অমিতের দ্বিতীয় ডাবল, ১২ ছক্কায় শাহ পরানের ১৬৩*
ব্যাটসম্যানদের দাপটের দিনে অমিত হাসানের দ্বিশতক ও শাহ পরানের ছক্কাবৃষ্টির দিনে তিন অঙ্কের দেখা পেয়েছেন মিম মোসাদ্দেক আর নবীন ইসলামও।
জয়ের পথে বেশিরভাগ কাজ আগেরদিন সেরে রেখেছিল ঢাকা বিভাগ। শেষ দিন অপেক্ষা ছিল ৫ উইকেটের। তা নিতে বেশি সময় নষ্ট করেনি তারা। দ্রুতই রাজশাহীকে গুটিয়ে দিয়ে মৌসুমের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে পাঁচ মৌসুম আগে সবশেষ শিরোপা জেতা দলটি।
জাতীয় ক্রিকেট লিগে ব্যাটসম্যানদের দাপটে চতুর্থ রাউন্ডে ফল হয়নি বাকি তিন ম্যাচে। শেষ দিন ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন অমিত হাসান। চট্টগ্রামের হয়ে সাত নম্বরে নেমে এক ডজন ছক্কায় ১৬৬ বলে ১৬৩ রানের ইনিংসে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি স্মরণীয় করে রেখেছেন শাহ পরান। এছাড়া তিন অঙ্কের স্বাদ পেয়েছেন মিম মোসাদ্দেক ও নবীন ইসলাম।
প্রথম জয়ে দুইয়ে ঢাকা
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে রাজশাহীকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে বোনাস পয়েন্টও নিশ্চিত করেছে ঢাকা। আগের তিন ম্যাচ ড্র করা দলের এটি প্রথম জয়। সব মিলিয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে উঠে গেছে তারা।
সমান ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে রাজশাহী।
ম্যাচ বাঁচানোর কঠিন অভিযানে দিনের শুরুতেই ড্রেসিং রুমে ফিরে যান সাব্বির রহমান। আগের দিনের ৬৪ রানের সঙ্গে কিছুই যোগ করতে পারেননি অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
এসএম মেহেরব হাসান ৩৩ ও সানজামুল ইসলাম ২৭ রানের ইনিংসে ঢাকার পরাজয় কিছুটা পেছানো ছাড়া বেশি কিছু করতে পারেননি।
একমাত্র ইনিংসে ২৮২ রান করে ম্যাচের সেরা মোহাম্মদ নাঈম শেখ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ঢাকা ১ম ইনিংস: ৫২১
রাজশাহী ১ম ইনিংস: ১৬২
রাজশাহী ২য় ইনিংস: (ফলো-অন) (আগের দিন ২১৫/৫) ৭০.৪ ওভারে ২৫৬ (সাব্বির রহমান ৬৪, মেহেরব ৩৩, সানজামুল ২৭, ওয়াসি ০, শফিকুল ০, পায়েল ০*; সুমন ১০.৪-২-৪১-২, রিপন ১২-০-৬২-২, তাইবুর ১৭-৮-৩৮-১, আমিনুল ১৫-১-৫৩-১, এনামুল ১৪-২-৪৮-৩, আনিসুল ২-১-৮-১)
ফল: ঢাকা ইনিংস ও ১০৩ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: মোহাম্মদ নাঈম শেখ
অমিতের দ্বিতীয় ডাবল
কক্সবাজারে প্রথম তিন দিনে সব মিলিয়ে মাত্র ৪ উইকেট পড়ার পরই ম্যাচের ফল নিশ্চিত হয়ে যায় ড্র। শেষ দিন অপেক্ষা ছিল অমিত হাসানের ডাবল সেঞ্চুরির।
সেটি পূরণ করতে বেশি সময় নেননি উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। রাকিব হাওলাদারের বলে বাউন্ডারি মেরে চলতি লিগে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিকে দ্বিশতকে রূপ দেন সম্প্রতি জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া অমিত।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি অমিতের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। ১৬ চার ও ২ ছক্কায় ৩৩৫ বলে ২০১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
অমিতের মাইলফলক পূর্ণ হতেই ৬ উইকেটে ৬৩২ রানে ইনিংস ঘোষণা করে সিলেট।
দিনের বাকি অংশে তেমন সুবিধা করতে খুলনা। তাতে অবশ্য ম্যাচের ফলে কোনো প্রভাব পড়েনি। চলতি লিগে দ্বিতীয় ফিফটিতে ৬১ রান করেন মোহাম্মদ মিঠুন। তৃতীয় ফিফটি করা আফিফ হোসেন ঠিক ৫০ রানেই আউট হন।
চার ম্যাচে দুই জয় ও দুই ড্রয়ে ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই রইল খুলনা। সমান ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তিনে সিলেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
সিলেট ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৫৭৫/৪) ১৮০ ওভারে ৬৩২/৬ডি. (অমিত ২০১*, আশরাফুল ১১৪, তোফায়েল ১২, নাসুম ২*; মেহেদি ১৯-২-৭১-১, জিয়াউর ৭-২-২৬-০, সৌম্য ১০-১-৪৪-১, নাহিদুল ৩০-৪-৯৯-০, রাকিব ৪৩-৩-১৬৬-২, তানভির ৫৭-৫-১৬০-২, আফিফ ৭-২-৩৮-০, আজিজুল ৭-০-২১-০)
