Published : 13 May 2026, 12:01 PM
চ্যাটজিপিটি এখন কেবল চ্যাটবট নয়, বরং বিভিন্ন প্রজন্মের কাছে এর ব্যবহার ভিন্ন, যেখানে বয়স্করা একে গুগলের বিকল্প হিসেবে দেখলেও তরুণরা জীবন গড়ার পরামর্শক হিসেবে ব্যবহার করছে বলে দাবি ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যানের।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সাময়িকী ফরচুন প্রতিবেদনে লিখেছে, চ্যাটজিপিটি যত বেশি উন্নত হচ্ছে এর বাস্তব ব্যবহারের পরিধিও ততটাই বাড়ছে। অল্টম্যানের পর্যবেক্ষণ অনুসারে, বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষ এ প্রযুক্তিটিকে ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।
গেল বছরের মে মাসে ‘সেক্যোয়া ক্যাপিটাল’-এর ‘এআই অ্যাসেন্ট’ অনুষ্ঠানে অল্টম্যান বলেছেন, বয়স্ক ব্যক্তিরা সাধারণত তথ্যের খোঁজে চ্যাটজিপিটিকে গুগলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে, ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী ব্যবহারকারীরা একে জীবন চলার পথের বিভিন্ন পরামর্শের জন্য একজন উপদেষ্টার মতো দেখছেন।
আবার কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কাছে চ্যাটজিপিটি যেন তাদের প্রাত্যহিক সব কাজের মূল চালিকাশক্তি বা অপারেটিং সিস্টেম হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অল্টম্যান।
বিনিয়োগের দিক থেকেও ওপেনএআইয়ে উত্থান চোখে পড়ার মতো। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি ‘সেক্যোয়া’ ২০২১ সালে প্রথম এ কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছিল। ওই সময় ওপেনএআইয়ের বাজার মূল্য ছিল কেবল ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার।
তবে অতি সম্প্রতি ইতিহাসের অন্যতম বড় বিনিয়োগের পর কোম্পানিটির বর্তমান বাজার মূল্য ৮৫ হাজার ২০০ কোটি ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
সেক্যোয়া কেবল ওপেনএআই নয়, বরং অ্যাপল, ইউটিউব, এনভিডিয়া, রেডিট ও এয়ারবিএনবি’র মতো বিশ্বের আরও অনেক বড় প্রযুক্তি কোম্পানিতে মোটা অংকের বিনিয়োগের জন্য পরিচিত।
প্রজন্মভেদে চ্যাটজিপিটির ব্যবহার
জেনারেশন জেড বা জেন জি ও মিলেনিয়ালদের মধ্যে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের ধরন নিয়ে অল্টম্যানের পর্যবেক্ষণ বেশ কৌতূহলোদ্দীপক।
তার মতে, তরুণ প্রজন্মের কাছে চ্যাটজিপিটি কেবল চ্যাটবট নয়, বরং তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেন ও মিলিনিয়ালদের চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের পার্থক্যের বিষয়ে অল্টম্যান বলেছেন, “তরুণরা এ প্রযুক্তিটিকে অনেকটা অপারেটিং সিস্টেমের মতো ব্যবহার করছে। তারা জটিল উপায়ে চ্যাটজিপিটি সেটআপ করে এবং বিভিন্ন ফাইলের সঙ্গে যোগ করে নেয়। তাদের কাছে বেশ জটিল সব প্রম্পট মুখস্থ থাকে বা কোথাও তারা এসব সংরক্ষণ করে রাখে।”
তরুণদের এই দক্ষতা যেমন চমকপ্রদ তেমনই এর আরেকটি দিকও রয়েছে বলে উল্লেখ করে অল্টম্যান বলেছেন, “তারা এখন জীবনের কোনো সিদ্ধান্তই চ্যাটজিপিটির পরামর্শ ছাড়া নিতে চান না।”
২০২৫ সালে প্রকাশিত ওপেনএআইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অন্য যে কোনো ব্যবহারকারীর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ পড়ুয়া তরুণরা চ্যাটজিপিটিকে সবচেয়ে বেশি আপন করে নিয়েছে। বর্তমানে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বেশি নিয়মিত চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করছেন।
তরুণ ব্যবহারকারীদের এমনটি করতে পারার কারণ হচ্ছে, চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর সঙ্গে হওয়া আগের বিভিন্ন আলাপ মনে রাখতে পারে।
এ প্রসঙ্গে অল্টম্যান বলেছেন, “চ্যাটজিপিটি তাদের জীবনের প্রতিটি মানুষ ও তাদের সঙ্গে হওয়া আলাপচারিতার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানে।”
বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মানুষ সম্পর্কের জটিলতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক ও চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রশ্নের জন্য চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করছে। কেউ কেউ চ্যাটজিপিটিকে ‘টক থেরাপি’র বিকল্প হিসেবেও নিয়েছে।
তবে এসব ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা জীবনের বড় বড় সিদ্ধান্তের জন্য চ্যাটজিপিটির পরামর্শ নেওয়া কতটা নিরাপদ বা বুদ্ধিমানের কাজ হবে তা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত।
যেমন, ২০২৩ সালের নভেম্বরে এক গবেষণায় বলা হয়েছিল, “নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য ও বিশেষজ্ঞ যাচাইকরণের ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের সময় সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। সেইসঙ্গে নৈতিক বিচার-বিশ্লেষণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকা জরুরি, যাতে ব্যবহারকারীরা এর সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারেন এবং সঠিক পরামর্শ পান।”
আরেক গবেষণায় বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটির মতো বিভিন্ন ‘লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’ বা এলএলএম ‘প্রকৃতিগতভাবেই সমাজবিমুখ বা সমাজবিচ্ছিন্ন’। ফলে এদের দেওয়া পরামর্শের ওপর ভরসা করা কঠিন।
তবে অন্যান্য গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় উঠে এসেছে, সাধারণ পরামর্শের ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করা ক্ষতিকর নয়, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা বেশ সহায়কও হতে পারে।
চ্যাটজিপিটির পরামর্শ গ্রহণ করা কতটা নিরাপদ বা নির্ভরযোগ্য সে বিষয়ে ফরচুনের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি ওপেনএআই।
সেক্যোয়া ক্যাপিটালের ওই অনুষ্ঠানে অল্টম্যান বলেছিলেন, “একজন ২০ বছর বয়সী তরুণ চ্যাটজিপিটিকে যেভাবে ব্যবহার করে তার সঙ্গে বয়স্ক প্রজন্মের ব্যবহারের পার্থক্য বিস্ময়কর, যা আমাকে স্মার্টফোন যখন প্রথম বাজারে এসেছিল সেই সময়ের কথেই মনে করিয়ে দিয়েছে।
“ওই সময় দেখা যেত প্রতিটি শিশু স্মার্টফোন খুব চমৎকারভাবে ব্যবহার করতে পারছে। অথচ বয়স্ক মানুষদের জন্য সাধারণ বিভিন্ন বিষয় শিখতেই প্রায় তিন বছর সময় লেগে যেত।”