০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

শেষ দিনে সাদিকুরের সেঞ্চুরি, শিবলি ৯৯, আবদুল্লাহ ৯৪

চমৎকার সেঞ্চুরিতে দলকে জেতালেন সাদিকুর রহমান, সম্ভাবনা জাগিয়েও তিন অঙ্ক ছুঁতে পারলেন না দুই তরুণ ব্যাটসম্যান আশিকুর রহমান শিবলি ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Nov 2026, 06:00 PM

Updated : 03 Nov 2026, 06:00 PM

লক্ষ্যটা ছিল নাগালে। তবে হঠাৎ ধসে শঙ্কায় পড়ে গেল চট্টগ্রামের জয়। একপ্রান্ত আগলে রেখে অনেক দূর এগিয়ে দিলেন সাদিকুর রহমান। নিজে পেলেন শতরানের উষ্ণ ছোঁয়া। নাটকীয়তার পর শেষ উইকেটের দৃঢ়তায় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ল চট্টগ্রাম।

জাতীয় ক্রিকেট লিগের পঞ্চম রাউন্ডে চট্টগ্রামের মতোই রান তাড়া করে জয়ের স্বাদ পেয়েছে খুলনা ও রংপুর। ড্র হওয়া ম্যাচে একই বেদনায় পুড়েছেন আশিকুর রহমান শিবলি ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। স্রেফ এক রানের জন্য সেঞ্চুরি ননি শিবলি, আব্দুল্লাহর আক্ষেপ ছয় রানের।

সাদিকুরের সেঞ্চুরি, চট্টগ্রামের রোমাঞ্চকর জয়

জয়ের জন্য যখন প্রয়োজন ৪০ রান, বাকি তখনও ৭ উইকেট। অনায়াস জয়ের পথেই ছিল চট্টগ্রাম। সেখান থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়াল সিলেট। পরের ২৩ রানের মধ্যে তারা নিল ৬টি উইকেট। তবে ভাঙতে পারল না শেষ জুটি। নাটকীয় জয় পেল চট্টগ্রাম।

চলতি লিগে চট্টগ্রামের এটি দ্বিতীয় জয়। এর সঙ্গে একটি ড্র করে মোট ২৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে তারা। সমান ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে চারে সিলেট।

এবারের লিগে তৃতীয় সেঞ্চুরি করে চট্টগ্রামের জয়ের নায়ক সাদিকুর। সব মিলিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ষষ্ঠ সেঞ্চুরিতে ঠিক ১০০ রান করে আউট হন ৩৪ ছুঁইছুঁই বাঁহাতি ওপেনার।

ম্যাচের শেষ দিন ৯ উইকেট বাকি রেখে চট্টগ্রামের প্রয়োজন ছিল ১০১ রান। দিনের শুরুতেই ফিরে যান শাহ পরান ও শাহাদাত হোসেন। চাপ সামলে দলকে জয়ের পথেই রাখেন সাদিকুর রহমান ও ইয়াসির আলি চৌধুরি।

৫ চার ও ১ ছক্কায় ২৩ বলে ৩০ রান করা ইয়াসিরকে এলবিডব্লিউ করেন নাসুম আহমেদ। সেখান থেকে ধসের শুরু। ইরফার শুক্কুর, হাসান মুরাদ, আবুল হাসনাত ও মোহাম্মদ রুবেল ফিরে যান দ্রুতই।

তখনও ভরসা হয়ে একপ্রান্তে ছিলেন সাদিকুর। কিন্তু সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পরপরই নাসুমের বলে আলগা শটে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন তিনি। তখনও জয়ের জন্য চট্টগ্রামের প্রয়োজন ১৭ রান।

শেষ উইকেট জুটিতে চ্যালেঞ্জিং পথটা পাড়ি দেন আশরাফুল হাসান ও সঞ্জিত মজুমদার। মহাগুরুত্বপূর্ণ ১৫ রানের ইনিংস খেলে বড় অবদান রাখেন আশরাফুল।

প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেটের পর দ্বিতীয়বার নাসুমের শিকার ৪ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

সিলেট ১ম ইনিংস: ২১৮

চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস: ২১০

সিলেট ২য় ইনিংস: ২১৮

চট্টগ্রাম ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২২৭) (আগের দিন ১২৬/১) ৭১ ওভারে ২২৯/৯ (সাদিকুর ১০০, পরান ৫১, শাহাদাত ৫, ইয়াসির ৩০, ইরফান ২, মুরাদ ১, হাসনাত ৩, রুবেল ০, আশরাফুল ১৫*, সঞ্জিত ৪*; খালেদ ৯-৩-১৩-০, নাসুম ২৬-৩--৭৬-৪, তোফায়েল ৯-১-৩৬-২, শাহানুর ২০-১-৭৬-৩, ইকবাল ৫-১-১৭-০, গালিব ২-০-১০-০)

