ যদি দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাপে সক্রিয় থাকেন, তাহলে অনেক সময়ই কাঙ্ক্ষিত সম্পর্ক বা সংযোগ তৈরি হয় না, বিশেষ করে যদি উদ্দেশ্য হয় দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক। তবে গবেষকদের মতে, এই অভিজ্ঞতা শুধু বিরক্তি বা হতাশার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি অনেক গভীর মানসিক চাপেও রূপ নিতে পারে।
‘বার্নআউট’ শব্দটি এত বেশি ব্যবহৃত হয় যে এর প্রকৃত অর্থ অনেক সময় ঝাপসা হয়ে যায়। কিন্তু মনস্তত্ত্বে এর একটি প্রতিষ্ঠিত সংজ্ঞা রয়েছে। ক্লাসিক মডেলে বার্নআউটকে তিনটি উপাদানে ব্যাখ্যা করা হয়: মানসিক ক্লান্তি, নৈরাশ্য বা দূরে সরে যাওয়া, এবং নিজের সক্ষমতা নিয়ে অযোগ্যতার অনুভূতি।
এই ধারণাটি প্রথমত উচ্চচাপের কর্মপরিবেশে বর্ণনা করা হলেও পরে গবেষণায় দেখা যায়, জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। শারাবির মতে, অনলাইন ডেটিংয়ের অভিজ্ঞতাতেও একই ধরনের চিত্র স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
মানসিক ক্লান্তির দিকটি তুলনামূলকভাবে সহজে বোঝা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে সোয়াইপ করতে করতে যদি কেউ অনুপ্রেরণাহীন, পরাজিত বা ক্লান্ত বোধ করেন, সেটি বার্নআউটের একটি সাধারণ লক্ষণ।
প্রোফাইলগুলো যদি ধীরে ধীরে একে অপরের সঙ্গে মিশে যেতে শুরু করে এবং মানুষকে ব্যক্তি হিসেবে না দেখে কেবল প্রোফাইল হিসেবে মনে হতে থাকে, তাহলে সেটি নৈরাশ্যের ইঙ্গিত।
আর যদি মনে হয়, যাই করা হচ্ছে তা কোনো কাজেই আসছে না, তাহলে সেটি অকার্যকারিতার অনুভূতি।
“আমি এই ভাবনা থেকে ডেটিং অ্যাপের ব্যবহার শুরু করেছিলাম যে, আমি যেন অন্যদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকি। কারণ, শেষ পর্যন্ত আমরা সবাই মানুষ,” বলেন ম্যাডেলিন ডি, যিনি একটি টেক কোম্পানিতে মার্কেটিংয়ের কাজ করেন এবং পুরো নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, “কিন্তু যত সময় গেছে, আমি ততটাই যেন এই বিষয়টা নিয়ে অসাড় হয়ে পড়েছি। তখন আর প্রোফাইলগুলোকে মানুষ হিসাবে আর দেখতাম না। এটা আমার নিজের কাছেই খারাপ লাগত, কারণ আমি নিজেকে বলেছিলাম অন্তত অন্যদের প্রতি ভদ্রতা আর সম্মানটা বজায় রাখব।”
শারাবি একটি সাম্প্রতিক মেটা-বিশ্লেষণ পরিচালনা করেছেন, যেখানে ১৭ বছরের বিভিন্ন গবেষণার ফল একত্র করা হয়েছে। এতে প্রায় ২৬ হাজার মানুষের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। গবেষণায় দেখা যায়, যারা ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করেন, তারা অন্যদের তুলনায় মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ অবস্থায় ছিলেন। এর মধ্যে ছিল বিষণ্নতা, উদ্বেগ, আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা, একাকীত্ব এবং সামগ্রিক মানসিক চাপ।
আর যারা আগে থেকেই তুলনামূলক খারাপ মানসিক অবস্থায় অ্যাপে যোগ দেন, গবেষণায় দেখা গেছে, এই সমস্যাগুলো তাদের ওপরই বেশি প্রভাব ফেলে।
তত্ত্বগতভাবে, শারাবির মতে, যাদের জন্য অফলাইনে সম্পর্ক তৈরি করা কঠিন এসব অ্যাপ তাদের জন্য একটি সুযোগ হতে পারে। বিশেষ করে যাদের মানসিক স্বাস্থ্যজনিত চ্যালেঞ্জের কারণে সরাসরি সামাজিক যোগাযোগ কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, এই ব্যবহারকারীরাই সবচেয়ে দ্রুত এবং বেশি মাত্রায় বার্নআউটের শিকার হন।
শারাবি বলেন, “এটি তাদের আগের সমস্যাগুলোকে আরও বাড়িয়ে তোলে।”
“অথচ এই মানুষগুলো বিশেষভাবে সংবেদনশীল ছিলেন।”
দোষ কার?
ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারকারীদের বার্নআউটের কথা বলতে গেলে কোম্পানিগুলোর অবস্থানও স্পষ্ট।
“সমাজ এবং ডেটারদের চাহিদা যেভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, সেই পরিস্থিতিতে আমরা মানুষকে অর্থবহ সংযোগ তৈরি করতে এবং সেই সংযোগকে ভালো ডেটিং অভিজ্ঞতায় রূপান্তর করতে সহায়তা করতে চাই এবং এতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” - বিবিসিকে বলেন হিঞ্জ নামের ডেটিং অ্যাপের এক মুখপাত্র।
হিঞ্জের দাবি, তাদের অ্যাপটি এমনভাবে ডিজাইন করা, যাতে এটি ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন জীবনের আড়ালে থেকেই কাজ করে এবং ব্যবহারকারীদের ফিডব্যাক ব্যবহার করে তারা অভিজ্ঞতা উন্নত করেন।
শারাবি মনে করেন, দায় পুরোপুরি প্রযুক্তির ওপর দেওয়াও ঠিক নয়। তিনি বলেন, “ডেটিং সবসময়ই কিছুটা কঠিন ছিল, এবং প্রযুক্তিকে দোষ দেওয়া খুব সহজ।”
একই সঙ্গে তিনি বলেন, অ্যাপগুলো নির্দিষ্ট কিছু উপায়ে সেই চাপ বা অস্বস্তিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
এর একটি বড় কারণ হলো গেইমিফিকেশন। ডেটিং অ্যাপগুলো দ্রুত সোয়াইপ, কম বাধা এবং অনিয়মিত পুরস্কারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। অনেক ব্যবহারকারীর মতে, এর কাঠামো অনেকটা স্লট মেশিনের মতো। সম্পর্ক গড়ার চেয়ে বরং এক ধরনের চক্রে আটকে রাখে। আগ্রহ কমে গেলেও অনেকেই সেই ‘লিভার টানতে’ থাকেন।
লস অ্যাঞ্জেলেসের অফিস প্রশাসক ক্যারেন করনেহো বলেন, “সোয়াইপ করার সময় একটা উত্তেজনা কাজ করে। এরপর আর কিছুই তেমন মনে হয় না।” তার মতে, ম্যাচের সঙ্গে বাস্তবে দেখা করার সময় আসার আগেই সেই উত্তেজনা অনেকটা হারিয়ে যায়। তিনি বলেন, “তখন আর আমি তেমন আগ্রহী থাকি না।”
ব্রুকলিনের লেখক ও কমেডিয়ান ডালাস কোয়েলিং কয়েক বছর ধরে মাঝে মাঝে অ্যাপ ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, “হিঞ্জ-এ কোনো ‘লাইক’ পাওয়ার নোটিফিকেশন পাওয়া আমার কাছে অনেকটা হুমকির মতো মনে হয়।”
এর পাশাপাশি রয়েছে এক ধরনের ‘হিডেন লেবার’ বা অদৃশ্য শ্রম।
“আপনি যদি শেকসপিয়ারের ইংল্যান্ডে থাকতেন, তাহলে হয়তো একদিনে হিঞ্জে সোয়াইপ করতে গিয়ে যত মানুষের মুখ দেখেন, জীবনে কখনও এত মানুষের সঙ্গে দেখা হতো না,” বলেন কোয়েলিং।
ডেটিং অ্যাপ সম্ভাব্য সঙ্গীর পরিসরকে অনেক বিস্তৃত করে দিয়েছে। এটিই একদিকে এর বড় সুবিধা। কিন্তু এই বিশাল পরিসরই অনেক সময় ডেটিংকে এক ধরনের কাজের মতো করে তোলে।
ম্যাডেলিন বলেন, “এটা আমার কাছে প্রায় দ্বিতীয় একটি ফুল-টাইম চাকরির মতো মনে হয়, যেটা আমাকে লাঞ্চ ব্রেক বা কাজের পর করতে হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমি চাই না সারাক্ষণ ফোনে আটকে থাকতে। সোশাল মিডিয়ার ক্ষেত্রে আমি এখন অনেক ভালোভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। কিন্তু ডেটিংয়ের ক্ষেত্রে একটা অনুভূতি কাজ করে যে, পরের যে মানুষটাকে আমি সোয়াইপ করব, সে-ই হয়তো আমার ভবিষ্যৎ সঙ্গী হতে পারে। এই যে শেষ না হওয়া আশা, আমার মনে হয় ডেটিং অ্যাপ সেটাকেই কাজে লাগায়।”
মানুষের মুখের এই অসীম প্রবাহও বার্নআউটের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে তোলে বলে মনে করেন শারাবি। তার মতে, একটি প্রোফাইল ব্যবহারকারীর সম্পর্কে সীমিত তথ্যই দিতে পারে।
