Published : 17 Jul 2026, 07:59 AM
প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় কোপা আমেরিকা ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের দুই শিরোপাধারী। এর আগে আলাদা আলাদাভাবে দুই মহাদেশের ওই সময়ের (বর্তমান) চ্যাম্পিয়ন দল মোট আট বার খেলেছে বিশ্বকাপের ফাইনাল।
মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট পরে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড গড়ে পশ্চিম জার্মানি। পরে, ২০১০ সালে স্পেন ও ২০২২ সালে আর্জেন্টিনা গড়ে সেই কীর্তি।
২০০৮ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী স্পেন ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে জেতে ট্রফি। আর ২০২১ কোপা আমেরিকা জয়ী আর্জেন্টিনা ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পথে ফাইনালে হারায় ফ্রান্সকে।
এবার মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ আগেই পাওয়া দুই দল স্পেন ও আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে ফাইনালে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ২০ জুলাই ১টায় (এএম) শুরু হবে এবারের শিরোপা লড়াই।
এর আগে মহাদেশীয় শিরোপা জিতে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা দলগুলো কেমন ফল করেছে, তা একটু দেখা যাক।
১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালে উরুগুয়ের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা মাঠে নামে কোপা আমেরিকা জয়ী হিসেবে; প্রথমার্ধে ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে তারা হেরে যায় ৪-২ ব্যবধানে।
এরপর আরও দুইবার দুটি দল বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন হয়ে।
এই তকমা নিয়ে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারে ব্রাজিল। আর, কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রথম বিশ্বকাপে না পারার ব্যর্থতা ভুলে, ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। সেবার ফাইনালে ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয়ীরা টাইব্রেকারে হারায় ফ্রান্সকে।
লাতিন আমেরিকা ফুটবলের মুকুট পরে ব্রাজিল ১৯৫০ বিশ্বকাপ জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েছিল। তবে, সেই বিশ্বকাপের ফরম্যাটে কোনো ফাইনাল ছিল না। শেষ ধাপে চার দলের গ্রুপ পর্বে সেরা দল হয় চ্যাম্পিয়ন। শেষ ম্যাচে ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন হতো ব্রাজিল, কিন্তু ঘরের মাঠে ম্যাচটি হেরে যায় আগের বছর কোপা আমেরিকা জয়ীরা।
ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসর বসে ১৯৬০ সালে। তাই এর আগের বিশ্বকাপগুলো পরিসংখ্যানের এই পাতার বাইরে।
ইউরোপ সেরার মুকুট মাথায় নিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা প্রথম দল ইতালি, ১৯৭০ আসরে। সেবার ব্রাজিলের বিপক্ষে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল দলটি।
চার বছর পর, ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপেও বাজিমাত করেছিল পশ্চিম জার্মানি। ১৯৭২ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়ন দলটি ১৯৭৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে পরেছিল বিশ্ব সেরার মুকুটও।
আবার ১৯৮০ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর, ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপেও ফাইনালে ওঠে পশ্চিম জার্মানি; কিন্তু সেবার মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখতে হয় তাদের। তাদেরকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দেয় ইতালি।
এর ২৮ বছর পর, ইউরোপ সেরার তকমা নিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করে স্পেন। ২০০৮ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী দলটি দুই বছর পর, বিশ্বকাপ ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারায় ১-০ ব্যবধানে।
ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন কয়েকটি দলের জন্য বিশ্বকাপ ঘিরে খুব বাজে অভিজ্ঞতাও আছে। যেমন, ইউরোপ সেরা হয়েও কাতার বিশ্বকাপে ইতালির জায়গাই হয়নি! বাছাইপর্বের বাধা টপকাতে পারেনি চারবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা। ওই আসরের আগে-পরে মিলিয়ে টানা তিনবার বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি ইতালি।
এর আগে চেকোস্লাভিয়া (১৯৭৮), ডেনমার্ক (১৯৯৪) ও গ্রিসকে (২০০৬) একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে।
কোপা আমেরিকায় শিরোপাজয়ী দলগুলোর মধ্যে এই তালিকা করলে সেখানে পাওয়া যাবে পাঁচটি দল। অবশ্য, ১৯৩৭ সালের কোপা আমেরিকা জয়ী আর্জেন্টিনা পরের বছরের বিশ্বকাপ থেকেৱ নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।
প্যারাগুয়ে দুইবার মহাদেশ সেরা হয়েও বাছাইপর্বে বাধা পেরোতে না পারায় খেলতে পারেনি বিশ্বকাপ (১৯৫৪ ও ১৯৮২)। এই তালিকায় আরও আছে বলিভিয়া (১৯৬৬), কলম্বিয়া (২০০২) ও চিলি (২০১৮)।