০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

মেহরবের সেঞ্চুরি, ইয়াসিনের ৬ উইকেট, নাসুমের ৫টি

স্বীকৃত ক্রিকেটে প্রথম শতরানের স্বাদ পেলেন উঠতি অলরাউন্ডার এসএম মেহরব, সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েও পাননি মাহমুদুল হাসান জয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Nov 2026, 07:15 PM

Updated : 01 Nov 2026, 07:15 PM

৪০ ইনিংসে ফিফটি ৬টি। সর্বোচ্চ ৬৬। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এই ছিল এসএম মেহরবের পারফরম্যান্স। এবারের জাতীয় লিগে আগের সাত ইনিংসে তার ফিফটি ছিল স্রেফ একটি। অবশেষে নিজেকে ছাড়িয়ে প্রথম শতরানের স্বাদ পেলেন উঠতি এই অলরাউন্ডার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটই শুধু নয়, স্বীকৃত ক্রিকেটেই ২৩ বছর বয়সী ক্রিকেটার তিন অঙ্ক ছুঁলেন প্রথমবার।

মেহরবের সেঞ্চুরির দিনে আরেক ম্যাচে নাসুম আহমেদ নিয়েছেন ৫ উইকেট। চলতি লিগের প্রথম রাউন্ডে তিনি খেলেননি। পরের রাউন্ড থেকে মাঠে নেমেই দুর্দান্ত পারফর্ম করছেন। ৪ ম্যাচে ২২ উইকেট নিয়ে এখন তিনি আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে এ দিন এতটা উজ্জ্বল হতে পারেননি খুলনা বিভাগের কেউ। তবে দিনের সেরা দল তারাই। সম্মিলিত পারফরম্যান্সে দুই দিনের জয়ের ক্ষেত্র তৈরি করে ফেলেছে তারা। তাদের বিপক্ষেই অবশ্য ৬ উইকেট নিয়েছেন ময়মনসিংহের পেসার ইয়াসিন আরাফাত

খুলনায় ধুঁকছে ময়মনসিংহ

দুই ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরির পরও খুলনার ইনিংস খুব বড় হয়নি। তবে ময়মনসিংহের অবস্থা আরও করুণ। তাদের প্রথম ইনিংস শেষ ১০৮ রানেই। ফলো-অনের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও শেষ বিকেলে জোড়া ধাক্কা হজম করেছে তারা।

খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে রোববার সকালে ৮ উইকেটে ২৮০ রান নিয়ে দিন শুরু করে খুলনা আর কোনো রান যোগ না করেই অলআউট হয়। ১০৪ রানে দিন শুরু করা নুরুল হাসান সোহান আউট হন ওই রানেই।

ম্যাচের প্রথম দিনে সেঞ্চুরি করেছিলেন মোহাম্মদ মিঠুন। তিনি ও সোহান মিলে রান করেছেন ২২৩। অতিরিক্তসহ দলের বাকি সবার মোট রান ৬৫।

সোহানকে ফিরিয়ে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন ইয়াসিন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এই স্বাদ পেলেন তিনি তৃতীয়বার। ২৮ বছর বয়সী দীর্ঘদেহী পেসার পরে শেষ উইকেটটিও নেন।

ময়মনসিংহ ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকেন নিয়মিত। আগের চার ম্যাচে একটি ডাবলসহ তিনটি সেঞ্চুরি করা ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম রবিন এবার ফেরেন ২৬ রানে। তার সেই স্কোরই হয়ে থাকে দলের সর্বোচ্চ।

১৮ রানে শেখ পারভেব জীবনের বলে রিভার্স সুইপ করার চেষ্টায় পায়ে টান লাগায় স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন মোসাদ্দেক হোসেন। এবারের লিগে এই ম্যাচেই প্রথম খেলছেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।

ময়মনসিংহের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ১০৮ রানেই। খুলনার কোনো কোনো বোলার দুই উইকেটের বেশি পাননি। তবে অবদান রাখেন সবাই।

ফলো-অনের পর ময়মনসিংহের শুরুটা হয় ভালো। উদ্বোধনী জুটিতে ৫১ রান যোগ করেন মাহফিজুল ও খালিদ হাসান। তবে শেষ বিকেলে খালিদ ও নাইটওয়াচম্যান রকিবুল হাসানকে হারায় তারা।

ইনিংস পরাজয় এড়াতেই এখনও ১২৩ রান প্রয়োজন ময়মনসিংহের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)

খুলনা ১ম ইনিংস: ২৮০

ময়মনসিংহ ১ম ইনিংস: ৫১.৩ ওভারে ১০৮ (মাহফিজুল ২৬, খালিদ ৬, মুনিম ০, আল আমিন ১১, মজিদ ০, মোসাদ্দেক ১৮ (আহত অবসর), শুভাগত ২১, রিজান ১১, রকিবুল ২, ইয়াসিন ৬* গালিব ২; সফর ১৫-৬-২৫-২, মেহেদি রানা ১১-২-২৩-২, জিয়া ৩-১-২-০, সৌম্য ৮-১-১৮-২, তানভির ৮-১-২৯-১, পারভেজ ৬.৩-২-১০-২)

