Published : 22 Jul 2026, 01:27 PM
ছেলেবেলা থেকেই চেলসির অনুরক্ত মর্গান রজার্স। এই ক্লাবকে তিনি মনে করেন লন্ডনের সেরা ক্লাব। শৈশবের সেই স্বপ্নের ক্লাবই এখন তার ঠিকানা। ট্রান্সফার ফির রেকর্ড গড়ে প্রিয় আঙিনায় পা রেখে দারুণ রোমাঞ্চিত এই ইংলিশ ফুটবলার।
অ্যাস্টন ভিলা থেকে তার চেলসিতে আসার খবর ছড়িয়ে পড়েছিল আগেই। এবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও এলো দুই দলের পক্ষ থেকে। ২৩ বছর বয়সী ফুটবলারের চুক্তির মেয়াদ ২০৩৩ সাল পর্যন্ত।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ কোটি ৭০ লাখ পাউণ্ডে (১৫ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার) হয়েছে এই দলবদল। তিনিই এখন সবচেয়ে দামি ব্রিটিশ ফুটবলার।
কোনো ক্লাবই আনুষ্ঠানিকভাবে আর্থিক বিবরণ প্রকাশ করেনি। তবে স্কাই স্পোর্টস জানিয়েছে, নটিংহ্যাম ফরেস্ট থেকে এই মাসের শুরুতে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়া মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনের ১১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডের ট্রান্সফার ফিকে ছাড়িয়ে গেছে এটি।
চেলসির আগের সবচেয়ে দামি ফুটবলার ছিলেন মোইসে কাইসেও। ২০২৩ সালে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়ন থেকে যোগ দিয়েছিলেন তিনি সাড়ে ১১ কোটি পাউন্ডে।
উইঙ্গার ও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার, দুই ভূমিকাতেই খেলতে পারেন রজার্স। নতুন অভিযান শুরু করতে তর সইছে না তার।
“আমি খুবই রোমাঞ্চিত। আমার চোখে, লন্ডনের সবচেয়ে বড় ক্লাব চেলসি এবং এমন একটি ক্লাব, যেটিকে ছোটবেলা থেকেই সবসময় শ্রদ্ধা ও সমীহ করি করি।
নতুন ম্যানেজারের সঙ্গে এই প্রকল্প, আমাদের বর্তমান ফুটবলারদের নিয়ে ক্লাব যেদিকে এগোচ্ছে, তা নিয়ে আমি সত্যিই খুব রোমাঞ্চিত। এজন্যই আমি এখানে এসেছি এবং কাজ শুরু করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।”
রজার্সকে পেতে আগ্রহী ছিল আর্সেনালও। তবে চেলসির নতুন কোচ শাবি আলোন্সোর বিশেষ নজর ছিল তার প্রতি। চেলসিকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে বড় প্রভাবক ছিলেন কোচ, অকপটেই বললেন রজার্স।

“তার সঙ্গে কয়েকবার কথা হয়েছে আমার। কোনো ক্লাবকে আমার বেছে নেওয়ার পেছনে এটা বোঝা জরুরি যে, ম্যানেজার কেমন, তিনি কেমন স্বভাবের এবং তিনি কীভাবে কাজ পরিচালনা করতে চান।
যেভাবে আমি খেলাটাকে দেখি, যেভাবে খেলতে চাই এবং নিজে যেমন হতে চাই, স্বাধীনভাবে নিজেকে প্রকাশ করতে চাই, এসবের সঙ্গে তার ভঅবনা খুব ভালোভাবে মিলে যগেছে। তার এই প্রক্রিয়ার অংশ হওয়াটা আমার এখানে আসার পেছনে একটি বিশাল কারণ ছিল।”
ওয়েস্ট ব্রমউইচ অ্যালবিয়নের একাডেমি থেকে উঠে আসা ফুটবলার ২০১৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ছিলেন ম্যানচেস্টার সিটি। তবে মূল দলে অভিষেক হয়নি সেখানে। মূলত ধারে নানা ক্লাবে খেলেই কাটিয়েছেন সময়া। নিজেকে চেনাতে শুরু করেন তিনি ২০২৪ সালে অ্যাস্টন ভিলায় আসার পর।
ভিলার হয়ে দুই মৌসুমে ১২৫ ম্যাচ খেলেছেন, গোল করেছেন ৩১টি। গত মৌসুম ছিল তার ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম। ১০টি গোল করেন তিনি প্রিমিয়ার লিগে। ভিলার ইউরোপা লিগ জয়েও বড় অবদান ছিল তার। ফাইনালে ৩-০ গোলের জয়ে একটি গোল তিনি করেছিলেন। ৪৪ বছর পর বড় ইউরোপীয় শিরোপা জেতে ক্লাবটি।
এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের তৃতীয় স্থান অর্জনের পথে আট ম্যাচের সাতটিতে মাঠে নামেন রজার্স। সেমি-ফাইনালে তার সহায়তায়ই ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দিয়েছিলেন অ্যান্থনি গর্ডন।
চেলসি, যারা গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে দশম স্থান অর্জন করেছিল, তারা ২৪শে আগস্ট ফুলহ্যামের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচ দিয়ে তাদের লিগ অভিযান শুরু করবে।