Published : 04 Mar 2026, 10:44 AM
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে তীব্র সমালোচনা ও ব্যবহারকারীদের প্রতিবাদের মুখে পিছু হটল ওপেনএআই। নাগরিকদের ওপর নজরদারি চালানো ও অটোনমাস মারণাস্ত্র তৈরিতে এআই ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে তৈরি বিতর্কের মধ্যে পেন্টাগনের সঙ্গে চুক্তিতে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি।
বিবিসি লিখেছে, চুক্তিটিকে ‘সুযোগ সন্ধানী ও দায়সারা’ বলে সমালোচনা করেছিলেন অনেকে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর গোপন কার্যক্রমে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে এখন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা।
সোমবার ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান বলেছেন, চুক্তিতে নতুন কিছু শর্ত যোগের পরিকল্পনা করছেন তারা। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, মার্কিন নাগরিকদের ওপর নজরদারি চালানোর কাজে তাদের প্রযুক্তির ব্যবহার স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ।
শুক্রবার ওপেনএআই ও পেন্টাগনের মধ্যে এ চুক্তির বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরোধ তৈরি হওয়ার পরই ওপেনএআইয়ের সঙ্গে চুক্তিটি হল।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের সঙ্গে অ্যানথ্রপিকের বিরোধ তৈরির কারণ ছিল গণ নজরদারি ও অটোনমাস মারণাস্ত্রে এআই চ্যাটবট ক্লড ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ।
তবে ঘটনাটি যুদ্ধক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার এবং সরকার ও বেসরকারি কোম্পানিগুলোর হাতে ঠিক কতটা ক্ষমতা থাকা উচিত তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে ওপেনএআই দাবি করেছিল, পেন্টাগনের সঙ্গে তাদের এ চুক্তিতে অন্য যে কোনো চুক্তির, বিশেষ করে অ্যানথ্রপিকের চুক্তির চেয়েও বেশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা বিধিনিষেধ রয়েছে।
তবে সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ অল্টম্যান লিখেছেন, পেন্টাগনের সঙ্গে তাদের চুক্তিতে আরও কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে, তাদের সিস্টেম ব্যবহার করে যেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মার্কিন নাগরিকদের ওপর অভ্যন্তরীণ নজরদারি চালানো না হয়।
নতুন এ সংশোধনী অনুসারে, এনএসএ-এর মতো গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও চুক্তিতে বিশেষ পরিবর্তন বা অনুমতি ছাড়া ওপেনএআইয়ের সিস্টেম ব্যবহার করতে পারবে না।
অল্টম্যান স্বীকার করে বলেছেন, শুক্রবার তাড়াহুড়ো করে এ চুক্তিটি প্রকাশ করা তাদের ভুল ছিল।
“এসব বিষয় খুব জটিল ও এখানে স্পষ্টভাবে যোগাযোগের প্রয়োজন ছিল। আমরা আসলে পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং আরও খারাপ কোনো পরিণতি এড়াতে চেয়েছিলাম। তবে আমার ধারণা তাড়াহুড়োর কারণে বিষয়টি কেবল সুযোগসন্ধানী ও দায়সারা মনে হয়েছে।”
পেন্টাগনের সঙ্গে কাজ করার ঘোষণার পর থেকে ব্যবহারকারীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ওপেনএআই। প্রতিবেদনে অনুসারে, শনিবার চ্যাটজিপিটি মোবাইল অ্যাপ আনইনস্টল বা মুছে ফেলার হার এক লাফে ২৯৫ শতাংশ হয়েছে, যা সাধারণ সময়ে কেবল ৯ শতাংশ থাকে।
অন্যদিকে, এ সুযোগে ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি অ্যানথ্রপিকের অ্যাপ ক্লড অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠে আসে এবং মঙ্গলবার পর্যন্ত অ্যাপটি শীর্ষেই রয়েছে।
এর আগে, ক্লড’কে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। কারণ, অ্যানথ্রপিক তাদের ব্যবসায়িক নীতি বা ‘রেড লাইন’ নীতি থেকে সরতে রাজি হয়নি। কোম্পানিটির ওই নীতি হচ্ছে, অ্যানথ্রপিকের প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনোভাবেই সম্পূর্ণ অটোনমাস মারণাস্ত্র তৈরি করা যাবে না।
তবে ট্রাম্পের এ নিষেধাজ্ঞার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধে ক্লড ব্যবহারের খবর সামনে আসে।
এদিকে, অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে লেনদেনের বিষয়ে বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি পেন্টাগন।