Published : 05 Apr 2026, 05:06 PM
চীন ও বিরল তারার খোঁজ পেয়েছেন একদল শিক্ষার্থী। কোটি কোটি বছর আগে কোনো এক ছায়াপথে জন্ম নেওয়া এ তারাটি আদি মহাবিশ্বের পরিবেশ ও তারা গঠনের রহস্য বুঝতে বিজ্ঞানীদের নতুন পথ দেখাবে বলে দাবি তাদের।
‘স্লোন ডিজিটাল স্কাই সার্ভে’ থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে ‘ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো’র একদল স্নাতক শিক্ষার্থী মহাবিশ্বের অন্যতম প্রাচীন তারার খোঁজ পেয়েছে।
তাদের বিশ্লেষণ অনুসারে, ‘এসডিএসএসজে০৭১৫-৭৩৩৪’ নামের এ তারাটি কোটি কোটি বছর আগে এর পাশের ‘লার্জ ম্যাজেলানিক ক্লাউড’-এ জন্ম নিয়েছিল ও পরবর্তী সময়ে তা আমাদের মিল্কি ওয়ে ছায়াপথে চলে আসে।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্স ফিল্ড কোর্স’ ক্লাসের শিক্ষার্থীরা ‘এসডিএসএস’-এর তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণ করে নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য যে ৭৭টি তারা বেছে নিয়েছিলেন এ তারাটি ছিল সেগুলোর একটি।
এ কোর্সটি পরিচালনা করেছেন ‘এসডিএসএস-ভি’ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প বিজ্ঞানী অধ্যাপক অ্যালেক্স জি। ‘এসডিএসএস-ভি’ প্রকল্প হচ্ছে চলমান আকাশ জরিপ, যা মিল্কি ওয়ে ছায়াপথের মানচিত্র তৈরি করছে।
চিলির লাস ক্যাম্পানাস অবজারভেটরিতে এক ফিল্ড ট্রিপ চলাকালীন অভিযানের দ্বিতীয় দিনে তারা ‘এসডিএসএসজে০৭১৫-৭৩৩৪’ তারাটি শনাক্ত করেন।
গবেষণায় উঠে এসেছে, এ তারাটি হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম দিয়ে গঠিত এবং এতে কার্বন ও আয়রনের পরিমাণ খুবই সামান্য।
গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’তে।
গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, তারাটির এ বিশেষ রাসায়নিক গঠন সম্ভবত আদি কোনো সুপারনোভা বিস্ফোরণের ফলেই তৈরি হয়েছে।
অধ্যাপক অ্যালেক্স জি বলেছেন, “প্রাচীন এ পরিযায়ী তারাটি আমাদের আদি মহাবিশ্বের অবস্থা সম্পর্কে এক অভূতপূর্ব ধারণা দিচ্ছে।
“তারাটিতে কার্বনের পরিমাণ এতই কম যে এর থেকে ইঙ্গিত মেলে মহাজাগতিক ধুলিকণার প্রাথমিক ছিটেফোঁটা থেকেই তারাটি তৈরি হয়েছে। তারা তৈরির এ বিশেষ প্রক্রিয়া এর আগে কেবল একবারই দেখা গেছে।