০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

তাইবুরের ডাবল সেঞ্চুরি, প্রিতম-ইরফানের শতক, ফের নাসুমের ৫ উইকেট

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকেই সেঞ্চুরি পেলেন ইরফান সাবরি তাকরির।

তাইবুরের ডাবল সেঞ্চুরি, প্রিতম-ইরফানের শতক, ফের নাসুমের ৫ উইকেট

(বাঁ থেকে) ডাবল সেঞ্চুরিয়ান তাইবুর রহমান, সেঞ্চুরিয়ান ইরফান সাবরি ও অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ছবি: বিসিবি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Nov 2026, 07:42 PM

Updated : 08 Nov 2026, 07:42 PM

আগের দিনের সেঞ্চুরিকে চমৎকার ব্যাটিংয়ে ডাবল সেঞ্চুরিতে পরিণত করলেন ঢাকার তাইবুর রহমান। তার দারুণ দিনে শতকের দেখা পেলেন রাজশাহীর প্রিতম কুমার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকেই তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পেলেন চট্টগ্রামের ইরফান সাবরি তাকরির।

জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) রোববার বল হাতে আলো ছড়ান নাসুম আহমেদ ও আবু জায়েদ রাহী। দুজনই পান ৫ উইকেটের স্বাদ।

তাইবুরের ডাবল সেঞ্চুরি

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দীর্ঘ ৯ বছর পর ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তাইবুর। রাজশাহীতে তার ব্যাটেই ৫১৩ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে ঢাকা। জবাবে খুলনার সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৩২ রান।

১২৮ রান নিয়ে নতুন দিন শুরু করা তাইবুর এদিন দেখেশুনে খেলে এগিয়ে যান ডাবল সেঞ্চুরির দিকে। দিনের শুরুতে আমিনুল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ফিরে গেলে তাকে দারুণ সঙ্গ দেন সুমন খান।

অষ্টম উইকেটে সুমনকে নিয়ে ৯১ রানের জুটি গড়েন তাইবুর। এর মাঝেই ৩৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। এর আগে ২০১৭ সালে ক্যারিয়ার সেরা ২৪২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

দ্বিশতক ছুঁয়ে বেশিক্ষণ টেকেননি তাইবুর। তিনটি ছক্কা ও ২২টি চারে ২১১ রান করে তিনি আউট হলে ইনিংস ঘোষণা করে দেয় ঢাকা।

বড় সংগ্রহের জবাবে খুলনার শুরুটা তেমন ভালো ছিল না। অল্পেই ফিরে যান সৌম্য সরকার। তবে হাল ধরেন আজিজুল হাকিম ও কালাম সিদ্দিকি। ফিফটির খুব কাছে গিয়ে আউট হন কালাম। দিন শেষে ৪৯ রানে অপরাজিত আজিজুল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)

ঢাকা ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৩৬৮/৫) ১৩৬.১ ওভারে ৫১৩/৯ডি. (তাইবুর ২১১, আমিনুল ৬৪, মাহফুজুর ৭, সুমন ৪৪, এনামুল ১*; সফর ১৯-২-৬৬-২, হালিম ২০-১-৮১-০, সৌম্য ৭-১-৩২-০, রাকিব ১৯.১-১-৮৭-২, পারভেজ ৪৩-২-১৪৫-৪, আজিজুল ১৯-১-৭৬-১), জিয়াউর ৯-৩-১৯-০)

খুলনার ১ম ইনিংস: ৩৭.২ ওভারে ১৩২/২ (আজিজুল ৪৯*, সৌম্য ৭, কালাম ৪৭, মিঠুন ২৪*; সুমন ৭-২-২০-০, তৌফিক ৯-১-২৫-০, ফয়সাল ১-০-১-০, এনামুল ৫-১-২৩-১, আনিসুল ২-০-১০-০, আমিনুল ৮.২-০-৩২-০, মাহফুজুর ৫-১-১৮-১)

