Published : 18 Jul 2026, 08:30 AM
এক বছর আগে এই সবুজ আঙিনাতেই বিশ্ব জয়ের আনন্দে মেতেছিলেন মার্ক কুকুরেইয়া ও এন্সো ফের্নান্দেস। তাদের সামনে এবার আরও বড় কিছুর হাতছানি, আরও বড় মঞ্চে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের চ্যালেঞ্জ। তবে, গত বছর তারা যেটা করেছিলেন একসঙ্গে, এবার লক্ষ্য ছুঁতে হারাতে হবে একে অপরকে।
গত বছর এই মাসেই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে পিএসজিকে ৩-০ গোলে গুঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল চেলসি, যে দলে ছিলেন কুকুরেইয়া ও ফের্নান্দেস। আগামী রোববার এই মাঠে আন্তর্জাতিক ফুটবলের বিশ্বকাপে মুখোমুখি হবে কুকুরেইয়ার স্পেন ও ফের্নান্দেসের আর্জেন্টিনা।
ক্লাব ফুটবলে ইতোমধ্যে অবশ্য ঠিকানা বদলে গেছে এই দুই জনের। এবারের বিশ্বকাপ চলার মাঝেই লেফট-ব্যাক কুকুরেইয়া যোগ দিয়েছেন রেয়াল মাদ্রিদে, মিডফিল্ডার ফের্নান্দেস অবশ্য এখনও আছেন চেলসিতেই।
আসছে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে দেখে নেওয়া যাক, ক্লাব বিশ্বকাপে ও চলতি জাতীয় দলের বিশ্বকাপে তাদের পারফরম্যান্স।
মার্ক কুকুরেইয়া
২০২৪ সালে দেশের হয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পরের বছর, প্রথম বিশ্ব জয়ের স্বাদ পান কুকুরেইয়া, ২০২৫ ক্লাব বিশ্বকাপে। চেলসির ওই অবিশ্বাস্য অভিযানে দলটির রক্ষণের খুব গুরুত্বপূর্ণ একজন ছিলেন তিনি; প্রথমবারের মতো ৩২ ক্লাবের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নতুন আঙ্গিকের ওই প্রতিযোগিতায় নকআউট পর্বে কেবল দুটি গোল হজম করেছিল প্রিমিয়ার লিগের দলটি।
চলতি বিশ্বকাপে ম্যাচের পর ম্যাচ দারুণ পারফরম্যান্সে ক্যারিয়ারকে নতুন এক পর্যায়ে তুলে ধরেছেন কুকুরেইয়া। ফাইনালে ওঠার পথে স্পেন কেবল একটি গোল হজম করেছে, এর অর্থ-ছয় ম্যাচেই জাল অক্ষত রেখেছে তারা, আর দলের এই জমাট রক্ষণে বড় অস্ত্র কুকুরেইয়া।
ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে সময়ের সেরা ফুল-ব্যাকদের একজন হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার। অবশ্য, রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণেও পারদর্শী তিনি। শেষ বত্রিশে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের জয়ের পথে, মিকেল ওইয়ারসাবালের দুটি গোলে অ্যাসিস্ট করেন তিনি, দলের তৃতীয় গোলটির আক্রমণের সুরও বেঁধে দেন কুকুরেইয়া।
আসরের শুরু থেকে ম্যাচের পর ম্যাচ মাইকেল ওলিসে ছিলেন দুর্দান্ত। কিন্তু সেমি-ফাইনালে এই ফরাসি ফরোয়ার্ডকে অসাধারণভাবে আটকে রাখেন কুকুরেইয়া।
তাই, টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে এই ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করার পথ খুঁজতে হবে আর্জেন্টিনাকে।
এন্সো ফের্নান্দেস
ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে ৩৬ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে, কাতার বিশ্বকাপে উৎসব করে আর্জেন্টিনা। তাদের সেই মিশনের মূল নায়ক অবশ্যই ছিলেন লিওনেল মেসি। তবে, যে কজন আলাদাভাবে নজর কেড়েছিলেন, তাদের একজন এই ফের্নান্দেস।
২০২২ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের দুই মাসের মাথায় বিশ্বকাপ অভিযানে নেমে পড়েন ফের্নান্দেস এবং সাত ম্যাচের প্রতিটিতেই মাঠে নামেন তিনি, এবং নজরকাড়া পারফরম্যান্সে টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ ফুটবলারের পুরস্কারও জয় করেন। আসরে একটি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি।
পরের বছর চেলসিতে যোগ দেন ফের্নান্দেস এবং ক্লাব বিশ্বকাপে চেলসির সাফল্যের নায়কদের একজন ছিলেন তিনি। ওই আসরে সর্বোচ্চ তিনটি অ্যাসিস্ট করেন তারকা মিডফিল্ডার।
চলতি বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই পাদপ্রদীপের আলোটা ছিল তার। ফিফার মতে, মেসির পাশাপাশি আর্জেন্টিনার যে দুজনের সেরা হয়ে ওঠার সম্ভাবনার কথা বলা হয়, তাদের একজন ফের্নান্দেস।
যদিও শুরুতে ঠিক চেনা রূপে নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে পারছিলেন না ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার। তবে, শেষ ষোলোয় মিশরের বিপক্ষে দুই গোলের ঘাটতি পুষিয়ে, অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচে যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোলটি করেন তিনি। আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে অনেকটা সময় পিছিয়ে থাকার পর, ৮৫তম মিনিটে তার দুর্দান্ত গোলেই সমতায় ফেরে শিরোপাধারীরা।
গতবারের সেরা উদীয়মান ফুটবলার এবার অবশেষে নিজেকে যেন খুঁজে পেয়েছেন, এবং সেটা একদম সঠিক সময়ে।
১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর, প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণে তার আরেকটি অসাধারণ পারফরম্যান্সের দিকেও তাকিয়ে থাকবে আর্জেন্টিনা।
বিপরীতে, দেশের মানুষকে দ্বিতীয়বার বিশ্ব সেরার স্বাদ দিতে এতদিনের ক্লাব সতীর্থ ও তার সতীর্থদের আটকে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে কুকুরেইয়াদের।