Published : 27 Jul 2026, 05:30 PM
এবার এনআরবি ব্যাংকের ঋণ খেলাপের দুই মামলায় করোনা মহামারীর সময়ে নমুনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট কেলেঙ্কারিতে আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
সোমবার ঢাকার ৪র্থ অর্থঋণ আদালতের বিচারক মো. মোশাররফ হোসেন এ আদেশ দেন।
সাহেদের আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন বলেন, “আজ দুই মামলায় সাহেদ করিমের জামিন আবেদন করা হয়েছিল। তবে অর্থঋণ আদালতের বিধান অনুযায়ী, ঋণের অর্থের ২৫ শতাংশ জমা দিতে না পারায় আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করব।”
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৪ সালে রিজেন্ট হাসপাতালের নামে এনআরবি ব্যাংক থেকে এক কোটি ৫১ লাখ ৮১ হাজার টাকা ঋণ নেন সাহেদ। এছাড়া ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকার একটি ক্রেডিট কার্ড সুবিধাও গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিনেও ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া পরিশোধ না করায় ২০২১ সালে এনআরবি ব্যাংক তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে। বর্তমানে সুদ-আসল মিলিয়ে ব্যাংকের দাবি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
এর আগে মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় ২০২৫ সালের ৪ মে ঢাকার পঞ্চম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ সাহেদকে এক বছরের সাজা দেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
ওই মামলায় গত ২০ জুলাই সকালে রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওইদিনই জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
সাহেদের নাম প্রথমবার আলোচনায় আসে কোভিড মহামারীর সময় ২০২০ সালের ৭ জুলাই উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে র্যাবের অভিযানের পর। হাসপাতাল থেকে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় র্যাব সাহেদসহ ১৭ জনের নামে করোনার সনদ জালিয়াতির অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করে।
মামলার ৯ দিনের মাথায় ১৫ জুলাই সাহেদকে সাতক্ষীরার সীসান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এরপর তাকে নিয়ে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করে সংস্থাটি।
পরে সাহেদের বিরুদ্ধে নানা প্রতারণার অভিযোগে একাধিক মামলা হয়। ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর অস্ত্র আইনের মামলায় সাহেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল আদালত।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের এক মামলায় ২০২৩ সালের ২১ অগাস্ট সাহেদকে আদালত আরো তিন বছর কারাদণ্ড দেয়। আর ১৪ বছর আগে ২০১০ সালে চেক জালিয়াতির একটি মামলায় তার ছয় মাসের সাজা হয়েছিল।
সাহেদের বিরুদ্ধে ৩৫টি মামলার মধ্যে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনেও একটি মামলা ছিল। সেই মামলায় সিআইডির প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, আসামি সাহেদ মানুষ ঠকিয়ে ১১ কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করেছিলেন।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের এক মাসের মাথায় ৪ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন।
সে সময় প্রতারণা, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ সাহেদের বিরুদ্ধে ৩৫টি মামলা চলমান ছিল; যার সব কটিতেই পর্যায়ক্রমে জামিন পাওয়ায় প্রায় চার বছর পর জেল থেকে মুক্তি মেলে তার।