Published : 05 Jun 2026, 12:17 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিকিনি পরা ভুয়া ছবি তৈরির অভিযোগে ইলন মাস্কের এআই কোম্পানি এক্সএআই’য়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন একজন ব্রিটিশ এমপি।
যুক্তরাজ্যের সাফোক অঞ্চলের লোস্টফ্ট এলাকার লেবার পার্টির এ এমপির নাম জেস আসাতো। এর আগে, তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, এআই ব্যবহার করে তার ছবি বিকৃত করার এ ঘটনায় তিনি চরম হেনস্থার শিকার হয়েছেন।
বুধবার এ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন এমপি আসাতো।
বিবিসি লিখেছে, এ মামলার মাধ্যমে তিনি কেবল ক্ষতিপূরণই চাচ্ছেন না, বরং এআই সিস্টেমের ডিজাইনের কারণে তৈরি যে কোনো অপব্যবহারের দায় যেন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি এড়াতে না পারে তার এক আইনি দৃষ্টান্তও তৈরি করতে চাইছেন।
এ মামলার বিষয়ে বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি এক্সএআই।
এ বছরের শুরুতে গ্রক চ্যাটবট ব্যবহার করে নারীদের এমন আপত্তিকর ভুয়া ছবি তৈরির ঘটনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল।
এমপি আসাতো বলেছেন, জানুয়ারিতে এ বিষয়ে মুখ খোলার পরই তাকে টার্গেট করা হয় এবং ওই সময় তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অফ কমন্স’-এ গ্রক চ্যাটবটের মাধ্যমে তার বিকৃত ছবি তৈরির বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন।
তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পরবর্তীতে এক্সএআই বলেছিল, তাদের এ প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা আর কোনো ব্যক্তির এমন আপত্তিকর ছবি তৈরি করতে পারবে না।
যুক্তরাজ্যে এখন সম্মতি ছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক কোনো ব্যক্তির এমন ডিপফেইক তৈরি করা বা সেটির জন্য অনুরোধ করা নিষিদ্ধ।
আসাতো বলেছেন, তার এ আইনি লড়াইয়ের মূল উদ্দেশ্য ‘গ্রক চ্যাটবটটি সচল থাকার সময়ে যেসব ক্ষতি এরইমধ্যে হয়ে গেছে, তার বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা’।
নিজের দাবির পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসাতো বলেছেন, “অন্য যে কোনো পণ্যের কথা ধরা যাক, যেমন একটি গাড়ি যদি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে তৈরি হয় তবে পরবর্তীতে এসব গাড়ি বাজার থেকে তুলে নিয়ে ত্রুটি সংশোধন করে ফেললেই সব মিটে যায় না।
“এখানে মূল বিষয় হচ্ছে, গাড়িটি শুরুতেই বড় ত্রুটি নিয়ে তৈরি হয়েছিল। গ্রকের ক্ষেত্রেও সমস্যাটি ঠিক এখানেই। চ্যাটবটটিকে বাজারে ছাড়ার আগে এমন কোনো শক্তিশালী নিরাপত্তা বেষ্টনী বা গার্ডরেইল দেওয়া হয়নি, যা এ ধরনের আপত্তিকর ঘটনা শুরুতেই ঠেকাতে পারত।
“আমার মামলার মূল ভিত্তিটাই এখানে, ত্রুটি ধরা পড়ার পর কত দ্রুত তারা তা সারিয়েছে তা বড় বিষয় নয়। একবার যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেলে সেই ক্ষতি তো আর মুছে ফেলা যায় না।”
হাইকোর্টে দায়ের করা এ মামলাটি ‘ডেটা প্রটেকশন অ্যাক্ট’ বা তথ্য সুরক্ষা আইন ও ব্যক্তিগত তথ্যের অবমাননাকর অপব্যবহারের আইনের অধীনে করা হয়েছে।
আসাতোর পক্ষে লড়ছেন আইনি কোম্পানি ‘এডব্লিউও’-এর রবি নায়েক।
তিনি বলেছেন, “যেখানেই কোনো অন্যায় বা অপরাধ ঘটবে, আইনকে অবশ্যই তার প্রতিকার দিতে হবে। আর এমনটা এআইয়ের ক্ষেত্রেও ঠিক ততটাই সত্য, যতটা অন্য যে কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে।
“কারোই এ ধরনের হেনস্থা বা অপব্যবহারের শিকার হওয়া উচিত নয়, আর এ ধরনের বিকৃত ছবি ইন্টারনেট থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য কাউকে উকিল নোটিশ পাঠানোর মতো পরিস্থিতিতে ফেলাও ঠিক নয়।
“এসব আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি হতে পেরেছে কেবল এক্সএআইয়ের প্রকৌশলীদের তৈরি করা সিস্টেমের দুর্বলতার কারণে।”
এর আগে, মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ বলেছিল, তাদের প্ল্যাটফর্মে যে কোনো ধরনের অবৈধ কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাস্ক নিজেও এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন, “গ্রক ব্যবহার করে যারা কোনো অবৈধ কনটেন্ট তৈরি করবে, তাদের ঠিক তেমনই পরিণতি ভোগ করতে হবে, যেমনটা অন্য কোথাও অবৈধ কনটেন্ট আপলোড করলে হত।”