Published : 17 Sep 2026, 08:58 PM
দ্বিতীয় বলে প্রথম চার, চতুর্থ বলে প্রথম ছক্কা। সেই যে শুরু, এরপর রীতিমতো চার-ছক্কার বৃষ্টি নামালেন আভিশেক শার্মা। খুনে ব্যাটিংয়ে দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে রেকর্ড বইয়ে নাম লেখালেন ভারতের ওপেনার।
দিল্লিতে বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১০ ছক্কা ও ৯ চারে ৩০ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আভিশেক। রোহিত শার্মাকে ছাড়িয়ে এই সংস্করণে ভারতের দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান এখন তিনিই।
২০১৭ সালে ইন্দোরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন রোহিত।
সব দেশ মিলিয়ে আভিশেকের চেয়ে কম বলে সেঞ্চুরি আছে কেবল দুটি। ২০২৫ সালে তুরস্কের হয়ে বুলগেরিয়ার বিপক্ষে ২৯ বলে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন মুহাম্মাদ ফাহাদ। ২০২৪ সালে এস্তোনিয়ার হয়ে সাইপ্রাসের বিপক্ষে ২৭ বলে শতক করেন সাহিল চৌহান।
তবে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরি আভিশেকেরটিই। আগের রেকর্ড ৩৩ বলে সেঞ্চুরি ছিল যৌথভাবে দুজনের। গত মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিউ জিল্যান্ডের ফিন অ্যালেন ও ২০২৪ সালে গাম্বিয়ার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা পান এই স্বাদ।
আভিশেকের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি এটি। ২০২৪ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪৬ বলে ও ২০২৫ সালে ওয়াংখেড়েতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।
বিশ ওভারের ক্রিকেটে ৩০ এর কম বলেও সেঞ্চুরি আছে আভিশেকের। ২০২৪ সালে সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে পাঞ্জাবের হয়ে এই স্বাদ পান তিনি ২৮ বলে, ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে যা যৌথভাবে দ্রুততম। একই আসরে তার সপ্তাহ খানেক আগে ২৮ বলে সেঞ্চুরি করেন উর্ভিল প্যাটেল।
আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট মিলিয়ে আভিশেকের টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি হলো মোট ১০টি, ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে যা ভিরাট কোহলির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। সব দেশ মিলিয়ে এর চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি আছে কেবল বাবর আজম (১৩টি) ও ক্রিস গেইলের (২২টি)।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে সফল রান তাড়ায় আভিশেক করেন ৩২ বলে ৮২ ও ১৯ বলে ৩৯।
এবার টস হেরে আগে ব্যাটিং পায় ভারত। মুখোমুখি প্রথম বলে রান নিতে পারেননি আভিশেক। দ্বিতীয় বলে ফাজাল হাক ফারুকিকে চার মেরে রানের দেখা পান তিনি। দ্বিতীয় ওভারে দুটি ছক্কা ও একটি চার মারেন আজমাতউল্লাহ ওমারজাইকে।
পরের ওভারে ফারুকির টানা চার বলে মারেন দুটি করে চার ও ছক্কা। চতুর্থ ওভারে অভিজ্ঞ স্পিনার মোহাম্মাদ নাবিকে ছক্কায় উড়িয়ে পঞ্চাশে পা রাখেন তিনি ১৬ বলে। ওই ওভারেই ছক্কা মারেন আরেকটি।
পরের ওভারে আরেক স্পিনার রাশিদ খানের শেষ তিন বলে দুটি চার ও একটি ছক্কা মারেন আভিশেক। পাওয়ার প্লেতে ভারত করে বিনা উইকেটে ১০০ রান, যেখানে আভিশেকের অবদান ২২ বলে ৭৬।
এই সংস্করণে ইনিংসের প্রথম ছয় ওভারে কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ রান এটিই। ২০২৩ সালে পর্তুগালের হয়ে মাল্টার বিপক্ষে কুলদিপ গোলিয়ার ২৫ বলে ৭৪ ছিল আগের সর্বোচ্চ।
পাওয়ার প্লে শেষের পরও চলতে থাকে আভিশেকের তাণ্ডব। সপ্তম ওভারে মুজিব উর রাহমানকে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে নব্বইয়ের ঘরে পৌঁছে যান তিনি। পরের ওভারে আবদুল্লাহ আহমাদজাইকে ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কায় উড়িয়ে তার রান হয় ৯৯। পরের বলে এক রান নিয়ে স্পর্শ করেন কাঙ্ক্ষিত মাইলফলক।
পরের ওভারে রাশিদকে আরেকটি ছক্কা মেরে ক্যাচ আউট হয়ে যান আভিশেক। ৯ চার ও ১১ ছক্কায় ৩৪ বলে ১০৮ রান করেন ২৬ বছর বয়সী ক্রিকেটার।
ভারতের হয়ে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড তার আগে থেকেই। ২০২৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩৫ রানের ইনিংসে তিনি ছক্কা মারেন ১৩টি। এরপরই এবারের ১১টি।