“আপনি এক ধরনের অন্তহীন চক্রে আটকে যান, প্রোফাইল থেকে শুরু করে অর্থহীন কথোপকথন, তারপর অর্থহীন ডেট, আর এরপর আবার আপনি সেই একই জায়গায় ফিরে আসেন,” তিনি বলেন।
এর সঙ্গে যুক্ত হয় কাঠামোগত একটি টানাপড়েন। ডেটিং অ্যাপগুলোর প্রকৃত লক্ষ্য ব্যবহারকারীদের মধ্যে ম্যাচ তৈরি করা। কারণ ম্যাচ না হলে মানুষ খুব দ্রুত এসব অ্যাপ ব্যবহার করা বন্ধ করে দেবে। কিন্তু একইসঙ্গে এগুলো একটি ব্যবসা, যেখানে আয়ের বড় অংশ আসে সাবস্ক্রিপশন ও পেইড ফিচার থেকে। ফলে ব্যবহারকারী পুরোপুরি চলে গেলে তাদের আয়ও কমে যায়।
বছরের পর বছর ধরে ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করে আসছেন যে অ্যাপগুলো তাদের প্রভাবিত করে, সেরা ম্যাচগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখে এবং আবেগকে ব্যবহার করে মানুষকে সোয়াইপ করতে বাধ্য রাখে। যদিও ডেটিং অ্যাপ কোম্পানিগুলো এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে। তবে অ্যাপের িঅ্যালগরিদম কীভাবে কাজ করে, তা সাধারণ মানুষের কাছে অজানা।
২০২৪ সালে একটি ক্লাস-অ্যাকশন মামলায় ম্যাচ গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, টিন্ডার, হিঞ্জসহ তাদের মালিকানাধীন অ্যাপগুলো আসক্তি তৈরি করার মতো করেই ডিজাইন করা হয়েছে এবং তাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সম্পর্ক গড়ার চেয়ে বরং বাধ্যতামূলক ব্যবহার থেকে মুনাফা করা।
কোম্পানিটি এসব অভিযোগকে “অযৌক্তিক” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। পরবর্তীতে মামলাটি আরবিট্রেশনে পাঠানো হয়।
এ নিয়ে ম্যাচ গ্রুপ মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
হিঞ্জ-এর মুখপাত্র বলেন, “আমাদের মনোযোগের বড় অংশই হিঞ্জের ফ্রি ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করার দিকে কেন্দ্রীভূত, কারণ আমাদের কমিউনিটির ১৫ শতাংশেরও কম ব্যবহারকারী পেইড ফিচার ব্যবহার করেন। শেষ পর্যন্ত আমাদের সাফল্য নির্ভর করে মানুষ যেন অ্যাপে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা পান, কারও সঙ্গে অর্থবহ সম্পর্ক তৈরি করতে পারেন এবং অন্যদেরও অ্যাপটি ব্যবহারে উৎসাহিত করেন।”
বার্নআউট চক্র ভাঙার চার উপায়
অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীদের ধরে রাখার জন্য ডিজাইন করা, আর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে সোয়াইপ করাই মানুষকে ক্লান্ত করে ফেলে। তবে লিজেল শারাবি কিছু সহজ উপায় দিয়েছেন।
● অ্যাপকে একমাত্র উপায় হিসেবে ব্যবহার না করা। তিনি বলেন, “আমি কাউকে অ্যাপ ব্যবহার করতে নিরুৎসাহিত করি না, তবে এটিই একমাত্র মাধ্যম হওয়া উচিত নয়।” বন্ধুদের মাধ্যমে পরিচয়, সামাজিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন গ্রুপে যুক্ত হওয়া যেতে পারে।
● উদ্দেশ্য নিয়ে সোয়াইপ করা। নির্দিষ্ট সময় ও সীমা ঠিক করা উচিত।
● বন্ধুদের ওপর নির্ভর করা। একা থাকলে বার্নআউট আরও বেড়ে যায়।
● যদি অ্যাপ ব্যবহার করে বারবার হতাশা আসে, তাহলে বুঝবেন পুরোপুরি বিরতি নেওয়ার সময় এসেছে।
শারাবি বলেন, “এসবই ইঙ্গিত হতে পারে যে আপনাকে বিরতি নিতে হবে।”