Published : 18 Sep 2026, 10:22 AM
রানের গতি মন্থর থাকলেও উইকেট ছিল অটুট। ৭ ওভারে গায়ানার রান ১ উইকেটে ৪০। পরের সময়টায় ঝড় তোলার মঞ্চ ছিল প্রস্তুত। হলো উল্টো। তাদের ওপর দিয়েই এমন টর্নেডো বয়ে গেল যে, চোখের পলকে ইনিংস বিধ্বস্ত। দুই পাকিস্তানি রিস্ট স্পিনার শাদাব খান ও সুফিয়ান মকিমের সেই তাণ্ডবে ১ উইকেটে ৪০ থেকে গায়ানার রান হয়ে গেল ৯ উইকেটে ৪৯!
এরপর শেষ জুটিতে সামান্য লড়াই হলেও ম্যাচে কোনো প্রভাব পড়ল না। সিপিএলে প্রাথমিক পর্বের সেরা দল গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স মুখ থুবড়ে পড়ল প্রথম কোয়ালিফায়ারে। ৭৬ রানে গুটিয়ে গিয়ে তারা ম্যাচ হেরে গেল ৯ উইকেটে। ফাইনালে পৌঁছে গেল অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্স।
দলের ব্যর্থতার সঙ্গী মেহেদী হাসান মিরাজও। ব্যাট হাতে তিনি আউট হন প্রথম বলেই। বোলিংয়ে তো তেমন কিছু করার সুযোগই ছিল না।
হ্যাটট্রিকসহ ১৬ রানে চার উইকেট শিকার করে ম্যাচ-সেরা শাদাব খান। মকিমের চার উইকেট ১৩ রানে।
ব্রিজটাউনে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা গায়ানা প্রথম চার ওভারে হারায়নি উইকেট। গ্লেন ফিলিপস ও মাভেন্ড্রা ডিন্ডিয়াল রান তোলেন ২৬।
ডিন্ডিয়ালকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন জশুয়া জেমস। ফিলিপস ও শেই হোপ চেষ্টা করেন জুটি গড়ার। পরের তিন ওভারে পতন হয়নি উইকেটের। সাত ওভারের পর শাদাব খান ও সুফিয়ান মকিমের স্পিনে রাতারাতি পাল্টে যায় চিত্র। পাকিস্তানের দুই রিস্ট স্পিনারের সামনে স্রেফ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে গায়ানার ব্যাটিং।
মকিম আক্রমণে এসে প্রথম বলেই ফেরান ফিলিপসকে। ওই ওভারেই বিদায় করেন মোহাম্মাদ হারিসকে। পরের ওভারেই শাদাবের হ্যাটট্রিক। যেটির শুরু শিমরন হেটমায়ারকে ফিরিয়ে। আগ্রাসী ব্যাটসম্যান ধরা পড়েন লং অনে। পরের বলেই দুর্দান্ত গুগলি এলবিডব্লিউ মিরাজ। হ্যাটট্রিক বলে আরেকটি গুগলিতে বোল্ড কুয়েন্টিন স্যামসন।
শাদাবের এটি দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। ২০২৪ লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি কলম্বো স্ট্রাইকার্সের হয়ে।
শেষ নয় সেখানেই। পরের ওভারে মুকিম আবার ধরেন জোড়া শিকার। এর মধ্যে ছিল তিনে নেমে একপ্রান্তে টিকে থাকা হোপের উইকেটও।
পরের ওভারে ইমরান তাহিরকে বোল্ড করে শাদাব পূর্ণ করেন চার উইকেট। ২০ বল আর ৯ রানের মধ্যে উধাও গায়ানার ৮ উইকেট।
রোমারিও শেফার্ড দশে নেমে একটি ছক্কা ও চার মেরে ১৪ রান করেন। শেষ জুটিতে আসে ২৭ রান, ইনিংসের যার সর্বোচ্চ। শামার জোসেফকে ফিরিয়ে ইনিংস শেষ করে শামার স্প্রিঙ্গার।
৭৭ রানের লক্ষ্য তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয় অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা। ছয়টি ছক্কায় ১৬ বলে ৪৯ করে আউট হন রাকিম কর্নওয়াল। ১৩ বলে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন এভিন লুইস। স্রেফ ৫.২ ওভারেই জিতে যায় তারা।
আগের তিন ম্যাচে দারুণ বোলিংয়ে ৯ উইকেট শিকার করা মিরাজ এবার উইকেটশূন্য থাকেন ১.২ ওভারে ১০ রান দিয়ে।