ময়মনসিংহ ২য় ইনিংস: (ফলো অনের পর): ১৪ ওভারে ৫৭/২ (মাহফিজুল ২৫*, খালিদ ২৪, রকিবুল ০, মুনিম ০*; সফর ৩-০-১৯-০, সৌম্য ৫-১-৭-১, মেহেদি রানা ৩-০-২৩-০, পারভেজ ২-০-৫-১, তানভির ১-০-১-০)।

মেহরবের অপেক্ষার অবসান

সেঞ্চুরির সুবাস নিয়েই দিন শুরু করেছিলেন মেহরব। ৮২ রানে অপরাজিত থাকা ব্যাটসম্যান কাঙ্ক্ষিত মাইলফলকে পৌঁছে যান অনায়াসেই। স্বীকৃত ক্রিকেটে ৪ বছরের ক্যারিয়ারে ১১৪তম ইনিংসে প্রথম শতরানের দেখা পেলেন তিনি।

শতরানের পরই অবশ্য আউট হয়ে যান তিনি। ১৪১ রানের জুটিতে তার সঙ্গী নিহাদ উজ জামান আগেই আউট হন ৫৭ রানে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার দ্বিতীয় ফিফটি এটি।

রাজশাহীর ইনিংস থামে ২৩১ রানে। রংপুরের পেসার মেহেদি হাসান শিকার করেন ৪ উইকেট।

রংপুর ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ উইকেট হারায় ৫১ রানের মধ্যে। ওপেনার অনিক সরকার সেতু ও পাঁচে নামা ইকবাল হোসেন মিলে ৭১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে শেষ করেন দিন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)

রাজশাহী ১ম ইনিংস: ৮৪ ওভারে ২৩১ (আগের দিন ১৫৫/৬) (মেহরব ৮২*, নিহাদ ৫৭, ওয়াসি ৮, শফিকুল ১৬, পায়েল ২*; মেহেদি ১৫-৫-৩৭-৪, শাহরিয়া ১৬-১-৬৯-১, আল মামুন ১০-২-২৬-০, আলাউদ্দিন ১১-৩-১৮-২, ইকবাল ৬-০-১৫-১, রিশাদ ১৮-৫-৫০-১, হাশিম ৮-৩-১০-০)

রংপুর ১ম ইনিংস: ৩৯ ওভারে ১২২/৩ (সেতু ৫৯*, মিম ১০, আল মামুন ০, নবিন ৬, ইকবাল ৪৫*; শফিকুল ৯-০-৩৪-১, পায়েল ৮-১-২৯-১, নিহাদ ২-০-৮-০, সানজামুল ১০-৩-২৪-০, সাব্বির হোসেন ৫-০-২০-০, মেহেরব ৫-১-৭-০)

নাসুমের নৈপুণ্যে সিলেটের নাটকীয় লিড

আগের দিন সিলেটকে ২১৮ রানে থামিয়ে দেওয়া চট্টগ্রাম দ্বিতীয় দিনে লিড নেওয়ার পথেই ছিল। এক পর্যায়ে তাদের রান ছিল ৩ উইকেটে ১৫০। এরপর নাসুম আহমেদের দারুণ বোলিংয়ে ভেঙে পড়ে চট্টগ্রামের ব্যাটিং।

৩৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা মাহমুদুল হাসান জয়কে ৮২ রানে থামার সৈয়দ খালেদ আহমেদ। এরপর ইয়াসির আলি চৌধুরি এক প্রান্ত আগলে রাখলেও অন্য প্রান্তে টিকতে পারেননি কেউ। ইয়াসির অপরাজিত থাকেন ৪১ রানে। তার পরের ছয় ব্যাটসম্যানের সম্মিলিত রান ২৬!

এবারের লিগে দ্বিতীয়বার ও ক্যারিয়ারে ত্রয়োদশবার ৫ উইকেটের স্বাদ পান নাসুম।

সিলেট দিন শেষ করে ২ উইকেটে ৮৯ রান নিয়ে। ৩৫ রান করে জাকির হাসান আউট হলেও ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন অভিজ্ঞ সৈকত আলি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)

সিলেট ১ম ইনিংস: ২১৮

চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস: ৬০.১ ওভারে ২১০ (আগের দিন ৬৪/১) (জয় ৮২, সাদিকুর ২৮, আশরাফুল ১৫, শাহাদাত ১২, ইয়াসির ৪১*, ইরফান ৫, শাহ পরান ১, মুরাদ ১২, হাসনাত ৮, রুবেল ০, সানজিদ ০; খালেদ ১০-০-৪৪-১, ইমন ১০-০-৪১-১, নাসুম ২৫-৫-৭২-৫, তোফায়েল ৭-০-২২-১, শাহানুর ৭-১-২৪-০, আল গালিব ১-০-৪-১)।

সিলেট ২য় ইনিংস: ৩৮ ওভারে ৮৯/২ (মুবিন ১০, জাকির ৩৫, সৈকত ৩৬*, অমিত ৪*; রুবেল ৬-২-৮-১, সানজিদ ৪-২-৭-০, আশরাফুল ৮-১-১৯-০, মুরাদ ১১-৪-২০-০, হাসনাত ৫-২-১৬-০, জয় ৪-০-১৬-১)।

ঢাকা-বরিশাল

বৃষ্টি ও ভেজা আউটফিল্ডের রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হতে পারেনি দ্বিতীয় দিনেও।