০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

২৪২ রান, ১১ ছক্কা এবং এক ইনিংসে হৃদয়ের যত রেকর্ড

সিলেট টেস্টে অপরাজিত ২৪২ রানের বীরোচিত ইনিংসের পথে রেকর্ডের সুনামি বইয়ে দিয়েছেন তাওহিদ হৃদয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Nov 2026, 06:01 PM

Updated : 07 Nov 2026, 06:01 PM

অন্য প্রান্তে একের পর এক ব্যাটসম্যান বিদায় নিলেন, তবে নিজের প্রান্তে অবিচল তাওহিদ হৃদয়। শেষ পর্যন্ত তাকে থামাতেই পারল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি আরও অনেকটা এগিয়ে অপরাজিতই রয়ে গেলেন। গৌরবময় এই পথচলায় তার সঙ্গী হলো অনেক রেকর্ড ও কীর্তি।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেন হৃদয়। ৩৫৯ বলের ইনিংসে ২২ চারের সঙ্গে তার ছক্কা ১১টি। আগের টেস্টে দুবার বাজেভাবে আউট হয়ে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হওয়ার পর এবার হৃদয়ই বাংলাদেশের নায়ক।

চমৎকার ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি করার পথে রেকর্ড বইয়েও ঝড় তুলেছেন ২৬ ছুঁইছুঁই ব্যাটসম্যান।

নতুন চূড়ায়

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংসটি এখন হৃদয়ের এই ২৪২।

২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন মুশফিকুর রহিম। প্রায় ৮ বছর পর তাকে টপকে গেলেন হৃদয়।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ডটি আগে থেকেই হৃদয়ের। গত অগাস্ট-সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে খেলেছিলেন ৩৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস।

প্রথম শতকেই ‘ডাবল’ আনন্দ

ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট ও পঞ্চম ইনিংসে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পেলেন হৃদয়। বাংলাদেশের হয়ে দ্বিশতকের স্বাদ পাওয়া মাত্র চতুর্থ ক্রিকেটার ২৬ ছুঁইছুঁই এই ব্যাটার। তার আগে দুইশছোঁয়া ইনিংস খেলেন মুশফিকুর রহিম (৩), তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান।

তবে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়া বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হৃদয়। এত দিন প্রথম সেঞ্চুরিতে সর্বোচ্চ ছিল মুমিনুল হকের। ২০১৩ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি খেলেন ১৮১ রানের ইনিংস।

সব মিলিয়ে টেস্ট ইতিহাসে প্রথম সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়া ৪৫তম ব্যাটসম্যান তিনি। এর মধ্যে প্রথম সেঞ্চুরিতে তার চেয়ে বেশি রান করতে পেরেছেন শুধু ১১ জন।

উইন্ডিজের বিপক্ষেও সেরা

বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন হৃদয়।

২০১৮ সালে মিরপুর টেস্টে মাহমুদউল্লাহর করা ১৩৬ রান ছিল এতদিন ক্যারিবিয়দের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ।

ছক্কার রাজা

হৃদয়ের ইনিংসজুড়ে ছিল রক্ষণ আর আক্রমণে দারুণ মিশেল। নিজের শক্তির জায়গায় বল পেলেই ছক্কায় উড়িয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১১টি ছক্কা।

বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে এটিই সবচেয়ে বেশি ছয়ের রেকর্ড।

২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনায় ২০৬ রানের ইনিংস খেলার পথে তামিম ইকবাল মেরেছিলেন সাতটি ছক্কা। ওই ইনিংসে ১৮০ পেরোনোর পর তিনটি ছক্কা মেরে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাবেক অধিনায়ক ও এখনকার বোর্ড প্রধান।

ছক্কায় একটু আক্ষেপ

দেশের রেকর্ড ছাড়িয়ে ছক্কার বিশ্বরেকর্ডও নাগালে পেয়ে গিয়েছিলেন হৃদয়। কিন্তু হলো না। অন্য প্রান্তে আউট হয়ে গেলেন তাসকিন আহমেদ, দলের ইনিংস শেষ হয়ে গেল সেখানেই। হৃদয়ের ছক্কা তখন ১১টি।

