নাটকীয় অভিষেকে রাকিবের বাজিমাত, ৫ উইকেট নাসুম-শফিকুলেরও
ম্যাচের মাঝপথে হঠাৎ মাঠে নেমে স্বীকৃত ক্রিকেটে অভিষেকেই ৫ উইকেট পেলেন রাকিব হাওলাদার, দারুণ বোলিংয়ে দলকে জেতালেন নাসুম আহমেদ ও শফিকুল ইসলাম।
ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন না রাকিব হাওলাদার। দ্বিতীয় ইনিংসে হঠাৎই তার সামনে খুলে গেল দুয়ার। ব্যাটিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পেলেন সামিউর বশির। তার মতোই বাঁহাতি স্পিনার হওয়ায় কনকাশন বদলি হিসেবে সুযোগ পেয়ে গেলেন রাকিব। তিন মাস আগে ঢাকার তৃতীয় বিভাগ লিগে খেলা ক্রিকেটার দুই হাতে লুফে নিলেন সুযোগটি। ৫ উইকেট নিয়ে রাঙালেন স্বীকৃত ক্রিকেটে নিজের অভিষেক।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের তৃতীয় রাউন্ডের শেষ দিকে রাকিবের মতোই বল হাতে উজ্জ্বল আরও দুই বাঁহাতি বোলার নাসুম আহমেদ ও শফিকুল ইসলাম। বাঁহাতি স্পিনে সিলেটকে দারুণ জয় এনে দিলেন নাসুম। রাজশাহীর জয়ে বড় অবদান রাখলেন বাঁহাতি পেসার শফিকুল।
প্রথম দুই রাউন্ডের মতো এবারও হেরে গেছে বরিশাল। জয়-পরাজয় এসেছে আরও দুই ম্যাচে। তবে কক্সবাজারে ড্র হয়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ ম্যাচ।
রাকিব-মেহেদির স্পিনে খুলনার দ্বিতীয় জয়
সিলেটের একাডেমি মাঠে চমৎকার বোলিং প্রদর্শনী মেলে ধরে চট্টগ্রামকে ১০ রানে হারায় খুলনা। ২৭৫ রানের লক্ষ্যে একপর্যায়ে বিনা উইকেটে ১২৯ রানে পৌঁছে গেলেও শেষ পর্যন্ত ২৬৪ রানের বেশি করতে পারেনি চট্টগ্রাম।
আগের দিনই চট্টগ্রামের ব্যাটিংয়ে ধস নামিয়েছিলেন রাকিব। চমৎকার উদ্বোধনী জুটির পর ২৫ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। এর ৪টিই নেন ১৭ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার। ম্যাচের শেষ দিন আহমেদ শরিফকে ফিরিয়ে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি।
স্বীকৃত ক্রিকেটে এটিই রাকিবের প্রথম ম্যাচ। সামিউনের মাথায় বল না লাগলে হয়তো অভিষেকের জন্য আরও লম্বা সময় অপেক্ষায় থাকতে হতো তার। গত জুলাইয়ে ঢাকার তৃতীয় বিভাগ লিগে খেলেন তিনি। এর আগে ইয়ুথ ক্রিকেট লিগ ও অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় টুর্নামেন্টে খেলেন বাঁহাতি এই স্পিনার।
রাকিবের পাশাপাশি দারুণ বোলিং করেন শেখ মেহেদি হাসান। শেষ দিনে তার স্পিনেই মূলত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে যেতে পারেনি চট্টগ্রাম।
জয় থেকে ১০১ রান দূরে থাকতে বুধবার ব্যাটিংয়ে নামে চট্টগ্রাম। তাদের ছিল ৫ উইকেট। দিনের শুরুতে ফিরে যান শামীম হোসেন। পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেন অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর। তবে পাঁচ ও দুই ছক্কায় ৩৭ বলে ৪৬ রান করে ফিরে যান তিনি।
শেষ দিকের দুই ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রুবেল ও আবুল হাসনাত চেষ্টা করেন দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যেতে। তবে শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হয়নি তাদের লড়াই।
তিন ম্যাচে খুলনার এটি দ্বিতীয় জয়। ২০১৯-২০ মৌসুমের পর আবার ট্রফি ঘরে তোলার অভিযানে দারুণ শুরু করল সাতবারের চ্যাম্পিয়নরা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
খুলনা ১ম ইনিংস: ২০১
চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস: ২৫০
খুলনা ২য় ইনিংস: ৩২৩