নাসুমের ৫ উইকেট, প্রিতমের সেঞ্চুরি

বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে নাসুমের স্পিনে কুপোকাত রাজশাহী। দলের বাকিদের ব্যর্থতার মাঝে একাই লড়াই করেন প্রিতম। তিনি সেঞ্চুরি পেলেও কেবল ১৯২ রান করতে পারে রাজশাহী।

প্রথম ইনিংসে ১৪৪ রানের লিড পাওয়ার পর দ্বিতীয় দিন শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬৩ রান করেছে সিলেট।

দ্বিতীয় দিন সকালে মাত্র ৭ রান করতেই বাকি ২ উইকেট হারায় সিলেট। এরপর নাসুমের ঘূর্ণি পরীক্ষায় পড়ে রাজশাহী।

চার নম্বরে নেমে অধিনায়ক প্রিতম একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকেন। তবে অন্য পাশ থেকে তিনি পাননি কোনো সহায়তা।

প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ সেঞ্চুরি করে ৯ চার ও ৫ ছক্কায় ১১৪ বলে প্রিতম করেন ১০৫ রান। এছাড়া হাবিবুর রহমানের ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান।

চমৎকার বোলিংয়ে ৪৩ রান খরচায় ৫ উইকেট নেন নাসুম। চলতি লিগে এটি তার তৃতীয় ৫ উইকেট। আর প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে সব মিলিয়ে ১৪তম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)

সিলেট ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৩২৯/৮) ৮৫ ওভারে ৩৩৬ (নাসুম ২৭, আবু জায়েদ ৪*, মহিউদ্দিন ০; মোহর ১৪-০-৬৪-২, আলি ১২-০-৬৯-০, পায়েল ১৯-৪-৫০-৩, সানজামুল ২-০-২১-০, নিহাদ ২১-১-৫৭-৩, মেহেরব ১৬-১-৬৬-২, রহিম ১-০-৩-০)

রাজশাহী ১ম ইনিংস: ৪৩.২ ওভারে ১৯২ (হাবিবুর ৩৬, সাব্বির ১৫, নাঈম ১, প্রিতম ১০৫, রহিম ২, মেহেরব ১০, সানজামুল ১৩, নিহাদ ০, আলি ১, মোহর ১*, পায়েল ০; আবু জায়েদ ১৩-০-৬০-২, তোফায়েল ৭-১-৫৯-০, নাসুম ১৬.২-৫-৪৩-৫, মহিউদ্দিন ৬-০-১৬-১, নাঈম ১-০-৯-০)

সিলেট ২য় ইনিংস: ২২ ওভারে ৬৩/০ (মাজহারুল ৩৭*, মুবিন ২৬*; মোহর ৫-২-১৬-০, পায়েল ১-০-১-০, আলি ৬-০-২১-০, নিহাদ ৫-২-১৭-০, মেহেরব ৫-০-৮-০)

ইরফানের সেঞ্চুরি, সাদিকুরের আক্ষেপ

খুলনায় রংপুরের বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরান চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যানরা। অল্পের জন্য সেঞ্চুরি করতে পারেননি বাঁহাতি ওপেনার সাদিকুর রহমান। তবে কোনো ভুল করেননি অভিষিক্ত ইরফান।

রংপুরের ১৬৬ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে চট্টগ্রামের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৩০৪ রান। ১৩৮ রানে এগিয়ে আছে তারা।

আগের দিনের অবিচ্ছিন্ন উদ্বোধনী জুটি বেশিদূর নিতে পারেননি সাদিকুর ও সাদ্দাম। দ্বিতীয় উইকেটে ইরফানকে নিয়ে ১২৩ রান যোগ করেন সাদিকুর। তিনি জাগিয়ে তোলেন এবারের লিগে নিজের চতুর্থ সেঞ্চুরির সম্ভাবনা।

তবে ইকবাল হোসেনের বলে ক্রিজ ছেড়ে খেলতে গিয়ে ৯০ রানে স্টাম্পড হয়ে যান ৩৪ ছুঁইছুঁই বাঁহাতি ওপেনার।

