Published : 05 Jun 2026, 02:33 PM
সূর্যের ভেতরকার ‘হৃদস্পন্দন’ বা শব্দ তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে এক রহস্যময় ও অপ্রত্যাশিত আচরণের খোঁজ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
তাদের দাবি, গত ৪০ বছরে সূর্যের অভ্যন্তরীণ ছন্দে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এ ছন্দই মহাকাশের আবহাওয়া নির্ধারণ করে, যা সরাসরি পৃথিবীর জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলে।
এ কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে মহাকাশের আবহাওয়ায় বড় প্রভাব পড়তে পারে। ফলে সূর্যের ভেতরে ঠিক কী ঘটছে তা বুঝতে জরুরি ভিত্তিতে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে অনুমান বিজ্ঞানীদের।
সূর্য সাধারণত নির্দিষ্ট ১১ বছরের চক্র মেনে চলে, যার মধ্যে সূর্য কখনো খুব সক্রিয় আবার কখনো কিছুটা শান্ত থাকে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
এ চক্রের সবচেয়ে ব্যস্ত বা সক্রিয় সময়ে সূর্য থেকে তীব্র সৌরশিখা ও নানাবিধ কণার নিঃসরণ ঘটে, যা পৃথিবীতে মারাত্মক সৌরঝড় তৈরি করতে পারে।
বিজ্ঞানীরা সূর্যের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া অতি ক্ষুদ্র বিভিন্ন শব্দ তরঙ্গ বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ নতুন তথ্যটি জানতে পেরেছেন।
এসব শব্দ তরঙ্গ শোনার ফলে তারা সূর্যের ভেতরের বিভিন্ন পরিবর্তন ও এর ফলে সামনের দিনগুলোতে সূর্যের আচরণ বা চক্রে কী প্রভাব পড়তে পারে তা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারছেন।
তারা বলেছেন, সূর্য সম্ভবত সম্পূর্ণ ‘ভিন্ন এক আচরণগত ধাপে’ প্রবেশ করতে যাচ্ছে। স্বাভাবিক ১১ বছরের নিয়মিত ছন্দের পাশাপাশি এর অভ্যন্তরীণ গঠনে আরও কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন ঘটছে, যা ভবিষ্যতে সূর্যের সার্বিক কার্যপ্রণালীকে বদলে দিতে পারে।
গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে, সূর্যের চৌম্বকীয় সক্রিয়তা এখন এর দৃশ্যমান পৃষ্ঠের ঠিক নিচের এক স্তরে সংকুচিত হয়ে আসছে এবং সেই স্তরটি দিন দিন আরও অগভীর হয়ে পড়ছে।
নতুন এ গবেষণার প্রধান লেখক ও ‘ইউনিভার্সিটি অফ বার্মিংহাম’-এর অধ্যাপক বিল চ্যাপলিন বলেছেন, “সূর্যের নিজস্ব ‘সক্রিয় বায়োরিদম’ বা জৈবিক ছন্দ রয়েছে, যা মহাকাশের আবহাওয়া নির্ধারণকারী চৌম্বকীয় সক্রিয়তার উত্থান-পতন তৈরি করে।
“তবে, প্রচলিতভাবে সূর্য পৃষ্ঠের ওপর যেসব পরিমাপ চালানো হয় তা দিয়ে পুরো বিষয়টি ধরা সম্ভব নয়। আসল বিষয় হচ্ছে, সূর্য সম্ভবত কয়েক দশক ধরে চলতে থাকা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আচরণগত ধাপে প্রবেশ করছে।”
সৌরচক্রের এ কাঠামোগত পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি বলেছেন, “আমরা সৌর সক্রিয়তা চক্রে সুনির্দিষ্ট কিছু পরিবর্তনের প্রমাণ পেয়েছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, প্রতিটি চক্রের সঙ্গে সঙ্গে চৌম্বকীয় সক্রিয়তা সূর্যের পৃষ্ঠের আরও কাছাকাছি ও সংকীর্ণ জায়গায় সীমিত হয়ে পড়ছে।
“আমাদের গবেষণায় এ ধরনের প্রথম আবিষ্কার ও ‘বাইসন’-এর দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ ছাড়া এমন তথ্য উন্মোচন করা কোনোভাবেই সম্ভব হত না।”
গবেষকরা বলেছেন, সূর্যের বর্তমান চক্র ও এর ভেতরে থাকা ঠিক কোন কোন পরিবর্তন একে শক্তি জোগাচ্ছে বা বদলে দিচ্ছে তা আরও গভীরভাবে বোঝার জন্য কাজ করা প্রয়োজন।
‘ইয়েল ইউনিভার্সিটি’র সর্বানি বসু বলেছেন, “আমরা দেখেছি, সূর্যের ভেতরের কম্পন ও এর পৃষ্ঠের সক্রিয়তার মধ্যকার সম্পর্কটি গত কয়েকটি চক্র ধরে ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে।”
এ পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেছেন, “চৌম্বক ক্ষেত্র দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো সাধারণ কোনো বিষয় দিয়ে এ প্রবণতাকে ব্যাখ্যা করা যাবে না, বরং এর থেকে ইঙ্গিত মেলে, সূর্যের চৌম্বকীয় সক্রিয়তা পৃষ্ঠের নিচে কীভাবে জমা বা সংরক্ষিত থাকে তার অভ্যন্তরীণ গঠনেই বড় ধরনের পুনর্গঠন বা পরিবর্তন ঘটছে।”