চাপ সামলে আল আমিনের চমৎকার সেঞ্চুরি
আলআমিনের সেঞ্চুরিতে ইনিংস পরাজয় এড়ালেও তেমন ভালো অবস্থায় নেই ময়মনসিংহ।
ফলো-অনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসেও হতাশ করলেন ময়মনসিংহের ওপরের দিকের ব্যাটসম্যানরা। আবার দেখা দিল অল্পে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা। সেই বিপর্যয়ের মাঝে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন আলআমিন জুনিয়র। চমৎকার ব্যাটিংয়ে পেলেন সেঞ্চুরির স্বাদ।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের পঞ্চম রাউন্ডে আলআমিনের সেঞ্চুরিতে ইনিংস পরাজয় এড়ালেও তেমন ভালো অবস্থায় নেই ময়মনসিংহ। শীর্ষে থাকা খুলনার সামনে আরেকটি জয়ের হাতছানি। সিলেটের বিপক্ষে ম্যাচ জেতার দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে চট্টগ্রামও।
এছাড়া লড়াই জমেছে রংপুর-রাজশাহী ম্যাচে। তৃতীয় দিনে এসে অবশেষে শুরু হয়েছে ঢাকা ও বরিশাল ম্যাচ। তবে স্বাভাবিকভাবেই ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছে সেটি।
আল আমিনের সেঞ্চুরিতে ময়মনসিংহের লড়াই
খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে সোমবার সকালে দ্রুতই ফিরে যান ময়মনসিংহের মূল ভরসা মাহফিজুল ইসলাম ও মুনিম শাহরিয়ার। মাত্র ৬২ রানে ৪ উইকেট হারানো দলটির ইনিংস পরাজয় এড়াতে করতে হতো আরও ১১০ রান।
চাপের মুখে প্রতিরোধ গড়েন আলআমিন ও আব্দুল মজিদ। পঞ্চম উইকেটে দুজন মিলে গড়ে তোলেন ১১৬ রানের জুটি। যার সৌজন্যে ইনিংস পরাজয় এড়ায় ময়মনসিংহ। ৫৯ রান করে আউট হন মজিদ।
পরে মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে ৮১ রানের জুটি গড়েন আল আমিন। ভালো শুরু করেও ৩৭ রানে ফিরে যান মোসাদ্দেক। আলআমিন তুলে নেন প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে নিজের পঞ্চম সেঞ্চুরি।
শতক ছুঁয়ে চোট পাওয়ায় মাঠ ছেড়ে যান ৩৩ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। দিনের একদম শেষ দিকে আবার ফেরেন ব্যাটিং। তবে এবার আর ১ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি। ১৮৫ বলের ইনিংসে ১০ চারে তিনি করেন ১০২ রান।
দিন শেষে ১৩৫ রানে এগিয়ে ময়মনসিংহ। বাকি রয়েছে শুধু একটি উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিন শেষে)
খুলনা ১ম ইনিংস: ২৮০
ময়মনসিংহ ১ম ইনিংস: ১০৮
ময়মনসিংহ ২য় ইনিংস: (ফলো অনের পর) (আগের দিন ৫৭/২) ৯১ ওভারে ৩১৫/৯ (মাহফিজুল ২৯, মুনিম ১, মজিদ ৫৯, আল আমিন ১০২, মোসাদ্দেক ৩৭, শুভাগত ২, রিজান ৩৩, ইয়াসিন ১১*, গালিব ১*; সফর ১৩-১-৪৯-১, সৌম্য ১৫-১-৪৩-৩, মেহেদি ১৪-১-৫৯-০, পারভেজ ২৩-১-৮৪-৪, তানভির ২২-৩-৬৩-১, আফিফ ৪-০-৯-০)
জয়ের পথে চট্টগ্রাম
দুই ইনিংসে একই রানে গুটিয়ে গেল সিলেট। তাদের মাঝারি স্কোরে থামিয়ে জয়ের পথে অনেকটা এগিয়ে গেল চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রামে ম্যাচের শেষ দিন স্থানীয় দলটির জয়ের জন্য প্রয়োজন আর ১০১ রান। বাকি রয়েছে ৯টি উইকেট।
৯৭ রানে এগিয়ে থেকে সোমবার খেলা শুরু করে সিলেট। এদিন আর ১২৯ রান যোগ করতে বাকি ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। প্রথম ইনিংসের মতো এবারও তারা অলআউট ২১৮ রানে।
৯ নম্বরে নেমে সিলেটের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৭ রানের ইনিংস খেলেন তোফায়েল আহমেদ। ভালো শুরুর পরও ইনিংস টেনে নিতে পারেননি সৈকত আলি, অমিত হাসানরা।
প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয়বারেও ৪ উইকেট নেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পঞ্চাশতম ম্যাচ খেলতে নামা চট্টগ্রামের বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ।
পরে রান তাড়ায় বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মাহমুদুল হাসান জয়। তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আর বিপদ ঘটতে দেননি সাদিকুর রহমান ও শাহ পরান সোহেল।
