পাকিস্তানের কাছে হেরে ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে বাংলাদেশ
এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের সেমি-ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হেরে সোনার পদকের লড়াইয়ে পৌঁছতে পারল না বাংলাদেশ।
জয়ের জন্য শেষ চার ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৩৬। বাংলাদেশ অধিনায়ক বল তুলে দিলেন দলের সবচেয়ে ভরসার বোলারের হাতে। কিন্তু মুস্তাফিজুর রহমানের ওই ওভারেই এলো ২৩ রান। ম্যাচ কার্যত শেষ সেখানেই। সোনার পদকের সোনালি আশা মিলিয়ে গেল হাওয়ায়।
এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের সেমি-ফাইনালে ১৩ ওভারের ম্যাচে পেরে উঠল না বাংলাদেশ। ৬ উইকেটের জয়ে সোনার পদকের লড়াইয়ে পৌঁছে গেল পাকিস্তান।
জাপানের আইচির নিশিনে বৃহস্পতিবার ভেজা মাঠের কারণে কমে যায় ম্যাচের দৈর্ঘ্য। ১৩ ওভারে বাংলাদেশ তোলে ৭ উইকেটে ১১১ রান। বিপদে পড়া দলকে উদ্ধার করে লড়ার মতো রান এনে দেন মূলত তাওহিদ হৃদয়। চার ছক্কায় ২৫ বলে ৪২ রান করেন তিনি।
পাকিস্তানের দুই বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত মিনহাস ও সুফিয়ান মকিম উইকেট নেন তিনটি করে।
কোরোগি স্পোর্টস পার্কের উইকেটে টার্ন ও অসম বাউন্স। বাংলাদেশের ওই পুঁজি তাই খারাপ মনে হয়নি। লড়াইয়ে তারা ভালোভাবে ছিলও অনেকটা সময় পর্যন্ত। কিন্তু হাসান নাওয়া ও আব্দুল সামাদের দারুণ জুটিতে পাকিস্তান ম্যাচ শেষ করে দেয় ৯ বল বাকি রেখে।
৩২ বলে ৫৯ রানের ম্যাচ জেতানো অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন দুজন।
মুস্তাফিজের দুই ওভারে রান আসে ৪১, নাসুম আহমেদের তিন ওভারে ৩৩। দুই বোলার মিলে ৫ ওভারে ৭৪ রান দেওয়ার পর ম্যাচে আর থাকে কী!
নিশিনের আকাশে ঝলমলে রোদ ছিল সকাল থেকেই। কিন্তু মাঠের কিছু অংশ ভেজা থাকায় খেলা শুরু হতে পারি সময়মতো। সোয়া এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয় ম্যাচ।
প্রথম ওভারে আহমেদ দানিয়ালের বলে কিপারের মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা পেয়ে যান সাইফ হাসান। পরের ওভারে আরাফাত মিনহাসকে স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা মারেন তানজিদ হাসান।
এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে তুলে মারার চেষ্টায় তানজিদ বিদায় নেন ওই ওভারেই। পরের ওভারে সাইম আইয়ুবের ক্যারম বলে সুইচ হিট খেলার চেষ্টায় বোল্ড হয়ে যান অধিনায়ক লিটন।
উইকেট পতনের ধারা চলতে থাকে পরের ওভারেও। মিনহাসকে স্লগ করে ছক্কার চেষ্টায় আউট হন পারভেজ হোসেন ইমন।
বাংলাদেশের রান তখন ৩ উইকেটে ২১।
প্রথম ৫ ওভারে স্রেফ ২৮ রান তোলা দলের ইনিংস একটু গতি পায় পরের ওভারে। লেগ স্পিনার আবরার আহমেদের ওভারে ছক্কা মারেন সাইফ ও হৃদয়।
তবে সুফিয়ান মকিম আক্রমণে এসেই ভাঙেন এই জুটি। শাফল করে খেলার চেষ্টায় এলবিডব্লিউ হন সাইফ। দুটি ছক্কা একটি চারের পরও ১৭ বল খেলে তার রান ১৯।