ফল: চট্টগ্রাম বিভাগ ১ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: সাদিকুর রহমান

শিরোপার খুব কাছে খুলনা

প্রথম ইনিংসেই ময়মনসিংহকে অল্পে গুটিয়ে জয়ের পথে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিল খুলনা। শেষ দিন সেটির পূর্ণতা দিয়ে শিরোপা সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছে জাতীয় লিগের রেকর্ড সাতবারের চ্যাম্পিয়নরা।

খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে স্থানীয় দলটির জয় ৮ উইকেটে। শেষ দিন ১৪০ রানের লক্ষ্য ছুঁতে কোনো সমস্যা হয়নি তাদের।

এক উইকেট বাকি রেখে শেষ দিন খেলতে নামে ময়মনসিংহ। তিন বলের মধ্যে শেষ হয়ে যায় তাদের ইনিংস।

পরে রান তাড়ায় খুলনার পক্ষে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন এনামুল হক। এবারের লিগে এটি তার দ্বিতীয় ফিফটি। এখনও তিন অঙ্কের দেখা পাননি ৩৪ ছুঁইছুঁই ব্যাটসম্যান।

পাঁচ ম্যাচে তিন জয় ও দুই ড্রয়ে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান আরেকটু পোক্ত করেছে খুলনা। আগের চার ম্যাচ ড্র করা ময়মনসিংহ এবার পেল প্রথম পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে আট দলের মধ্যে সপ্তম তারা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

খুলনা ১ম ইনিংস: ২৮০

ময়মনসিংহ ১ম ইনিংস: ১০৮

ময়মনসিংহ ২য় ইনিংস: (ফলো অনের পর) (আগের দিন ৩১৫/৯) ৯১.৩ ওভারে ৩১৯ (ইয়াসিন ১৫, গালিব ১*; সফর ১৩.৩-১-৫৩-২, সৌম্য ১৫-১-৪৩-৩, মেহেদি ১৪-১-৫৯-০, পারভেজ ২৩-১-৮৪-৪, তানভির ২২-৩-৬৩-১, আফিফ ৪-০-৯-০)

খুলনা ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ১৪০) ৩৮.৩ ওভারে ১৪০/২ (আজিজুল ৩৭, এনামুল ৮০*, সৌম্য ২, পারভেজ ২০*; ইয়াসিন ৫-০-৩৪-০, গালিব ০.৩-০-০-০, রিজান ৪.৩-০-১৮-০, মোসাদ্দেক ৬-০-১৭-০, রকিবুল ১২-২-৪১-০, শুভাগত ১০-২-২৬-১, মাহফিজুল ০.৩-০-৩-০)

ফল: খুলনা ৮ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: মোহাম্মদ মিঠুন

রংপুরের প্রথম জয়

পঞ্চম রাউন্ডে এসে প্রথম জয়ের দেখা পেল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে রাজশাহীকে তারা হারাল ৬ উইকেট।

ম্যাচের শেষ দিন সম্ভাবনা ছিল সম্ভাব্য সব ফলের। ৭৪ রানের মধ্যে রাজশাহীর বাকি ৭ উইকেট নিয়ে লক্ষ্য বড় হতে দেয়নি রংপুর। পরে ওয়ানডে ঘরানার ব্যাটিংয়ে সহজেই জিতে নেয় ম্যাচ।

দিনের শুরুতে কোনো রান যোগ করতে পারেননি রাজশাহীর দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান প্রিতম কুমার ও শাকির হোসেন শুভ্র। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা এসএম মেহেরব হাসানও ফেরেন দ্রুত।

পরে ওয়াসি সিদ্দিকি ও নিহাদ উজ জামানের ব্যাটে কিছুটা পথ পাড়ি দেয় রাজশাহী। তবে খুব বড় হয়নি দলের সংগ্রহ। দুজনই আউট হন ২৮ রান করে।

১৬০ রানের লক্ষ্যে শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলে রংপুর। অনিক সরকার সেতু ১৪ বলে ১৮, ইকবাল হোসেন ২৫ বলে ২৯ রানের ইনিংসে দলের ওপর চাপ আসতে দেননি। ফর্মে থাকা ওপেনার মিম মোসাদ্দেক একপ্রান্ত আগলে রেখে ৮৯ বলে খেলেন ৬১ রানের ইনিংস।

পাঁচ নম্বরে নেমে এক চার ও তিন ছক্কায় ১৯ বলে ৩০ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন রিশাদ হোসেন।

পাঁচ ম্যাচে এক জয় ও তিন ড্রয়ে ২০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পাঁচে রংপুর। সমান ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে তাদের ঠিক নিচেই রাজশাহী