খুলনা ১ম ইনিংস: ৬১ ওভারে ১৯৯/৭ (এনামুল ১৮, আজিজুল ১৬, সৌম্য ১২, মিঠুন ৬১, আফিফ ৫০, সোহান ৫, জিয়াউর ২৬, নাহিদুল ৮*, তানভির ০*; আবু জায়েদ ৭-২-১২-০, ইকবাল ৫-০-২৩-, নাসুম ২৫-২-৭৮-৩, নাঈম ২-০-৪-০, তোফায়েল ৫-২-৮-০, গালিব ১৪-২-৫৫-২, অমিত ২-০-৯-০, মুবিন ১-০-৮-১)
ফল: ম্যাচ ড্র
ম্যান অব দা ম্যাচ: অমিত হাসান
মিম-নবীনের সেঞ্চুরি
সিলেটের একাডেমি মাঠে রংপুর-বরিশাল ম্যাচে আগের দিনগুলির মতো শেষ দিনেও ছড়ি ঘোরান ব্যাটসম্যানরা। এ দিন ড্রয়ের জন্য হাত মেলানোর আগে ৭৫.৩ ওভারে ২৮৩ রান যোগ করে রংপুর।
দ্বিতীয় রাউন্ডে চমৎকার সেঞ্চুরি করা মিম মোসাদ্দেক আবারও পান শতরানের দেখা। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে এবার তিনি খেলেন ১২ চার ও ১ ছক্কায় ১২১ রানের ইনিংস।
মিডল-অর্ডারে নেমে নবীন ইসলামও পান সেঞ্চুরির স্বাদ। তার ব্যাট থেকে আসে ১৪ চার ও ১ ছক্কায় ১০৪ রান।
চার ম্যাচে রংপুরের এটি তৃতীয় ড্র। অন্য ম্যাচটি হেরে সব মিলিয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সাত নম্বরে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। আগের তিন ম্যাচ হেরে এবারই প্রথম পয়েন্ট পেল বরিশাল। তবু সবার নিচেই তাদের অবস্থান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
রংপুর ১ম ইনিংস: ৪০২
বরিশাল ১ম ইনিংস: ৪৪৩/৯ ডি.
রংপুর ২য় ইনিংস: (আগের দিন ৫/০) ৭৮ ওভারে ২৮৮/৫ (অনিক ৬, মিম ১২১, ইকবাল ২২, মামুন ৮, নবীন ১০৪, জাভেদ ১১*, শাহরিয়া ৫*; কামরুল ১৫-০-৭৩-২, রুয়েল ১১-৩-২৬-০, মইন ১২-১-৩১-২, ইফতেখার ৭-১-২৯-০, মইনুল ১৯-১-৬১-০, ইসলামুল ১২-০-৫৭-০, জাওয়াদ ২-১-৩-১)
ফল: ম্যাচ ড্র
ম্যান অব দা ম্যাচ: মিম মোসাদ্দেক
রোমাঞ্চ ছড়িয়ে ড্র ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম লড়াই
বগুড়ায় নাটকীয়তার আভাস ছিল ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম ম্যাচে। তবে শেষ পর্যন্ত নিষ্ফলা শেষ হয় ম্যাচ। শাহ পরানের প্রথম সেঞ্চুরিতে ১৩৪ রানের লিড নেয় চট্টগ্রাম। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬১ রান করতে ৫ উইকেট হারায় ময়মনসিংহ।
শেষ দিন লম্বা সময় ব্যাটিং করে চট্টগ্রামই। সাত নম্বরে নেমে পাল্টটা আক্রমণে দারুণ সেঞ্চুরি করেন পরান। ১১ চারের সঙ্গে ১২টি ছক্কা মেরে মাত্র ১৬৬ বলে ১৬৩ রানে অপরাজিত থাকেন ২৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
সঙ্গীর অভাবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ১৬ ছক্কার রেকর্ড বা ডাবল সেঞ্চুরি ছোঁয়া হয়নি পরানের।
দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে খুব পরিচিত নাম তিনি নন। গত মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকে খেলেছিলেন ৯১ রানের ইনিংস। গত মৌসুমে দুটি ম্যাচ খেলতে পেরেছিলেন তিনি। কিছুদিন আগে সিসিডিএম টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ কাপে সেঞ্চুরি করেছিলেন। ক্যারিয়ারের তৃতীয় প্রথম শ্রেণির ম্যাচে যে ইনিংসটি তিনি খেললেন, এবার তাকে আলাদা করে চিনতেই হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ময়মনসিংহ ১ম ইনিংস: ৪৬৫/৭ ডি.
চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৪২৪/৬) ১৬৫.৩ ওভারে ৫৯৯ (শাহ পরান ১৬৩*, মুরাদ ২২, শরিফ ০, সঞ্জিত ০, ইফরান ৫; আবু হায়দার ১২-২-৫৪-০, গালিব ২২-৪-৬৭-০, ইয়াসিন ২২-২-৬৬-৩, রকিবুল ৬১.৩-১০-১৮৮-৪, রিজান ১১-২-৪০-১, শুভাগত ৩৩-৪-১৪৬-২, আল আমিন ১-০-৭-০, মাহফিজুল ৩-০-১৬-০)
ময়মনসিংহ ২য় ইনিংস: ৩০ ওভারে ৬১/৫ (মাহফিজুল ০, খালিদ ৯, মুনিম ৪, মজিদ ১৯*, আল আমিন ৪, রিজান ১৫, শুভাগত ০*; ইফরান ৭-২-১৬-১, সঞ্জিত ৭-১-২০-২, শরিফ ৪-১-১০-১, মুরাদ ৭-৪-৪-০, জয় ৫-১-৪-১)
ফল: ম্যাচ ড্র
ম্যান অব দা ম্যাচ: মাহফিজুল ইসলাম
