Published : 14 Jul 2026, 02:10 PM
প্রাইমারি স্কুলে স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করার কথা পুরোনো বিষয়। কিন্তু এবার এমন উদ্যোগ নিল আমেরিকার এক বিশ্ববিদ্যালয়। তারা নিষিদ্ধ করেছে ল্যাপটপ ও স্মার্টফোনসহ যাবতীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস।
‘ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো’র ল স্কুল আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ক্লাসরুমে ল্যাপটপ, স্মার্টফোনসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।
এআইয়ের যুগে শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চিন্তাশক্তি ও মৌলিক আইনি দক্ষতার বিকাশ ঘটানোই এ সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, প্রযুক্তি নির্ভরতা কাটিয়ে একজন দক্ষ আইনজীবীর জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটানোই এ নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য।
বিবৃতিতে ল স্কুল বলেছে, “শিক্ষার্থীরা যেন এআইয়ের ওপর ভরসা না করে স্বকীয়তা, কৌশলগত দিক ও গভীরভাবে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখে তা নিশ্চিত করতেই আমাদের এই পদক্ষেপ।”
পাশাপাশি পরীক্ষা পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসছে, যেখানে এখন থেকে ক্লাসরুমের ভেতরেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং পরীক্ষা চলাকালীন ইন্টারনেট, কোনো ইলেকট্রনিক ফাইল বা অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।
কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, “প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তনশীল। ফলে ল স্কুলের এসব বর্তমান নিয়ম পরবর্তীতে প্রযুক্তি ও আইনি পেশার বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পুনর্মূল্যায়ন, পুনর্বিবেচনা ও সংশোধন করা হতে পারে।”
বিশ্ববিদ্যালয় এটাও স্বীকার করেছে, এআই বর্তমানে আইনি পেশার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ফলে ক্লাসরুমে এআই নিষিদ্ধের পাশাপাশি কোর্সের একটি নির্দিষ্ট অংশে শিক্ষার্থীদের এআই শেখানো হবে, যেন তারা ভবিষ্যতে পেশাগত জীবনে ‘দায়িত্বশীল, কার্যকর ও নৈতিক’ উপায়ে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার করতে পারে।
এপ্রিলে পরিচালিত এক গবেষণা অনুসারে, এআই বা অটোমেশনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা পেশাগুলোর মধ্যে আইন খাত অন্যতম।
‘এআই এক্সপোজার ইনডেক্স’ নামের ওই গবেষণায় শতভাগ আইন পেশাকেই ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। যার মানে দাঁড়ায়, এই পেশার জ্ঞানীয় বা বুদ্ধিবৃত্তিক বিভিন্ন কাজ এখন এআইয়ের মাধ্যমে করা সম্ভব।
এদিকে, গেল মাসে, যুক্তরাজ্যের এক এআইচালিত ল ফার্ম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক সফল মামলার প্রস্তুতিতে ‘এআই আইনজীবী’ ব্যবহার করে নতুন নজির তৈরি করেছে।
‘গারফিল্ড এআই’ নামের কোম্পানিটি সাক্ষী বা প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি সংগ্রহ এবং ট্রায়ালের প্রস্তুতি নেওয়ার কাজে তাদের এই এআই আইনজীবীকে ব্যবহার করেছে। পরবর্তীতে একজন মানব ব্যারিস্টার আদালতে সেই মামলাটি উপস্থাপন করেন।
এক লিংকডইন পোস্টে গারফিল্ড এআইয়ের প্রধান নির্বাহী ও প্রতিষ্ঠাতা ফিলিপ ইয়ং লিখেছেন, “এমন নজির বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে হিউম্যান অপজিশন বা মানুষের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একজন এআই আইনজীবীর জেতা ইতিহাসের প্রথম ট্রায়াল, যা সবার জন্য আইনি সহায়তার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা।”