আগের রাউন্ডে ঝড়ো সেঞ্চুরি করা পরান অপরাজিত ৫১ রানে। সাদিকুর খেলছেন ৫৮ রানে। অবিচ্ছিন্ন জুটির সংগ্রহ ৯১ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিন শেষে)
সিলেট ১ম ইনিংস: ২১৮
চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস: ২১০
সিলেট ২য় ইনিংস: (আগের দিন ৮৯/২) ৮৫.৫ ওভারে ২১৮ (সৈকত ৩৭, অমিত ২০, শাহানুর ১৩, গালিব ১১, আশরাফুল ০, নাসুম ২৮, তোফায়েল ৪৭, খালেদ ১, ইকবাল ৮*; রুবেল ১৬-২-৩৪-২, সঞ্জিত ৮-২-১৯-১, আশরাফুল ২৪-৩-৬০-২, মুরাদ ২৬.৫-৭-৬১-৪, হাসনাত ৫-২-১৬-০, জয় ৬-০-২১-১)
চট্টগ্রাম ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২২৭) ৩৭ ওভারে ১২৬/১ (জয় ১৭, সাদিকুর ৫৮*, পরান ৫১*; খালেদ ৬-১-১২-০, নাসুম ১২-১-২৯-০, তোফায়েল ৫-০-২৫-১, শাহানুর ৭-১-৩৩-০, ইকবাল ৫-১-১৭-০, গালিব ২-০-১০-০)
বগুড়ায় শেষ দিনের রোমাঞ্চের অপেক্ষা
বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে জমে উঠেছে রাজশাহী ও রংপুর ম্যাচ। ৭ উইকেট বাকি রেখে আপাতত ৮৫ রানে এগিয়ে রাজশাহী। শেষ দিন তাদের অল্পে থামিয়ে লক্ষ্যটা নাগালে রাখার অভিযানেই নামবে রংপুর।
৩ উইকেটে ১২২ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে রংপুর। বাকি ৭ উইকেটে ১৩৪ রানের বেশি নিতে পারেনি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১১৪ রান যোগ করেন অনিক সরকার সেতু ও ইকবাল হোসেন। দুজনই থামেন সত্তর ছুঁয়ে। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৭৫ রান করেন সেতু। ইকবালের ব্যাট থেকে আসে ৭ চারে ৭০ রান।
শেষ দিকে আবু হাশিম ১ চার ও ২ ছক্কায় ৩৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললে ২৫ রানের লিড পায় রংপুর।
দ্বিতীয় ইনিংসে রাজশাহীর শুরুটা তেমন ভালো হয়নি। দিনের শেষ ভাগে নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারিয়েছে তারা। নাঈম আহমেদ ও সাব্বির হোসেন ২৫ রান করে আউট হন। দিন শেষে ৪১ রানে অপরাজিত অধিনায়ক প্রিতম কুমার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিন শেষে)
রাজশাহী ১ম ইনিংস: ২৩১
রংপুর ১ম ইনিংস: (আগের দিন ১২২/৩) ৮৫.৩ ওভারে ২৫৬ (সেতু ৭৫, ইকবাল ৭০, জাহিদ ২, রিশাদ ১৪, আলাউদ্দিন ১৮, হাশিম ৩৭*, শাহরিয়া ১১, মেহেদি ৩; শফিকুল ১৬-২-৬২-২, পায়েল ১৯-৩-৬২-২, নিহাদ ১৩-১-৩৩-১, সানজামুল ২০.৩-৬-৫১-১, সাব্বির হোসেন ৫-০-২০-০, মেহেরব ৮-২-১২-০, ওয়াসি ৪-১-৬-১)
রাজশাহী ২য় ইনিংস: ২৭ ওভারে ১১০/৩ (নাঈম ২৫, ইমন ৬, সাব্বির হোসেন ২৫, প্রিতম ৪১*, শাকির ৯*; মেহেদি ৫-০-৩৫-১, আলাউদ্দিন ৫-০-২২-১, শাহরিয়া ৫-১-২৪-০, মামুন ১-১-০-০, রিশাদ ২-০-১২-০, হাশিম ৭-৩-১০-১, ইকবাল ২-১-৩-০)
ড্রয়ের পথে ঢাকা-বরিশাল
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বৃষ্টি ও ভেজা আউটফিল্ডের কারণে প্রথম দুই দিন টস করা সম্ভব হয়নি। তৃতীয় দিন দুই দল মাঠে নামলেও ৭০ ওভারের বেশি খেলা হয়নি। ম্যাচের ভাগ্যে তাই নিষ্ফলা ড্র প্রায় লেখা হয়ে গেছে।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে এদিন ৮ উইকেটে ২৬৬ রান করেছে বরিশাল। ব্যাটিং লাইনআপের সবাই দুই অঙ্কে পৌঁছালেও উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ছাড়া কেউ ফিফটির দেখা পাননি।
দিন শেষে ৬২ রানে অপরাজিত আবদুল্লাহ। অধিনায়ক ইফতেখার আউট হন ৪৭ রান করে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিন শেষে)
বরিশাল ১ম ইনিংস: ৭০ ওভারে ২৬৬/৮ (জাওয়াদ ২০, রাফসান ১৭, ইফতেখার ৪৭, ফজলে মাহমুদ ২০, হাফিজুর ১২, আবদুল্লাহ ৬২*, মইন ২০, শামসুল ২২, কামরুল ১১, তানভির ১৯*; সুমন ১৫-২-৩৮-১, শাকিল ১২-২-৪৭-১, এনামুল ১০-২-৩৮-১, তৌফিক ১১-১-৪৪-২, আমিনুল ১৪-০-৫৯-৩, আনিসুল ২-০-৫-০, তাইবুর ৬-১-২৯-০)