চট্টগ্রাম ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৭৫) (আগের দিন ১৭৪/৫) ৭২.৫ ওভারে ২৬৪ (ইরফান ৪৬, শামীম ১০, হাসনাত ২৮, রুবেল ২৭, শরিফ ২, আশরাফুল ১*; মেহেদি ২৬.৫-৭-৭২-৪, সফর ৩-০-১৩-০, রাকিব ২২-৪-৮৯-৫, মৃত্যুঞ্জয় ৩-০-২৯-০, শেখ পারভেজ ১৩-২-৪১-১, আফিফ ৫-১-২০-০)
ফল: খুলনা ১০ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: আজিজুল হাকিম
রাজশাহীর প্রথম জয়, বরিশালের হ্যাটট্রিক হার
আগের দিন শেষ বলে উইকেট নিয়ে শুরুটা করেছিলেন শফিকুল ইসলাম। নতুন সকালে বাঁহাতি পেসের তোপে তিনি মুড়িয়ে দিয়েছেন বরিশালের লেজ। পরে সহজ লক্ষ্যে টুর্নামেন্টের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে রাজশাহী।
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ২১ রানে এগিয়ে থেকে ৫ উইকেট হাতে রেখে শেষ দিন শুরু করেছিল বরিশাল। কিন্তু বুধবার কোনো লড়াই করতেই পারেনি তারা। ১১.৩ ওভারে ২৫ রান যোগ করতেই বাকি ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা।
বরিশালের শেষ ৪ উইকেট একাই নিয়ে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন শফিকুল। ৩০ ম্যাচের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে ২৯ বছর বয়সী পেসারের এটি দ্বিতীয় ৫ উইকেট।
পরে ৪৭ রানের লক্ষ্য ছুঁতে কোনো সমস্যা হয়নি রাজশাহীর।
প্রথম দুই ম্যাচ ড্রয়ের পর এবার জয়ের স্বাদ পেল রাজশাহী। আর টানা তিন ম্যাচ হেরে তলানিতেই রইল বরিশাল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বরিশাল ১ম ইনিংস: ২২৯
রাজশাহী ১ম ইনিংস: ৪৫৭/৭ডি.
বরিশাল ২য় ইনিংস: (আগের দিন ২৪৯/৫) ৮৬.৩ ওভারে ২৭৪ (আবদুল্লাহ ৩৪, মইন ৯, শহিদুল ০, কামরুল ৬, রুয়েল ২*, অভি ০; শফিকুল ২০.৩-৩-৭৩-৫, মোহর ১০-২-২০-০, মেহেরব ১৬-৪-৪৪-১, সানজামুল ২৬-৪-১০২-২, নিহাদ উজ জামান ১৪-১-৩২-১)
রাজশাহী ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৪৭) ১০.৫ ওভারে ৪৯/২ (হাবিবুর ১, সাব্বির হোসেন ২৩*, নাঈম ৮, প্রিতম ১৬*; মইন ৫-০-২২-১, রুয়েল ৩-০-১৩-১, ইফতেখার ২-০-৬-০, ফজলে মাহমুদ ০.৫-০-৮-০)
ফল: রাজশাহী ৮ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: নাঈম আহমেদ
নাসুম-নাঈমের স্পিনে সিলেটের নাটকীয় জয়
দিনের শুরুর গল্পটা ছিল রংপুরের বাঁহাতি স্পিনার আবু হাশিমের। তবে শেষ করলেন সিলেটের বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। আরেক স্পিনার নাঈম আহমেদ তাকে দারুণ সঙ্গ দিলে রংপুরের মুঠোয় থাকা ম্যাচে দলকে জেতান অভিজ্ঞ স্পিনার।
চট্টগ্রামে দিনের দ্বিতীয় বলেই বড় শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হন অমিত। মিলিয়ে যায় তার সেঞ্চুরির আশা। এক ওভার পর নাবিল সামাদকেও ফিরিয়ে সিলেটের ইনিংস গুটিয়ে দেন হাশিম। ভারতের রাভিন্দ্রা জাদেজার মতো অ্যাকশনে বোলিং করা বাঁহাতি স্পিনার নেন ৪ উইকেট।
এ দিন মাত্র ২ রান যোগ করতে পারে সিলেট। রংপুরের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২১০ রানের। মিম মোসাদ্দেক ও ইকবাল হোসেন দ্রুত ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে তারা।
তৃতীয় উইকেটে ৫৭ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে রংপুরের নিয়ন্ত্রণ ফেরান অনিক সরকার ও আবদুল্লাহ আল মামুন। সেখান থেকেই শুরু হয় নাসুম ও নাঈমের ঘূর্ণি জাদু। অনিককে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন নাসুম। পরে নাঈমের শিকার মামুন।
