Published : 18 Jul 2026, 09:29 AM
বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এসেছিলেন দিদিয়ে দেশোঁ। সেমি-ফাইনালের হারে এখন খেলতে হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। অধিনায়ক ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জেতা দেশোঁর জন্য ম্যাচটি ‘গুরুত্বহীনই’। এই ম্যাচ দিয়ে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে যাত্রাও শেষ হবে তার।
মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় ১৯ জুলাই ৩টায় (এএম) তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। ম্যাচটিতে কিলিয়ান এমবাপে অবশ্য নামবেন দারুণ এক লক্ষ্য নিয়ে। লিওনেল মেসির সমান আট গোল তার। দুজনেই আছেন গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে।
চলতি আসরে ফেভারিট দলগুলোর ছোট তালিকায় ছিল দল দুটি। স্পেনের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে ২-০ গোলে হেরে দাপুটে পথচলা থামে ফ্রান্সের। আর ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর, ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যায় সেরা চারের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের সেরা একাদশে দুই দলই আনতে পারে অনেক পরিবর্তন।
এই ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে ফ্রান্সের ডাগআউটে দেশোঁর ১৪ বছরের অধ্যায়। এই সময়ে তিনি দলটিকে এনে দিয়েছেন ২০১৮ বিশ্বকাপের শিরোপা। এর চার বছর পর, কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালেও ওঠে দলটি, কিন্তু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে টাইব্রেকারে হার মানে তারা। বিশ্বকাপে দেশোঁর কোচিংয়ে টানা তিন আসরে অন্তত সেমি-ফাইনাল খেলেছে ফ্রান্স।
৫৭ বছর বয়সী এই কোচ বড় আশা করেছিলেন, শিরোপা জিতে দায়িত্ব ছাড়বেন। কিন্তু তার আশা অপূর্ণই রয়ে গেল। তবে, এমবাপে-চুয়ামেনিদের সামনে সুযোগ, এক যুগ ধরে ফ্রান্সকে শক্তিশালী ও ধারাবাহিক দলে পরিণত করা কোচকে জয়ের হাসিতে বিদায় দেওয়ার।
৪৮ দলের টুর্নামেন্টে দুটো দলই এখন শারীরিক ও মানসিকভাবে নিঃশেষ হওয়ার পর্যায়ে। বিশেষ করে, সেমি-ফাইনালের হার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে তাদের। ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল তো বলে দিয়েছেন, এই ম্যাচ নিয়ে আগ্রহ নেই কারো।
"এই খেলোয়াড়দের কেউই, ফরাসি খেলোয়াড়দের কেউই এই ম্যাচটি খেলতে চায় না। তারা ফাইনালে খেলতে চায়। ফাইনালে ওঠার জন্য আমরা সবকিছু দিয়েছি।"
ধারণা করা হচ্ছে, ফ্রান্সও সেরা একাদশে একাধিক পরিবর্তন আনবে। যারা কম খেলার সুযোগ পেয়েছেন, তাদেরকে সুযোগ দিতে পারেন দেশোঁ। ক্লান্তিকর অভিযানের পর একই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন ইংল্যান্ড কোচ টুখেলও।
ফ্রান্স অধিনায়ক এমবাপের অবশ্য শুরু থেকে খেলার সম্ভাবনা বেশি। কেননা, গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আছেন সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ২০ গোল করা এই তারকা। এই মুহূর্তে আর্জেন্টিনার মেসি আছেন বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি গোল করা তালিকার শীর্ষে; ২১টি।
অনেকের কাছে ম্যাচটি গুরুত্বহীন মনে হলেও, এমবাপের জন্য মায়ামির ম্যাচটি হতে পারে দারুণ উপলক্ষ। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে হওয়ায় তিনি খেলতে পারবেন নির্ভার হয়ে।
স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নিয়ে দুই দলেরই প্রত্যাশা নেই বললেই চলে। কিন্তু উভয় পক্ষের জন্য সুযোগ থাকবে শেষবারের মতো ছাপ রাখার। ফ্রান্সের জন্য দুটি কারণে আবার ম্যাচটি একেবারে ‘গুরুত্বহীন’ হচ্ছে না। প্রথমত, এমবাপের সামনে থাকছে ইতিহাস গড়ার সুযোগ, দ্বিতীয়ত মুঠোভরে দেওয়া দেশোঁকে জয়ের হাসিতে অন্তত বিদায় দেওয়া।