আর একটি ছক্কা মারতে পারলেই স্পর্শ করতে পারতেনওয়াসিম আকরাম ও ইয়াশাসভি জয়সওয়ালের বিশ্বরেকর্ড।

ইনিংসে ১১টি করে ছক্কা আছে হৃদয়সহ সাতজনের।

এক দিনে সর্বোচ্চ

২৯ রানে দিনের খেলা শুরু করে ২১৩ রান যোগ করেছেন তাওহিদ হৃদয়। বাংলাদেশের হয়ে এক দিনের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এটি।

২০১৭ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ২১৭ রানের ইনিংস খেলার পথে এক দিনে ২১২ রান করেছিলেন সাকিব আল হাসান।

একার লড়াই

বাংলাদেশের ৩৮৬ রানের মধ্যে একাই ৬২.৬৯ শতাংশ রান করেছেন হৃদয়। টেস্ট ইতিহাসে ডাবল সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দলের ইনিংসে সর্বোচ্চ অবদানের রেকর্ড এটি।

১৯৬৯ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৫৮ রানের ইনিংস খেলার পথে দলের মোট সংগ্রহের (৪১৭) ৬১.৮৪ শতাংশ রান করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিমুর নার্স।

এছাড়া সব মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ ইনিংসে দলের স্কোরে হৃদয়ের চেয়ে বেশি অবদান রাখার নজির আছে স্রেফ সাতটি।

বাউন্ডারির জোয়ার

৩৫৯ বলের ম্যারাথন ইনিংসটি ২২ চারের পাশাপাশি ১১ ছক্কায় সাজিয়েছেন হৃদয়। সব মিলিয়ে বাউন্ডারি থেকে এসেছে ১৫৪ রান।

বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এটি।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ২১৭ রানের ইনিংসে ৩১ চারে ১২৪ রান বাউন্ডারি মেরে করেছিলেন সাকিব আল হাসান।

সিলেটের মাঠে সর্বোচ্চ

২০১৮ সালে টেস্ট অভিষেকের পর সিলেটের মাঠটিতে ছিল না কোনো ডাবল সেঞ্চুরি। সেই অপেক্ষাও শেষ করলেন হৃদয়।

এই মাঠে আগের ছয় টেস্টে সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল মাহমুদুল হাসান জয়ের। গত বছর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি খেলেন ১৭১ রানের ইনিংস।

জুটির কীর্তি (১)

১৮৪ সপ্তম উইকেট হারানোর পর তাইজুল ইসলামকে নিয়ে ১১৭ রানের জুটি গড়েন হৃদয়। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অষ্টম উইকেটে এটিই প্রথম শতরানের জুটি।

এই মাঠে অষ্টম উইকেটে এতদিন সর্বোচ্চ জুটি ছিল কামিন্দু মেন্ডিস ও প্রাভাত জায়াসুরিয়ার। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৬৭ রানের জুটি গড়েছিলেন তারা ।

জুটির কীর্তি (২)

অষ্টম উইকেটে বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি গড়েছেন হৃদয় ও তাইজুল। এখনও শীর্ষে রয়ে গেছে ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজের ১৪৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি।

এর বাইরে অষ্টম উইকেটে বাংলাদেশের শতরানের জুটি আছে আর একটি। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১১৩ রান যোগ করেন মুশফিক ও নাঈম ইসলাম।

জুটির কীর্তি (৩)

তাইজুল ইসলামের বিদায়ের পর তাসকিন আহমেদকে নিয়ে আরও ৮৫ রান যোগ করেন হৃদয়। সিলেটে নবম উইকেটে এটিই সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড।

গত মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে নবম উইকেটে ৬৪ রানের জুটি গড়েছিলেন লিটন কুমার দাস ও শরিফুল ইসলাম।

জুটির কীর্তি (৪)

১৮৪ রানে সপ্তম উইকেট পতনের পর নিজেদের স্কোরে আরও ২০২ রান যোগ করেছে বাংলাদেশ। শেষ তিন উইকেটে এটিই তাদের সর্বোচ্চ।

২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ তিন উইকেটে ১৯৮ রান করেছিল বাংলাদেশ।