তাইবুরের আরেকটি সেঞ্চুরি, সানজিদের প্রথম ৫
দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পেলেন তাইবুর রহমান, তবে পঞ্চাশ পেরিয়েও কাঙ্ক্ষিত শতরান ছুঁতে পারেননি আরও কয়েকজন।
প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরির পর তৃতীয় রাউন্ডে আবার সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন তাইবুর রহমান। অল্পের জন্য হাতছাড়া হলেও ষষ্ঠ ম্যাচে আবার তিন অঙ্কের ছোঁয়া পেলেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। তার ব্যাটে বড় সংগ্রহের পথে ঢাকা বিভাগ।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের ষষ্ঠ রাউন্ড শুরুর দিনে তাইবুর শতক পেরিয়ে অপরাজিত থাকলেও ইনিংস বড় করতে না পারার আক্ষেপে পোড়েন বেশিরভাগ ব্যাটসম্যান। বল হাতে আলো ছড়িয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেটের স্বাদ পান সানজিদ মজুমদার।
তাইবুরের সেঞ্চুরিতে ঢাকার দাপট
এবারের লিগে শিরোপা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই এই ঢাকা-খুলনা ম্যাচ। রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সেই ম্যাচের প্রথম দিন খুলনার বোলারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছে ঢাকার ব্যাটসম্যানরা। দিন শেষে তাদের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৩৬৮ রান।
টস জিতে ব্যাটিংতে নেমে দারুণ শুরু করে ঢাকার টপ-অর্ডার। তবে ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন তারা। দুই ওপেনার আশিকুর রহমান শিবলি ৫৬ ও আনিসুল ইসলাম ৪৫ এবং তিন নম্বরে নেমে ফয়সাল সরকার খেলেন ৭০ রানের ইনিংস।
পরে মার্শাল আইয়ুব ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন হতাশ করলে কিছুটা চাপে পড়ে যায় ঢাকা। তবে বিপদ আর বাড়তে দেননি তাইবুর ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ২০৬ বলে ১৪৪ রান যোগ করেন তারা।
প্রথম শ্রেণিতে নিজের নবম সেঞ্চুরি করে ১৫ চার ও ২ ছক্কায় ১৫২ বলে ১২৮ রানে অপরাজিত তাইবুর। আমিনুলের সংগ্রহ ৫৬ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে)
ঢাকা ১ম ইনিংস: ৯০ ওভারে ৩৬৮/৫ (শিবলি ৫৬, আনিসুল ৪৫, ফয়সাল ৭০, মার্শাল ৪, মাহিদুল ১, তাইবুর ১২৮*, আমিনুল ৫৬*; সফর ১৫-২-৪৮-২, হালিম ১৫-১-৫৬-০, সৌম্য ৭-১-৩২-০, রাকিব ১৯-১-৮৭-১, পারভেজ ২০-০-৮৯-১, আজিজুল ১৪-১-৫০-১)
সানজিদের ৫ উইকেট
খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে রংপুরের ব্যাটিং ধসিয়ে দেন সানজিদ মজুমদার। দারুণ বোলিং করে ৪১ রান খরচায় ৫ উইকেট নেন চট্টগ্রামের ২০ বছর বয়সী পেসার। তার তোপে মাত্র ১৬৬ রানে গুটিয়ে যায় বর্তমান বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
সতেজ ঘাসের উইকেটে রংপুরের কোনো ব্যাটারই সুবিধা করতে পারেননি। ওপেনিংয়ে নেমে অনিক সরকার সেতুর করা ২৮ রানই ইনিংসের সর্বোচ্চ। এছাড়া উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান শামস নিলয়ের ব্যাট থেকে আসে ২৩ রান।
শেষ দিকে নবীন ইসলাম, আলাউদ্দিন বাবু, আবু হাশিম, শাহরিয়া আলআমিনের ছোট ছোট ইনিংসে দেড়শ পার করে রংপুর।
