Published : 19 Feb 2026, 12:07 PM
বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণটি ঘটে গেল এক অনন্য নাটকীয়তায়। আকাশের এই বিরল দৃশ্য দেখার জন্য মানুষের ভিড় ছিল না বললেই চলে। চাঁদ যখন পৃথিবীর কোল ঘেঁষে সূর্যের সামনে এসে দাঁড়াল তখন সেই অদ্ভুত অন্ধকার আর রূপালি আলোর সাক্ষী হল অ্যান্টার্কটিকার বরফে ঘেরা প্রান্তরের কয়েক হাজার পেঙ্গুইন।
ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট লিখেছে, মহাকাশে বিভিন্ন গ্রহ এমনভাবে অবস্থান নেয়, যা পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় চাঁদ যেন সূর্যের সামনে চলে এসেছে। তখনই পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটে। ফলে সূর্য পুরোপুরি ঢাকা পড়ে যাওয়ার এক নাটকীয় দৃশ্য তৈরি হয় ও পৃথিবীতে এক অদ্ভুত অন্ধকার নেমে আসে।
এ সূর্যগ্রহণটি অ্যান্টার্কটিকার ওপর দিয়ে যাওয়ায় পেঙ্গুইনদের চোখেই বেশি পড়েছে। তবে সূর্যগ্রহণের পূর্ণ অন্ধকার পথটি ‘কনকর্ডিয়া রিসার্চ স্টেশন’-এর ওপর দিয়েও গেছে, যেটি অ্যান্টার্কটিকায় অবস্থিত এবং পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
এ গ্রহণটি ছিল পূর্ণগ্রাস তবে ‘অ্যানিউলার’ বা বলয়গ্রাস। এ গ্রহণে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী এমন দূরত্বে অবস্থান করে, যেখানে চাঁদকে তুলনামূলক ছোট দেখায়। ফলে চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে পারে না ও সূর্যের চারপাশে দিয়ে উজ্জ্বল এক আলোর আংটি বা বলয় দেখা যায়, যা দিনের আলোতে খুব নাটকীয় পরিবর্তন বা গাঢ় অন্ধকার তৈরি করে না।

এমন হওয়ার কারণ চাঁদ
চাঁদের কক্ষপথ পুরোপুরি গোল নয়, বরং ডিম্বাকৃতি। ফলে চাঁদ মাঝেমধ্যে পৃথিবীর কাছাকাছি আসে আবার কখনো দূরে সরে যায়। যখন চাঁদ পৃথিবী থেকে দূরে থাকে তখন এর আকার পৃথিবী থেকে এতটাই ছোট দেখায় যে, তা সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে রাখতে পারে না।
এ ধরনের গ্রহণকে অনেক সময় ‘রিং অফ ফায়ার’ বা আগুনের আংটি বলে। কারণ চাঁদের আশপাশ দিয়ে সূর্যের জ্বলন্ত বিভিন্ন কিনারা তখনও দেখা যায়।
এ বছরের পরবর্তী সূর্যগ্রহণ হবে আগামী ১২ অগাস্ট। তবে এটিও গ্রিনল্যান্ড বা আইসল্যান্ডের মতো এমন সব শীতল ও জনমানবহীন এলাকায় দৃশ্যমান হবে, যেখানে মানুষের বসবাস খুব কম।
তবে স্পেন, রাশিয়া ও পর্তুগালের কিছু অংশ থেকে এই পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এ ছাড়া ইউরোপ, আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকার কিছু এলাকা থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
এর অনেক আগেই এ বছরের আগামী ৩ মার্চ চন্দ্রগ্রহণ হবে। এটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হবে, যা এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ ও আমেরিকা মহাদেশ থেকে দেখা যাবে।