৪ সেঞ্চুরি ও ১ ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ডময় ম্যাচে ভারতের ইতিহাস গড়া জয়
চারশ ছাড়ানো রানকেও পাত্তা না দিয়ে বিশাল ব্যবধানে জিতে গেল ভারত।
জন ক্যাম্পবেল, শেই হোপ ও আমির জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে চারশ রান করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু তাদের বিশাল এই পুঁজিকে মামুলি বানিয়ে ছাড়লেন রোহিত শার্মা ও শুবমান গিল। সাবেক অধিনায়কের সেঞ্চুরি ও বর্তমান অধিনায়কের ডাবল সেঞ্চুরিতে রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে সিরিজ নিশ্চিত করল ভারত।
গুয়াহাটিতে বুধবার রান উৎসবের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৮ উইকেটে জিতেছে স্বাগতিকরা। ক্যারিবিয়ানদের ৪০৫ রান ৩৯ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় তারা।
ওয়ানডেতে এনিয়ে স্রেফ দ্বিতীয়বার চারশ ছাড়ানো রান তাড়া করে জয়ের নজির দেখা গেল। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ রান তাড়া করে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এই সংস্করণের ইতিহাসে সেটাই সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।
২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয় ছিল ভারতের আগের রেকর্ড।
এনিয়ে নবমবার ৫০ ওভারের ক্রিকেটে চারশর বেশি রান করল ভারত। এটাও রেকর্ড। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আটবার এই কীর্তি গড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
দুই দল মিলিয়ে এই ম্যাচে রান হয়েছে ৮১১। ওয়ানডেতে এর চেয়ে বেশি রান হয়েছে কেবল দুটি ম্যাচে; ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা (৮৭২) ও ২০০৯ সালে ভারত-শ্রীলঙ্কা (৮২৫) লড়াইয়ে।
টানা দুই জয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতে সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলেছে ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এনিয়ে টানা ১৪টি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে তারা। কোনো এক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টানা এত বেশি সিরিজ জয়ের রেকর্ড নেই কোনো দলের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১২টি জিতেছে পাকিস্তান।
শেষ হাসি ভারতের মুখে ফুটলেও ম্যাচের প্রথমভাগ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। পাঁচটি ছক্কা ও নয়টি চারে ৬৮ বলে ১০১ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন ক্যাম্পবেল। পরে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ১০৪ রান করতে তিনটি ছক্কা ও আটটি চার মারেন অধিনায়ক হোপ।
আরেকটি ঝড়ো ইনিংস খেলেন জাঙ্গু। তিনটি ছক্কা ও ১৩টি চারে তার ব্যাট থেকে আসে ৭৭ বলে ১১৪ রান। একটা সময় সাড়ে চারশর সম্ভাবনা জাগানো সফরকারীরা পরে দ্রুত উইকেট হারিয়ে চারশ পেরিয়ে থামে।
আর তাতেই অবশ্য নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে ফেলে ক্যারিবিয়ানরা। এই সংস্করণে তাদের আগের সর্বোচ্চ ছিল ৩৮৯ রান, ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
রান তাড়ায় ৩৫তম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে ১০১ রান করেন রোহিত। তার ৭৫ বলের ইনিংস সাজানো ছয়টি ছক্কা ও ১০টি চারে। সবশেষ তিন ম্যাচে দুইবার তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পেলেন তারকা ওপেনার।
ইনিংস শুরু করতে নেমে দলের জয় সঙ্গে নিয়ে মাঠ ছাড়েন গিল। ১৩৩ বলে আটটি ছক্কা ও ২৬টি চারে ২২৩ রান করেন তিনি। ইনিংসটির পথে গড়েন বেশ কিছু রেকর্ড ও কীর্তি।
ওয়ানডেতে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ডটি এখন গিলের। এদিন ১১৭ বলে দ্বিশতক ছুঁয়ে পেছনে ফেলেন তিনি আরেক ভারতীয় ব্যাটসম্যান ইশান কিষানকে। ২০২২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১২৬ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন কিষান।
এই সংস্করণে রান তাড়ায় দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন গিল। গত বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে চোট নিয়ে অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ে ২০১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তাকে ছাড়িয়ে রান তাড়ায় সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ডটি নিজের করে নিলেন গিল।
এনিয়ে দ্বিতীয়বার ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন তিনি। ২০২৩ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। ওয়ানডে ইতিহাসে একাধিক ডাবল সেঞ্চুরি করা স্রেফ দ্বিতীয় ক্রিকেটার গিল। তিনটি দ্বিশতক করার রেকর্ড ভারতের তারকা ওপেনার রোহিতের।
টেস্টেও ডাবল সেঞ্চুরি আছে গিলের। অধিনায়ক হিসেবে টেস্ট ও ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি করা ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার তিনি।
ম্যাচটিতে তিন অঙ্ক ছোঁয়া ইনিংস এসেছে পাঁচজনের ব্যাট থেকে। ওয়ানডে ইতিহাসে এমন কিছু আগে কখনো দেখা যায়নি। এক ম্যাচে আগের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি ছিল চারটি, যা হয়েছিল তিন দফায়।
ব্যাটিং স্বর্গে পঞ্চম ওভারে ক্যাসি কার্টিকে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই ধাক্কা সামলে ১১০ রানের জুটি গড়ে দলকে পথে রাখেন ক্যাম্পবেল ও হোপ। তাদের এই বন্ধনে সিংহভাগ রানই এসেছে ক্যাম্পবেলের ব্যাট থেকে।
শুরুতে অবশ্য কিছুটা মন্থর ছিলেন ক্যাম্পবেল। প্রথম ২২ বলে ২৩ রান করা ওপেনার ডানা মেলেন সপ্তম ওভারে, এক ছয় ও তিন চারে ২২ রান নিয়ে। পরের ওভারে গুরনুর ব্রারকে ছক্কা মেরে ২৯ বলে স্পর্শ করেন পঞ্চাশ।
পাওয়ার প্লের পর রানের গতি একটু কমলেও অষ্টাদশ ওভারে সিঙ্গেল নিয়ে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন ক্যাম্পবেল, ৬৫ বলে। ওয়ানডে যা তার দ্বিতীয় শতক।
সাড়ে সাত বছর পর ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করে আর এগোতে পারেননি ক্যাম্পবেল। পরের ওভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। আরেক প্রান্তে হোপের রান তখনও ৩২ বলে ২৬।
এরপর রানের গতি কিছুটা বাড়িয়ে ৪৯ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন তিনি। পরের পঞ্চাশ রান করতে তার লাগে ৪১ বল। ক্যারিয়ারের ২০তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি ৯০ বলে স্পর্শ করার কিছুক্ষণ পরই বাজে হোপের বিদায় ঘণ্টা। তাতে ভাঙে জাঙ্গুর সঙ্গে তার ১৮২ রানের জুটি।
ততক্ষণে বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ৯৯ রানে পৌঁছে গেছেন জাঙ্গু। পরের ওভারে সিঙ্গল নিয়ে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কে পা রাখেন তিনি। পরের বলেই রান আউটে কাটা পড়েন শেরফেইন রাদারফোর্ড।
সেঞ্চুরির পর রাভিন্দ্রা জাদেজার বলে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জাঙ্গু। কিমো পল, আলজারি জোসেফও পারেননি শেষ দিকে রানের চাহিদা পূরণ করতে। তবে রোস্টন চেইস ও শামার জোসেফের ব্যাটে চারশ ছাড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান।
বিস্তারিত আসছে…
