০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

১১ বছর পর চিরতরে বিদায় নিল নাসার মঙ্গলযান ‘মাভেন’

মহাকাশযানটির মূল বৈজ্ঞানিক গবেষণার মেয়াদ কেবল এক বছর নির্ধারিত হলেও মহাকাশযান মঙ্গলের কক্ষপথে ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত পৃথিবীতে তথ্য পাঠিয়েছে।

১১ বছর পর চিরতরে বিদায় নিল নাসার মঙ্গলযান ‘মাভেন’
এ মহাকাশযানের মাধ্যমেই ‘পার্সিভ্যারেন্স’ রোভারটিকে মঙ্গলে নামানো হয়েছিল। ছবি: নাসা

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Jun 2026, 11:44 AM

Updated : 19 Sep 2026, 02:28 PM

মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথে দীর্ঘ ১১ বছর সফলভাবে কাটানোর পর অবশেষে নাসার প্রোব বা অনুসন্ধানযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।

গেল বছরের ডিসেম্বরে ‘মাভেন’ নামের প্রোবটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সবরকম চেষ্টা করেও মহাকাশযানটিকে আর ‘পুনরুজ্জীবিত’ করা সম্ভব হয়নি।

মহাকাশযানটির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ছয় মাস পর নাসা আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঐতিহাসিক অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।

‘মার্স অ্যাটমোস্ফিয়ার অ্যান্ড ভোলাটাইল ইভোলিউশন’ বা মাভেন ছিল নাসার প্রথম কোনো মিশন, যা বিশেষভাবে মঙ্গল গ্রহের বায়ুমণ্ডল ও এর বিবর্তন নিয়ে গবেষণার জন্য পাঠানো হয়েছিল।

২০১৩ সালে কেপ ক্যানাভেরাল থেকে মহাকাশযানটি উৎক্ষেপিত হয় এবং প্রায় এক বছর পর ২০১৪ সালে তা মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশ করে।

মহাকাশযানটির মূল বৈজ্ঞানিক গবেষণার মেয়াদ কেবল এক বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সব পরিকল্পনা ছাড়িয়ে তা মঙ্গলের কক্ষপথে ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে পৃথিবীতে নিয়মিত তথ্য পাঠিয়েছে।

নাসা তাদের ‘মার্স ২০২০’ মিশনের অ্যান্টেনা হিসেবেও এ মহাকাশযানটিকে ব্যবহার করেছিল, যার মাধ্যমে ‘পার্সিভ্যারেন্স’ রোভারটিকে মঙ্গল গ্রহে নামানো হয়েছিল।

২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর নাসা শেষবারের মতো ‘মাভেন’-এর সংকেত পায়। এর পরপরই মহাকাশযানটি হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। তবে তখনও প্রোবটি নিয়ে আশা ছাড়েনি নাসা।

প্রথমে প্রোবটি উদ্ধারের সম্ভাব্য সব উপায় খতিয়ে দেখেছে সংস্থাটি। মাভেনের অবস্থা মূল্যায়ন করতে ও এটিকে ‘জাগিয়ে তোলার’ কোনো কার্যকর পথ আছে কিনা তা খুঁজে বের করতে ফেব্রুয়ারিতে ‘অ্যানোমালি রিভিউ বোর্ড’ গঠন করেছিল।

তবে দুঃখজনকভাবে শেষ পর্যন্ত বোর্ড সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, মহাকাশযানটি আর কোনো বৈজ্ঞানিক মিশন পরিচালনা বা পৃথিবীতে তথ্য পাঠাতে সক্ষম নয়।

নাসা বলেছে, লাল গ্রহের গভীরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রোবটি একেবারে ঠিকঠাক কাজ করছিল। তবে গ্রহটির আড়াল থেকে ফিরে আসার পর নাসার আন্তর্জাতিক গ্রাউন্ড অ্যান্টেনার বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ‘ডিপ স্পেস নেটওয়ার্ক’ প্রোবটির কোনো সংকেত শনাক্ত করতে পারেনি।

এ নেটওয়ার্ক থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গল গ্রহের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসার পর মাভেন ‘সেইফ মোড’-এ চলে যায় এবং অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে ঘুরতে শুরু করে।

ফলে এর ব্যাটারির সব চার্জ শেষ হয়ে যায় ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এ ত্রুটির মূল কারণ কী ছিল তা জানতে নাসা এখনও তথ্য বিশ্লেষণ করছে এবং এ বছরের শেষদিকে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

মাভেনের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ নাসাকে নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছে, সৌর বায়ু ও সৌর ঝড় প্রতিনিয়ত মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলকে ক্ষয় করে চলেছে। এ কারণে এক সময় বসবাসের উপযোগী থাকা গ্রহটির জলবায়ু এখন এমন ঠাণ্ডা ও শুষ্ক মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।

এ মিশনটি থেকে আরও জানা গেছে, প্রোটন কণার কারণে মঙ্গল গ্রহে এক নতুন ধরনের মেরুজ্যোতি বা অরোরা তৈরি হতে পারে এবং পৃথিবীর মতো কেবল মেরু অঞ্চলে নয়, বরং মঙ্গলের যে কোনো স্থানেই এমনটা ঘটতে পারে।

এ ছাড়া, পুরো মঙ্গল গ্রহ জুড়ে ঘটে যাওয়া একের পর এক ধূলিঝড় কীভাবে গ্রহটির পানির বিভিন্ন অণুকে মহাশূন্যে হারিয়ে যেতে বাধ্য করেছিল বিজ্ঞানীদের তা বুঝতেও দারুণভাবে সাহায্য করেছে মাভেন।