Published : 20 Jul 2026, 05:52 PM
কোভিড মহামারীর সময় নমুনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে আলোচনায় আসা রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমকে মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকার পঞ্চম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ সাদিক আহমেদ সোমবার সাহেদের জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন৷
গতবছর সাহেদকে এ মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। সোমবার সকালে তাকে ঢাকার মাটিকাটা ইসিবি চত্বর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পল্লবী থানা পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
সাহেদের পক্ষে তার আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তবে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে।
আইনজীবী দবির উদ্দিন বলেন, “মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক ২০১৫ সালে এ মামলা দায়ের করে। ২০২০ সালের দিকে আসামি গ্রেপ্তার হয়ে সাড়ে চার বছর কারাগারে ছিলেন। তখন তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।
“২০২৫ সালের ৪ মে আদালত তাকে এই মামলায় এক বছরের সাজা দেয় এবং চেক ডিজঅনারের সমপরিমাণ টাকা অর্থাৎ ২ কোটি ১৬ লাখ অর্থদণ্ড দেয়। সাহেদ এখন কারাগারে গেছেন। আমরা আপিল করব।”
আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে সাহেদ সাংবাদিকদের বলেন, "মার্কেন্টাইল ব্যাংক একটা ভুয়া ব্যাংক। এ ব্যাংকের মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখায়নি। তারা আমাকে সন্ত্রাসী কায়দায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছি। এটা কোনো ভালো কথা হয়নি। এটা সম্পূর্ণ ভুয়া মামলা। আশা করি, ন্যায়বিচার পাব।"
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালে ব্যবসার জন্য মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক থেকে ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ঋণ নেন সাহেদ। এর বিপরীতে ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার একটি চেক জমা দেন।
পরে সেই ঋণের টাকা পরিশোধ না করায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেক ভাঙাতে যায়। কিন্তু অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তা প্রত্যাখ্যাত হয়।
ওই ঘটনায় মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডের পক্ষে মো. ইসমাইল হোসেন ২০১৫ সালের ১২ মার্চ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
রিজেন্ট হসপিটাল লিমিটেড, হসপিটালের চেয়ারম্যান সাহেদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইব্রাহিম খলিলকে সেখানে আসামি করা হয়।
বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ৪ মে সাহেদ ও ইব্রাহিম খলিলকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং চেকের সমপরিমাণ অর্থ জরিমানা করে আদালত।
তাদের মধ্যে ইব্রাহিম খলিল এখনো পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ দবির উদ্দিন।
পুরনো খবর-