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

রাজশাহী ১ম ইনিংস: ২৩১

রংপুর ১ম ইনিংস: ২৫৬

রাজশাহী ২য় ইনিংস: (আগের দিন ১১০/৩) ৫৮.১ ওভারে ১৮৪ (প্রিতম ৪১, শাকির ৯, মেহেরব ১১, সানজামুল ২৮, ওয়াসি ২৮, শফিকুল ৪, পায়েল ০*; মেহেদি ১২-০-৬৭-৩, আলাউদ্দিন ৯-১-৩৩-২, শাহরিয়া ১৩-৫-৩০-২, মামুন ৮-৩-১৩-১, রিশাদ ৫.১-০-২১-১, হাশিম ৭-৩-১০-১, ইকবাল ৪-২-৪-০)

রংপুর ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ১৬০) ২৮.৫ ওভারে ১৬০/৪ (সেতু ১৮, মিম ৬১, ইকবাল ২৯, মামুন ১৬, রিশাদ ৩০*, জাভেদ ৫*; শফিকুল ৮-০-৫৩-০, পায়েল ৬-০-২৭-১, সানজামুল ৩-০-১৫-০, ওয়াসি ৭-০-৩৭-১, মেহেরব ২-০-৫-০, নিগাদ ২.৫-০-২২-১)

ফল: রংপুর ৬ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: মেহেদি হাসান

শেষ দিন আবদুল্লাহ-শিবলির আক্ষেপ

ম্যাচের ভাগ্যে ততক্ষণে লেখা হয়ে গেছে ড্র। অপেক্ষা ছিল শুধু শিবলির সেঞ্চুরির। ৯৯ রানে দাঁড়িয়ে তানভির ইসলামের বলে ইনসাইড আউট করে খেললেন তরুণ ওপেনার। কভারে থাকা ইফতেখার হোসেন ডান দিকে ঝাঁপিয়ে নিলেন দুর্দান্ত এক ক্যাচ। হতাশায় বিদায় নিলেন শিবলি। সেখানেই শেষ ম্যাচ।

রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বৃষ্টি ও ভেজা আউটফিল্ডে প্রথম দুই দিন খেলাই হয়নি। বাকি দুই দিন উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স শুধু আবদুল্লাহ ও শিবলির নব্বইছোঁয়া দুটি ইনিংস।

৬২ রানে অপরাজিত থেকে মঙ্গলবার খেলতে নামেন আবদুল্লাহ। শেষ দুই ব্যাটসম্যানকে নিয়ে তিনি যোগ করেন ৪৯ রান। নিজে পৌঁছে যান সেঞ্চুরির কাছে। তবে ৬ রান দূরে থাকতে তাইবুর পারভেজের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে যান তরুণ উইকেট-কিপার ব্যাটসম্যান।

পরে ব্যাট করতে নেমে ইতিবাচক শুরু করেন ঢাকার দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও আনিসুল ইসলাম। তবে দুজনই আউট হন ফিফটি ছোঁয়ার পরপর।

তিন নম্বরে নেমে শিবলি জাগিয়ে তোলেন সেঞ্চুরির সম্ভাবনা। কিন্তু ইফতেখার অসাধারণ ক্যাচে মিলিয়ে যায় সেই আশা। ১৬২ বলের ইনিংসে ৮ চারের সঙ্গে দুইটি ছক্কা মারেন শিবলি।

পাঁচ ম্যাচে এক জয় ও চার ড্রয়ে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিন নম্বরে ঢাকা। দুই ড্রয়ে পাওয়া ৮ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে বরিশাল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বরিশাল ১ম ইনিংস: (আগের দিন ২৬৬/৮) ৭৯.৪ ওভারে ৩১৫ (আবদুল্লাহ ৯৪, তানভির ৩৬, রাসেল ০*; সুমন ১৮-২-৫১-১, শাকিল ১২-২-৪৭-১, এনামুল ১৩-২-৫৩-১, তৌফিক ১১-১-৪৪-২, আমিনুল ১৬-০-৬৩-৩, আনিসুল ২-০-৫-০, তাইবুর ৭.৪-১-৪৬-১)

ঢাকা ১ম ইনিংস: ৬৯.৩ ওভারে ২৫১/৫ (নাঈম ৫১, আনিসুল ৫০, শিবলি ৯৯, অঙ্কন ২০, আমিনুল ২৮, সুমন ০*, কামরুল ১৪-১-৫১-১, রাসেল ৮.১-১-২৮-০, ইফতেখার ৪-০-৩৮-০, তানভির ২৩.৩-২-৮৬-৩, মইন ১৭.৫-০-৪১-০, জাওয়াদ ২-১-৫-১)

ফল: ম্যাচ ড্র

ম্যান অব দা ম্যাচ: তানভির ইসলাম