আগের দুই রাউন্ডে চার ইনিংস মিলিয়ে ৫ উইকেট পাওয়া সানজিদ এবার পান ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেটের স্বাদ।
পরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করে চট্টগ্রাম।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে)
রংপুর ১ম ইনিংস: ৬৬.৪ ওভারে ১৬৬ (সেতু ২৮, মিম ৩, ইকবাল ১৬, শিহাব ১৬, মামুন ৬, নিলয় ২৩, নবীন ১৮, আলাউদ্দিন ১৬, হাশিম ১৭, শাহরিয়া ১৭, মেহেদি ২*; সানজিদ ১৩.৪-১-৪১-৫, ইফরান ১৩-২-৪৮-২, আশরাফুল ১৭-২-৩৩-০, মুরাদ ১২-৩-২৮-২, শামিম ১১-৪-১৬-১)
চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস: ১৩ ওভারে ৫৯/০ (সাদিকুর ২১*, সাদ্দাম ৩১*; মেহেদি ৫-০-২৩-০, আলাউদ্দিন ১-০-১২-০, শাহরিয়া ২-০-৬-০, মামুন ৩-১-৭-০, হাশিম ১-০-২-০, ইকবাল ১-০-৮-০)
তিন ফিফটিতে তিনশ ছাড়িয়ে সিলেট
শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে রাজশাহীর বিপক্ষে পঞ্চাশ পেরিয়েও তিন অঙ্কে যেতে পারেননি সিলেটের তিন ব্যাটসম্যান। তবে বড় সংগ্রহের পথেই আছে দল। প্রথম দিন শেষে তাদের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৩২৯ রান।
দ্বিতীয় একাদশের টুর্নামেন্টে সিলেটের হয়ে ১১ ইনিংসে ৪৮.৩৬ গড়ে ৫৩২ রান করে এবার প্রথম একাদশে অভিষেক হয় মাজহারুল হকের। প্রথম ইনিংসে তিনি করেন ঠিক ৫০ রান। চার নম্বরে নামা অধিনায়ক জাকির হাসানের ব্যাট থেকে আসে ৬৫ রান।
এরই মধ্যে জোড়া সেঞ্চুরি করা আশরাফুল হাসান আবারও জাগান তিন অঙ্কের সম্ভাবনা। তবে দিনের শেষ ওভারে ৮৩ রানে বাজে তার বিদায়ঘণ্টা।
পরের বলে নাঈম আহমেদকেও ফিরিয়ে দেন নিহাদ উজ জামান। নতুন দিনে তার সামনে থাকবে হ্যাটট্রিকের সুযোগ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে)
সিলেট ১ম ইনিংস: ৭৯ ওভারে ৩২৯/৮ (মাজহারুল ৫০, মুবিন ১৬, সৈকত ২৮, জাকির ৬৫, গালিব ১১, আশরাফুল ৮৩, তোফায়েল ৪২, নাসুম ২৪*, নাঈম ০, আবু জায়েদ ০*; মোহর ১৪-০-৬৪-২, আলি ১২-০-৬৯-০, পায়েল ১৬-২-৪৯-১, সানজামুল ২-০-২১-০, নিহাদ ১৮-১-৫১-৩, মেহেরব ১৬-১-৬৬-২, রহিম ১-০-৩-০)
খালিদ-আলআমিনের ফিফটি
সিলেট টেস্টে জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় ষষ্ঠ রাউন্ডে নেই ময়মনসিংহের ব্যাটিংয়ের সবচেঢে বড় ভরসা মাহফিজুল ইসলাম রবিন। তার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব নেন আরেক ওপেনার খালিদ হাসান। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
আলআমিন, মোসাদ্দেক হোসেনও ভালো শুরুর পর রাঙাতে পারেননি ইনিংস। সব মিলিয়ে প্রথম দিনে ময়মনসিংহের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৪৭ রান।
রবিনের জায়গায় দ্বিতীয় একাদশ থেকে সুযোগ পেয়ে স্রেফ ৬ রানে আউট হন রনি চৌহান। খালিদের ব্যাট থেকে আসে ৭৪ রানের ইনিংস।
চতুর্থ উইকেটে ৭২ রানের জুটি গড়েন আলআমিন ও মোসাদ্দেক। ৫৪ রানে ফিরে যান আলআমিন। মোসাদ্দেক করেন ৪৭ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে)
ময়মনসিংহ ১ম ইনিংস: ৮২.৩ ওভারে ২৪৭/৬ (খালিদ ৭৪, রনি ৬, মজিদ ৩৭, আলআমিন ৫৪, মোসাদ্দেক ৪৭, শুভাগত ০, ফাহিম ২৫*, আবু হায়দার ২*; কামরুল ১৪-০-৬৬-০, তানভির ৩০.৪-৬-৫৫-৩, রুয়েল ১৬.৩-০-৫৫-২, মইন ১৪-২-৪৪-১, মইনুল ৭.২-০-২৭-০)
