Published : 20 Sep 2025, 01:34 PM
আবহাওয়ার মতোই ভবিষ্যতে মানুষের স্বাস্থ্যের পূর্বাভাস দিতে পারবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই– এমনই দাবি বিজ্ঞানীদের।
তারা বলছেন, এআই এমন সক্ষমতা অর্জন করেছে যে, মানুষের স্বাস্থ্যগত সমস্যার বিষয়ে দশ বছর আগেই পূর্বাভাস দিতে পারবে এটি।
এ প্রযুক্তি মানুষের চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য থেকে নির্দিষ্ট ধরনের প্যাটার্ন শনাক্ত করতে শিখেছে। যার মাধ্যমে এআই এক হাজারেও বেশি রোগের ঝুঁকি হিসাব করতে পারবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
গবেষকরা বলছেন, বিষয়টি অনেকটা আবহাওয়ার পূর্বাভাসের মতো। ঠিক যেমন ৭০ শতাংশ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয় তেমনই মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকির পূর্বাভাস দেবে এআই।
গবেষকদের লক্ষ্য, এআই মডেল ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের আগেভাগেই শনাক্ত করা, যাতে তাদের রোগ প্রতিরোধ করা যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতালও যেন এআই ব্যবহার করে আগে থেকে বুঝতে পারে এদের এলাকায় ভবিষ্যতে কোন রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে।
‘ডেলফি-২এম’ এআই মডেলটি পরিচিত বিভিন্ন এআই চ্যাটবট যেমন চ্যাটজিপিটির মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি। বিভিন্ন এআই চ্যাটবটকে ভাষার প্যাটার্ন বা ধরন বুঝতে শিখানো হয়, যাতে এরা বাক্যের পরবর্তী বিভিন্ন শব্দ কী হতে পারে তার সঠিক পূর্বাভাস দিতে পারে।
‘ডেলফি-২এম’ মডেলটি চিকিৎসা রেকর্ড থেকে প্যাটার্ন শনাক্ত করতে প্রশিক্ষিত। ফলে মডেলটি ভবিষ্যতে কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা কখন ঘটতে পারে সে সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে পারবে।
তবে নির্দিষ্ট তারিখ যেমন ১ অক্টোবর হার্ট অ্যাটাক হবে তেমন পূর্বাভাস দেবে না, বরং এক হাজার দুইশো ৩১টি রোগের ঝুঁকির মাত্রা কেমন হতে পারে তা অনুমান করতে পারবে এআই।
ইউরোপীয় ‘মলিকিউলার বায়োলজি ল্যাবরেটরি’র অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ইউয়ান বার্নি বলেছেন, “ঠিক যেমন আবহাওয়ায় আমরা বলতে পারি কত শতাংশ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে তেমনি আমরা স্বাস্থ্য সম্পর্কেও এমন পূর্বাভাস দিতে পারি।
“আর আমরা এমনটি কেবল রোগের জন্য নয়, বরং একসঙ্গে সব রোগের ক্ষেত্রেই করতে পারি, যা আগে কখনও সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে খুবই আশাবাদী আমি।”
শুরুতে এআই মডেলটি তৈরি হয়েছে যুক্তরাজ্যের চিকিৎসা তথ্য ব্যবহার করে। যার মধ্যে রয়েছে, হাসপাতালের ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য যেমন– জেনারেল প্র্যাকটিশনার বা জিপি, রোগীদের পারিবারিক চিকিৎসার পাশাপাশি ধূমপানসহ জীবনের অভ্যাসগত তথ্য।
গবেষকরা এসব তথ্য সংগ্রহ করেছেন ‘ইউকে বায়োব্যাংক’ নামের গবেষণা প্রকল্পের অংশ হিসেবে, যেখানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে চার লাখেরও বেশি মানুষের তথ্য।
এরপর মডেলটিকে ‘ইউকে বায়োব্যাংক’-এর অন্যান্য অংশগ্রহণকারীর তথ্য দিয়ে পরীক্ষা করেছেন গবেষকরা। তারপরে ডেনমার্কের ১৯ লাখ মানুষের চিকিৎসা রেকর্ড ব্যবহার করে দেখা হয়েছে মডেলটির পূর্বাভাস কতটা সঠিক।
অধ্যাপক বার্নি বলেছেন, “ডেনমার্কে এর ফলাফল খুবই ভালো, সত্যিই ভালো।
“আমাদের মডেল যদি বলে, আগামী এক বছরে কোনো রোগের ঝুঁকি ১০ জনের মধ্যে একজনের, তবে বাস্তবেও সেটি সত্যি হবে বলেই মনে হচ্ছে।”
মডেলটি সবচেয়ে ভালোভাবে পূর্বাভাস দিতে পারে টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক ও সেপসিসের মতো রোগের ক্ষেত্রে, যেগুলোর ধারাবাহিক ও সুস্পষ্টভাবে শরীরে রোগ বাড়তে থাকে সেসব রোগের বেলায়।
তবে কম ইনফেকশন বা সংক্রমণের মতো এলোমেলো ও হঠাৎ ঘটতে পারে এমন রোগের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম কার্যকর মডেলটি।