মোসাদ্দেক হোসেন ক্রিজে নেমে প্রথম পাঁচ বলে রানই করতে পারেননি। পরে একটি বাউন্ডারি মারলেও আবার চুপসে যান।
দলের মেইয়ে যাওয়া ইনিংসে প্রাণের সঞ্চার করেন হৃদয়। মকিমকে চার ও ছক্কা মারেন টানা দুই বলে। মোহাম্মাদ ওয়াসিমকে মাথার ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন দারুণ শটে। পরপর দুই বলে চার ও ছক্কা মারেন আবরারকেও।
শেষ পর্যন্ত থামেন তিনি শেষের আগের ওভারে। মকিমের ওই ওভার থেকেও আসে ১৩ রান। চার ওভারে বাংলাদেশ তোলে ৫০ রান।
শেষ দিকে শেখ মেহেদি হাসানের দুটি বাউন্ডারিতে ১১০ ছাড়ায় বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের রান তাড়ায় পাওয়ার প্লেতে টক্কর জমে ওঠে যেন সেয়ানে সেয়ানে। প্রথম ওভারে শেষ মেহেদিকে আকাশে তুলে সীমানায় ধরা পড়েন সাহিবজাদা ফারহান।
পরের ওভারে নাসুম আহমেদকে টানা দুই বলে ছক্কা ও চার মারেন মাজ সাদাকাত। তবে দ্রুতই শোধ তোলেন নাসুম। সম্প্রতি সিপিএলের শেষ দিকে দুটি সেঞ্চুরি করা বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান ফেরেন ৭ বলে ১৫ রান করে।
চতুর্থ ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের ওপর চড়াও হন সাইম আইয়ুব। বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ বোলারকে স্বাগত জানান তিনি প্রথম তিন বলে দুই ছক্কা এক চারে। তবে মুস্তাফিজও ঘুরে দাঁড়ান দ্রুতই। তার স্লোয়ারে ওই ওভারেই বিদায় নেন সাইম (১২ বলে ২১)।
একই পথের পথিক উসমান খানও। একটি ছক্কা ও চার মেরে তিনি আউট হন রিশাদ হোসেনের বলে।
বাংলাদেশ তখন ম্যাচে টিকে ছিল প্রবলভাবেই। এমনকি নাসুমের ওভারে নাওয়াজের দুটি ছক্কার পরও টিকে ছিল সম্ভাবনা। কিন্তু মুস্তাফিজের ওই ওভারেই ম্যাচের ফয়সালা হয়ে যায়।
ওভারের প্রথম বলে সিঙ্গল নেন নাওয়াজ। দ্বিতীয় ডেলিভারিটি ছক্কায় উড়িয়ে দেন সামাদ। এরপর টানা চারটি চার!
পরে রিশাদকে চার মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন নাওয়াজ। ২২ বলে ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি, ১৫ বলে ৩০ রানে সামাদ।
এ দিনই দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। জয়ী দল শনিবার ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়বে সোনার পদকের জন্য। একই দিনে হবে হবে ব্রোঞ্জের লড়াই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ১৩ ওভারে ১১১/৭(সাইফ ১৯, তানজিদ ৭, লিটন ২, পারভেজ ১, হৃদয় ৪২, মোসাদ্দেক ১১, রিশাদ , শেখ মেহেদি; দানিয়াল , মিনহাস ৩-০-২৩-২, সাইম ২-০-৩-১, আবরার ২-০-২৯-০, মকিম ৩-০-২৬-৩, ওয়াসিম ১-০-১১-০)।
পাকিস্তান: ১১.৩ ওভারে ১১২/৪ (সাহিবজাদা ১, মাদাকাত ১৫, উসমান ১৪, সাইম ২১, নাওয়াজ ২৭*, সামাদ ৩০*; শেখ মেহেদি ৩-০-১৭-১, নাসুম ৩-০-৩৩-১, মুস্তাফিজ ২-০-৪১-১, রিশাদ ২.৩-০-১২-১, শরিফুল ১-০-৭-০)।
