Published : 22 Aug 2025, 04:53 PM
সরকারি সহায়তা কিছুটা কমে গেলেও ব্যক্তিগত খাতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প এখনও এগিয়ে চলছে যুক্তরাষ্ট্রে। পাশাপাশি, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে এ ধরনের প্রকল্পের নির্মাণ কাজ আরও কার্যকর ও দ্রুত হচ্ছে।
আগে সোলার ফার্ম বা সৌর খামার তৈরি করতে খুব যত্নসহকারে পরিকল্পনা, জরিপ, অনেক সময় ও প্রচুর শ্রম লাগত। তবে এখন এসব কাজে রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে কাজ আরও সহজ ও দ্রুত হয়ে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
‘সিভডট’ নামের চার চাকার রোবটটি জমিতে দিনে তিন হাজার পর্যন্ত লে-আউট পয়েন্ট চিহ্নিত করতে পারে। এটি উঁচু-নিচু জমিতে চলাচলের পাশাপাশি খারাপ আবহাওয়াতেও কাজ করতে পারে।
রোবটটি তৈরি করেছে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক কোম্পানি ‘সিভ রোবোটিক্স’।
সিভ রোবোটিক্স-এর সিইও টম ইয়েশুরুন বলেছেন, “আমাদের রোবটের গোপন অস্ত্র ও মূল প্রযুক্তি হচ্ছে ন্যাভিগেশন আর জিওস্পেশিয়াল সিস্টেম, যার মাধ্যমে আমরা খুব নিখুঁতভাবে জায়গা চিহ্নিত করতে পারি, এমনকি মাটির ঢেউ খেলানো বা অসমান জায়গাতেও। কঠিন পরিবেশেও সফলভাবে কাজ করেছে প্রযুক্তিটি।”
প্রথমে ম্যানুয়াল জরিপ থেকে সংগৃহীত তথ্য রোবটের সফটওয়্যারে আপলোড করা হয়। তারপর অপারেটর একটি এলাকা নির্বাচন করে ‘গো’ বাটনে চাপ দিলে রোবটটি বাকি কাজ করে ফেলে। ফলে সাশ্রয় হয় সময় ও খরচ দুটোই।
ইয়েশুরুন বলেছেন, “ম্যানুয়াল জরিপে মাঠে কাজ করতে হলে অনেক লোকবল ও সার্ভেয়িং যন্ত্র লাগে। কেবল এসব যন্ত্রের খরচই আমাদের একটি রোবট ভাড়া দেওয়ার খরচের সমান। আর এর সঙ্গে যে শ্রম খরচ কমে যায় সেটিও বোনাসের মতো সুবিধা দেয়।”
এরইমধ্যে একশটিরও বেশি রোবট মাঠে ব্যবহার করছে সিভ রোবোটিক্স, যেগুলোর মূল ব্যবহারকারী পরিবেশবান্ধব জ্বালানিনির্ভর বিভিন্ন কোম্পানি। তবে এসব রোবট তেল ও গ্যাস খাতেও ব্যবহার হচ্ছে। বর্তমানে ‘বেচটেল কর্পোরেশন’-এর সঙ্গে একাধিক সৌর প্রকল্পে কাজ করছে কোম্পানিটি।
‘বেচটেল কর্পোরেশন’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট কেলি ব্রাউন বলেছেন, “আগে আমরা মাঠে যাদের পাঠাতাম তারা ছিলেন বেশ উচ্চ বেতনের ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ার। দিনে সাধারণত আড়াই থেকে সাড়ে তিনশটি পাইল মার্ক বা গাঁথুনির চিহ্ন দিতে পারতেন তারা। তবে এখন সিভডট রোবট ব্যবহার করে আমরা দিনে প্রায় সোয়া হাজার পয়েন্ট চিহ্নিত করতে পারছি।”
ব্রাউন আরও বলেছেন, এ রোবট টেক্সাসের কাদা ও ঘন মাটির এলাকায় এবং নেভাদার মরুভূমিতেও ব্যবহার করেছে তারা।
“রোবট যেন কাদা, ঝোপঝাড় বা উঁচুনিচু জমিতে ঠিকমতো চলতে পারে সেজন্য এর চাকা ও নিচের ফাঁক কেমন হবে তা গুরুত্ব দিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে। আপনি কি সোলার ফিল্ডের মধ্যে থাকা গাছপালা বা ঝোপঝাড়ের ওপর দিয়ে রোবট চালাতে চান? এমন বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। আরেকটি বিষয় হল এ রোবট ব্যাটারিতে চলে। ফলে এর ব্যাটারি বদলানোর কথাও মাথায় রাখতে হয়।”
এ কাজে সিভ রোবোটিক্স’কে আর্থিকভাবে সহায়তা করছে অ্যালিকর্প, এফএফ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, ববক্যাট কোম্পানি, নিউফান্ড ক্যাপিটাল, ট্রিম্বল ভেঞ্চারস ও কনভার্জ এর মত কোম্পানি। এ পর্যন্ত মোট এক কোটি ২৫ লাখ ডলার তহবিল পেয়েছে কোম্পানিটি।
ইয়েশুরুন বলেছেন, জমিতে চিহ্নের জন্য অন্যান্য রোবটিক সমাধান থাকলেও সেগুলোর বেশিরভাগই কাজ করে হাইওয়ে বা ফুটবল মাঠের মতো সমতল জায়গায়। তবে যেসব কঠিন ও অমসৃণ জায়গায় বিভিন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারিত হচ্ছে, সেখানে এগুলো কাজ করতে পারে না।