১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠাতে মাস্কের দুয়ারে বেজোস

বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ধনী দুই ব্যক্তি মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক ও অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে মহাকাশ।

মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠাতে মাস্কের দুয়ারে বেজোস
বর্তমানে অ্যামাজনের সবচেয়ে বড় বাজিগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে কুইপার প্রজেক্ট। ছবি: অ্যামাজন

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Jul 2025, 01:45 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:23 PM

বর্তমানে ইন্টারনেট স্যাটেলাইট বাজারে অ্যামাজনের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ইলন মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্স। নিজেদের পরবর্তী ব্যাচের কুইপার স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠাতে এখন মাস্কের কোম্পানিটির ওপরই নির্ভর করছে অ্যামাজন।

বুধবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অ্যামাজনের ২৪টি কুইপার স্যাটেলাইট স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে ফ্লোরিডার স্পেস কোস্ট থেকে মহাকাশে পাঠানো কথা প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি। 

‘কেএফ-০১’ নামের এ মিশনের জন্য ২৭ মিনিটের সময়সূচি নির্ধারণ করেছে কোম্পানিটি, যা শুরু হবে পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ২টা ১৮ মিনিটে। এ উৎক্ষেপণটি সরাসরি সম্প্রচার হবে ইলন মাস্কের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ।

এক অস্বাভাবিক জোটের ইঙ্গিত দিয়েছে এই মিশন। কারণ, বর্তমানে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার শীর্ষে রয়েছে স্পেসএক্সের স্টারলিংক। তাদের প্রায় আট হাজার স্যাটেলাইট নিয়ে গঠিত বিশাল এক নেটওয়ার্ক রয়েছে মহাকাশে এবং গোটা বিশ্বে প্রায় ৫০ লাখ গ্রাহক রয়েছে কোম্পানিটির।

এদিকে, ২০১৯ সালে প্রজেক্ট কুইপার শুরু করে অ্যামাজন। যার লক্ষ্য, তিন হাজারেও বেশি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দেওয়া।

তবে বর্তমানে কঠিন এক সময়সীমার মধ্যে কাজ করছে অ্যামাজন। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন’ বা এফসিসি বলেছে, ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষ নাগাদ অন্তত এক হাজার ছয়শটি স্যাটেলাইট পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পাঠাতে না পারলে লাইসেন্স হারাতে পারে কোম্পানিটি।

অ্যামাজনের প্রথম দুটি কুইপার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হয়েছিল এ বছরের এপ্রিল ও জুনে। প্রতিবারই তারা ২৭টি করে স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়েছে এবং এসব উৎক্ষেপণ হয়েছিল ‘ইউনাইটেড লঞ্চ অ্যালায়েন্স’-এর রকেটে করে।

সিএনবিসি লিখেছে, বুধবারের উৎক্ষেপণ সফল হলে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অ্যামাজনের মোট ৭৮টি কুইপার স্যাটেলাইট থাকবে।

এফসিসি’র কঠোর সময়সীমা পূরণ করতে অ্যামাজনকে দ্রুতগতিতে স্যাটেলাইট তৈরি ও উৎক্ষেপণ করতে হবে। এজন্য রকেট সরবরাহকারীদের কাছ থেকে উৎক্ষেপণ সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হচ্ছে কোম্পানিটিকে। এরইমধ্যে ৮৩টি উৎক্ষেপণ বুক করেছে প্রজেক্ট কুইপার, যার মধ্যে স্পেসএক্সের রকেটে করে তিনবার পাঠানোর চুক্তিও রয়েছে।

মহাকাশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ধনী দুই ব্যক্তি মার্কিন ধনকুবের মাস্ক ও অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে সিএনবিসি। কুইপার প্রজেক্ট ছাড়াও নিজস্ব রকেট কোম্পানি ‘ব্লু অরিজিন’-এর মাধ্যমেও মাস্কের স্পেসএক্সের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বেজোস।

জানুয়ারিতে প্রথমবারের মতো নিজেদের বিশাল ‘নিউ গ্লেন’ রকেট উৎক্ষেপণ করেছে ব্লু অরিজিন, যা স্পেসএক্সের পুনরায় ব্যবহারযোগ্য ফ্যালকন ৯ রকেটের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তৈরি করেছে তারা।

ব্লু অরিজিন স্পেসএক্সের চেয়ে এখনও পিছিয়ে  থাকলেও বেজোস গত বছর বলেছেন, তার এই নতুন উদ্যোগ একদিন ১৯৯৪ সালে শুরু করা অ্যামাজনের থেকেও বড় হয়ে উঠবে।

বর্তমানে অ্যামাজনের সবচেয়ে বড় বাজির মধ্যে একটি কুইপার প্রজেক্ট। যার জন্য এক হাজার কোটি ডলারের বেশি অর্থ বরাদ্দ করেছে মার্কিন ই কমার্স জায়ান্টটি। 

গত সপ্তাহে ‘ব্যাংক অফ আমেরিকা’র বিশ্লেষকরা ক্লায়েন্টদের জন্য লেখা এক নোটে বলেছেন, পুরো স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য অ্যামাজনকে সম্ভবত দুই হাজার তিনশ কোটি ডলার পর্যন্ত খরচ করতে হতে পারে।