সব মিলিয়ে মাত্র ৭০ রানের মধ্যে শেষ ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে রংপুর। সম্ভাব্য জয়ের পথ থেকে উল্টো ব্যাটিং বিপর্যয়ে এবারের প্রথম পরাজয়ের তিক্ততা সঙ্গী হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।
রংপুরের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন অনিক। মামুনের ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান।
সিলেটের হয়ে ৬৯ রানে ৫ উইকেট নেন নাসুম। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৪১ ম্যাচে এটি তার ১২তম ৫ উইকেট। দুই ইনিংসে ৪টি করে উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা নাঈম আহমেদ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
সিলেট ১ম ইনিংস: ১৭৯
রংপুর ১ম ইনিংস: ২০৬
সিলেট ২য় ইনিংস: (আগের দিন ২৩৫/৮) ১০২.৫ ওভারে ২৩৭ (অমিত ৯৪, নাঈম ৪*, নাবিল ০; মেহেদি ১৭-৫-৪০-২, নাসির ৪-১-৭-০, ইকবাল ২-০-৬-০, হাশিম ৩১.৫-১০-৪৭-৪, হাসিবুল ১২-২-২৬-১, রিজওয়ান ১০-০-৪০-১, মামুন ১২-৩-২৭-১, স্বাধীন ১৪-২-৩৬-১)
রংপুর ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২১০) ৪৫.৩ ওভারে ১৭৩ (অনিক ৫৫, মিম ১১, ইকবাল ৪, মামুন ৪৪, আকবর ১০, রিজওয়ান ৫, নাসির ৮, হাশিম ১৪, মেহেদি ০, স্বাধীন ১৮, হাসিবুল ০*; খালেদ ৪-১-২২-০, তোফায়েল ৫-১-১৮-১, নাসুম ১৯-৫-৬৯-৫, নাঈম ১৫.৩-১-৫৩-৪, নাবিল ২-০-৯-০)
ফল: সিলেট ৩৭ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: নাঈম আহমেদ
ম্যাড়ম্যাড়ে দিনে আরিফুলের আক্ষেপ
ম্যাচের ভাগ্য নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল আগেই। অপেক্ষা ছিল শুধু আরিফুল ইসলামের শতরানের। হলো সেটিও। আমিনুল ইসলামের অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল উড়িয়ে মেরে তিনি পারলেন না লং অন সীমানা পার করতে থামলেন সেঞ্চুরির ৮ রান আগে। তখনই ম্যাচের সমাপ্তি।
ম্যাড়ম্যাড়ে ড্র ম্যাচে চার দিনে পড়েছে মাত্র ২৩ উইকেট। শেষ দিন ৪ উইকেটের বেশি নিতে পারেননি বোলাররা।
প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ৩৪২ রান নিয়ে দিন শুরু করে ঢাকা। আরও ৩৫ রান যোগ করেন সুমন খান ও সালাউদ্দিন শাকিল। আবারও ব্যাটিং সামর্থ্যের ছাপ রেখে ১২৮ বলে ৩৮ রানের ইনিংস খেলেন পেসার সুমন।
১০ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নামে ময়মনসিংহ। তাদের ব্যাটিংয়ের শুরু থেকেই যেন ড্র হওয়ার অপেক্ষা করতে থাকে দুই দল।
শেষ পর্যন্ত ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৯২ রান করে আরিফুল আউট হওয়া মাত্রই হাত মিলিয়ে নেয় ঢাকা ও ময়মনসিংহ। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচে কোনো জয় নেই এই দুই দলের। তবে কোনো ম্যাচ হারেনিও তারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ময়মনসিংহ ১ম ইনিংস: ৩৮৭
ঢাকা ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৩৪২/৯) ১৩১ ওভারে ৩৭৭ (সুমন ৩৮, শাকিল ৭*; আবু হায়দার ১০-২-৩১-১, গালিব ১৩-১-৪৭-০, রিজান ৫-১-২২-০, রকিবুল ৩৭-৪-৬৩-৪, আজিজুল ২০-৩-৪৬-১, শুভাগত ৩৪-৩-১০৪-২, আল আমিন ৮.১-১-২৮-০, আরিফুল ৪-২-৮-২)
ময়মনসিংহ ২য় ইনিংস: ৫৫.২ ওভারে ১৬৭/৩ (আরিফুল ৯২, খালিদ ২৮, মাহফিজুল ৩৯, রিজান ৫*; শাকিল ৩-০-১১-০, আরিফ ৯-২-৩৩-০, জিসান ৯-০-২২-০, মাহফুজুর ১৮-৫-৪৬-১, আমিনুল ১০.২-১-৩২-১, তাইবুর ৬-০-২২-১)
ফল: ম্যাচ ড্র
ম্যান অব দা ম্যাচ: রকিবুল হাসান