জাতীয় লিগের দ্বিতীয় একাদশের লড়াইয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে চট্টগ্রামের প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়া ইরফান কোনো ভুল করেননি। সাবলীল ব্যাটিংয়ে কাঙ্ক্ষিত মাইলফলক স্পর্শ করেন তরুণ ব্যাটসম্যান।

সেঞ্চুরির পর অবশ্য আর টিকতে পারেননি। ১৩ চার ও ১ ছক্কায় ১০৪ রান করে কট বিহাইন্ড হয়ে ফেরেন তিনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)

রংপুর ১ম ইনিংস: ১৬৬

চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৫৯/০) ৯৭ ওভারে ৩০৪/৫ (সাদিকুর ৯০, সাদ্দাম ৩৮, ইরফান ১০৪, তাসামুল ১১ আহত অবসর, ওমর ২২, সাব্বির ৭*, শামিম ৬, মুরাদ ৪*; মেহেদি ১৯-৩-৬৫-৩, আলাউদ্দিন ৬-০-৩৯-০, শাহরিয়া ১৬-২-৩৮-০, মামুন ৯-৩-২৬-০, হাশিম ৩১-১৩-৫৩-১, ইকবাল ১৫-১-৬৫-১, নবীন ১-০-৪-০)

আবু হায়দারের ৫ উইকেট, ফলো-অনের মুখে বরিশাল

চট্টগ্রামের মাঠে বরিশালের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান আবু হায়দার। ময়মনসিংহের অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসারের তোপে ফলো-অনে পড়ার শঙ্কায় বরিশাল।

৬ উইকেটে ২৪৭ রান নিয়ে খেলা শুরু করে দ্বিতীয় দিন ১৩৯ রান যোগ করে ময়মনসিংহ। তাদের ৩৮৬ রানের জবাবে দিন শেষে বরিশালের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৩৬ রান। ফলো-অন এড়াতে করতে হবে আরও ১০১ রান।

ময়মনসিংহের হয়ে ৯ নম্বরে নেমে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৬৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন মোসাব্বেক হোসেন। জাতীয় দলের ক্রিকেটার মোসাদ্দেক হোসেনের ছোট ভাইয়ের এটিই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক ম্যাচ।

এছাড়া উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান ফাহিমের ব্যাট থেকে আসে ৫৯ রান।

পরে বরিশালের ইনিংসের প্রথম দুই বলে জাওয়াদ আবরার ও রাফসান আল মাহমুদকে ফিরিয়ে দেন আবু হায়দার। চাপ সামলে এক প্রান্ত আগলে রাখেন ফজলে মাহমুদ। তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিতই উইকেট হারায় বরিশাল।

দিনের শেষ ওভারে ফজলে মাহমুদকে আউট করে নিজের সপ্তম ৫ উইকেট পূর্ণ করেন আবু হায়দার। ১২৮ বলে ৮০ রান করেন ফজলে মাহমুদ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)

ময়মনসিংহ ১ম ইনিংস: (আগের দিন ২৪৭/৬) ১১৬.২ ওভারে ৩৮৬ (ফাহিম ৫৯, আবু হায়দার ১০, মোসাব্বেক ৬৯*, আজিজুল ২০, ইয়াসিন ৩; কামরুল ২০-০-৯২-১, তানভির ৪২.৪-৭-৯৯-৩, রুয়েল ২৩.২-১-৮১-৩, মইন ১৯-২-৬৮-২, মইনুল ৮.২-০-৩৫-০, জাওয়াদ ৩-১-৬-১)

বরিশাল ১ম ইনিংস: ৪৪.৫ ওভারে ১৩৬/৮ (জাওয়াদ ০, মইনুল ৫, রাফসান ০, ফজলে মাহমুদ ৮০, হাফিজুর ১, আবদুল্লাহ ৩৩, মানিক ১২, মইন ৪, কামরুল ০*, তানভির ০*; আবু হায়দার ৮.৫-১-৩৫-৫, ইয়াসিন ৬-১-১৫-০, শুভাগত ১১-৪-৩৭-১, মোসাদ্দেক ৮-১-২৬-১, আজিজুল ৯-০-২২-১, রনি ২-২-০-০)