Published : 18 Jul 2026, 03:56 PM
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে প্রচারমূলক অনুষ্ঠান বা সফরের প্রয়োজনীয়তা দেখছেন না নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
তিনি বলেছেন, “পুঁজিবাজার চাঙ্গা করার নামে রোডশোর কোনো প্রয়োজন নাই। ভালো ভালো কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে মার্কেটকে আকর্ষণীয় করতে পারলে বিনিয়োগকারীরা আস্থা ফিরে পাবে।
“রোডশোর নামে অর্থ অপচয় কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। বরং ব্রোকারেজ হাউজগুলোর অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু সংস্কারমূলক কার্যক্রম চলছে। হাউজগুলোতে ঘন ঘন অডিটের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, এতে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা আসবে।”
পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট নিরসনে করণীয় নিয়ে শনিবার এফডিসিতে আয়োজিত ছায়া সংসদে তিনি এ কথা বলেন।
মাসুদ খান বলেন, “খ্যাতনামা বহুজাতিক কোম্পানি ও বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে পুঁজিবাজারে আনতে ডাইরেক্ট লিস্টিং করা হবে। এতে কালক্ষেপণ হবে না। প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী হবে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একীভূত হওয়া ৫টি ব্যাংক ও বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়েও কথা বলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, “এসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সম্পদের চেয়ে দেনা বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে।”
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বিএসইসি কোনো ‘রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই’ কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান মাসুদ খান।
তিনি বলেন, “পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থায় সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

“বর্তমানে বিএসইসির ওপর কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই। বিএনপি সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে পুঁজিবাজারকে চাঙ্গা করার যে অঙ্গীকার করেছিল তা বাস্তবায়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে।”
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে তাদের বক্তব্যে বিএসইসিকে স্বাধীনভাবে কাজ করার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
“বর্তমান কমিশনও কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছে। এতে ধীরে ধীরে শেয়ারবাজারে আস্থার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।”
পুঁজিবাজারকে ‘নতুনভাবে সাজানোর’ অংশ হিসেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে হিসাববিদ ও ঝানু করপোরেট পেশাদার মাসুদ খানকে বেছে নেয় বিএনপি সরকার।
মাসুদ খান ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপের বোর্ডে প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংস্থা ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘ দুই দশকে কাঙ্ক্ষিত গতি পায়নি। দীর্ঘদিনের কারসাজি, আস্থাহীনতা ও সুশাসনের ঘাটতিসহ নানা সংকট মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে পুঁজিবাজার।
“বিগত শাসনামলে গ্যাম্বলারদের কারসাজিতে পরিণত হয়েছিল দেশের পুঁজিবাজার। এবারই প্রথমবারের মতো কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়াই সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে এনে পুঁজিবাজারকে চাঙ্গা করতে ভূমিকা রাখবে।”