Published : 23 Jul 2026, 01:41 PM
কোটি কোটি বছর আগে অন্য এক ছায়াপথের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষের কারণে মিল্কি ওয়ে হঠাৎ একপাশে কাত হয়ে বা উল্টে গিয়েছিল বলে দাবি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের।
গবেষকদের ধারণা, ছায়াপথটির তৈরির ইতিহাসে বড় এক রূপান্তর ঘটেছিল, যার ফলে এর দিক বা অবস্থানের ওরিয়েন্টেশন ৯০ ডিগ্রিরও বেশি পরিবর্তিত হয়ে যায়, যার প্রভাবে সূর্য ও সৌরজগতের কক্ষপথেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসে থাকতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, মিল্কি ওয়ের অন্যতম গভীর রহস্যের জট খুলতে সাহায্য করতে পারে এ আবিষ্কার, যেখানে ছায়াপথের বাইরে থাকা তারা দিয়ে গঠিত পাতলা স্তর বা ‘স্টেলার হ্যালো’ কেন এত ধীর গতিতে ঘুরছে তা জানা যাবে।
যুক্তরাজ্যের ‘ডারহাম ইউনিভার্সিটি’র গবেষকরা মিল্কি ওয়ের মতো বিভিন্ন ছায়াপথের ওপর সুপারকম্পিউটার সিমুলেশন চালিয়ে এ তথ্যের সন্ধান পেয়েছেন।
তারা বলছেন, যেসব ছায়াপথের ‘স্টেলার হ্যালো’ ধীরে ঘোরে সেগুলোর কেন্দ্রে অতীতে একটি ‘ডিস্ক ফ্লিপ’ বা নাটকীয়ভাবে দিক পরিবর্তনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেশি।
গবেষকরা প্রায় ২৫টি মিল্কি ওয়ের মতো ছায়াপথ নিয়ে অনুসন্ধান চালান এবং কোটি কোটি বছর ধরে সেগুলোর বিবর্তন পর্যবেক্ষণ করেছেন। যার মাধ্যমে গবেষকরা দুটি বিশেষ বৈচিত্র্য খুঁজে পেয়েছেন যে, বিভিন্ন ছায়াপথ অতীতে অন্য কোনো ছায়াপথের সঙ্গে সরাসরি বা সামনাসামনি সংঘর্ষে পড়েছিল এবং এর ফলেই এ ধরনের ‘ফ্লিপ’ বা দিক পরিবর্তন ঘটেছিল।
এ গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া গবেষক কিরিল বাত্রাকভ বলেছেন, “আমরা আগে থেকেই জানি, অতীতে মিল্কি ওয়ের সঙ্গে ‘গাইয়া-সসেজ-এনসেলাডাস’ নামের আরেকটি ছায়াপথের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছিল। ফলে আমাদের ধারণা, ওই সংঘর্ষের কারণেই অতীতে মিল্কি ওয়ে ডিস্কটি কাত হয়ে বা উল্টে গিয়েছিল।”
প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ কোটি বছর আগে ‘গাইয়া-সসেজ-এনসেলাডাস’ নামের এক বড় বামন ছায়াপথ আমাদের মিল্কি ওয়ের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এর ফলে একপর্যায়ে সেই বামন ছায়াপথ মিল্কি ওয়ের সঙ্গে বিলীন হয়ে যায়।
মিল্কি ওয়ের শুরুর দিকের ইতিহাসে এটাই ছিল সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যা পুরো মিল্কি ওয়ের রূপ বদলে দিয়েছিল। এ সংঘর্ষের ফলেই তৈরি হয়েছিল শত শত কোটি তারা, যেগুলো আজও দীর্ঘ আকৃতির কক্ষপথে ঘুরে চলেছে।
গবেষক কিরিল বাত্রাকভ বলেছেন, “ছায়াপথ ডিস্ক উল্টে যাওয়ার মানে, বর্তমানে মিল্কি ওয়ের বেশিরভাগ তারা যে কক্ষপথে ঘুরছে অতীতে এদের চলার পথ পুরোপুরি ভিন্ন ছিল। সূর্যও এর ব্যতিক্রম ছিল না। যার মানে দাঁড়ায়, মিল্কি ওয়েতে সৌরজগতের এ ‘স্থায়ী’ অবস্থানটি হয়ত এর পুরো সময়জুড়ে সবসময় এতটা স্থায়ী ছিল না।”
বিজ্ঞানীদের আশা, এ আবিষ্কারটি মিল্কি ওয়ের এ অদ্ভুত আচরণের কারণ ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করবে। একইসঙ্গে মিল্কি ওয়ের ইতিহাস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেলে তা মহাবিশ্বের অন্যান্য সমগোত্রীয় বিভিন্ন ছায়াপথের রহস্য উন্মোচনেও সাহায্য করবে।
বাত্রাকভ বলেছেন, “মিল্কি ওয়ের ডিস্ক যে উল্টে গিয়েছিল সেখানে এ আবিষ্কার আমাদের ছায়াপথের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। অন্যান্য ছায়াপথের প্রেক্ষাপটে মিল্কি ওয়ের অবস্থান বিশ্লেষণের সময় আমাদের অবশ্যই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
“তবে আমার কাছে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর বিষয়, ছায়াপথের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেই আমরা এর কোটি কোটি বছরের প্রাচীন ও জটিল ইতিহাসকে এভাবে পুনর্গঠন করতে পারছি।”