Published : 17 Jul 2026, 09:15 AM
সামাজিক মাধ্যমে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়ে চর্চা চলছে তুমুল। প্রতিপক্ষ দলগুলোর কোচ-ফুটবলার, সাবেক ফুটবলার ও বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলেছেন অনেক কিছু। তুলেছেন প্রশ্ন। লিওনেল মেসি সবকিছুর জবাব দেখছেন ফলাফলে। আর্জেন্টাইন জাদুকরের মতে, লোকে পছন্দ করুক বা না করুক, সেরা দল আর্জেন্টিনা এবং টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে নিজেদের সেই শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন তারা।
পক্ষপাতমূলক রেফারিং এবং কর্তৃপক্ষের স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে আর্জেন্টিনার জয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন যারা, তাদের জন্যই মূলত মেসির এই জবাব। চলতি বিশ্বকাপের নকআউটে বারবার কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়েও যেভাবে জয় আদায় করেছে দল, পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ানোর যে অসাধারণ সামর্থ্য দেখিয়েছে, বিশ্বজয়ী দলের মানসিকতা থেকেই সেটা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন আজেন্টাইন অধিনায়ক।
সেমি-ফাইনালে ওঠার পথে কেইপ ভার্ড ও সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে হারায় আর্জেন্টিনা। সেই দুই জয়ের মাঝে ছিল মিশরের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় এক প্রত্যাবর্তনের গল্প। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার ১১ মিনিট আগে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে জিতে যান মেসিরা।
কিন্তু ম্যাচের পর মিশর ও সুইজারল্যান্ডের কোচ রেফারিংয়ের সমালোচনা করেছেন। মিশরের হোসাম হাসান তো এরকম ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মেসি এবং আর্জেন্টিনাকে টিকিয়ে রাখতে চায় ফিফা। এমনকি মিশরের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও অন্যায্য ও পক্ষপাতদুষ্ট রেফারিংয়ের অভিযোগ তুলে বলেছে, “চুপ থাকতে পারে না।”
এছাড়া বিশ্বজুড়ে সামাজিক মাধ্যমে নানারকম প্রচার তো চলছেই।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও ঘুরে দাঁড়ানোর আরেকটি অধ্যায় রচনা করে মেসি বলছেন, ফলাফলেই মিশে আছে তাদের জবাব। তাদের সাফল্য কারও কাছ থেকে পাওয়া নয়।
“গত চার বছর ধরে আমরাই সেরা, এটা আপনার ভালো লাগুক বা না লাগুক কিংবা কে কী বলল, তাতে কিছু যায় আসে না। আরও একবার আমরা বিশ্বের সেরা দুই দলের মধ্যে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছি। এটি প্রমাণ করে যে, আমরা যা কিছু করেছি তা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না এবং কোনো কিছুই আমাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি।”
একের পর এক ওঠা অভিযোগগুলো স্রেফ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে আর্জেন্টিনা দলের পক্ষ থেকে। কোচ লিওনেল স্কালোনি তো এক পর্যায়ে এসবে কান দিতেই চাননি এবং সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা সাংবাদিকদের তিনি পরামর্শ দেন “সামাজিক মাধ্যমে বেশি সময় না কাটাতে।”
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে অবশ্য তেমন কোনো অভিযোগ বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব শোনা যায়নি। তবে এই ম্যাচে হেরে গেলে যে সমালোচনার তির চারপাশ থেকে ছুটে আসত, জানেন মেসি।
“পরপর দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছানো এমন একটি কৃতিত্ব যা খুব কম দলই অর্জন করে, এবং এই দলটি তা করে দেখিয়েছে। যদি আমরা ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যেতাম, তাহলে কিছু লোক এসে আজেবাজে কথা বলত, কিন্তু আমরা তাদের সেই সুযোগ দিইনি।”