১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নালিতাবাড়ীতে চেল্লাখালীর পানি কমছে, সেতু ভেসে যাওয়ায় বেড়েছে দুর্ভোগ

শেরপুরের নালিতাবাড়ী বাঘবেড় ইউনিয়নে চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত বেইলি সেতুটি সোমবার তীব্র স্রোতে ভেসে যায়।

শেরপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jul 2026, 01:38 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:42 PM

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বেড়ে যাওয়া চেল্লাখালী নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে ঢলের তোড়ে সেতু ভেসে যাওয়ায় নদীর দুই পাড়ের মানুষের দুর্ভোগ কমেনি।

চেল্লাখালী নদীর দুই পাড়ে বসবাস করা প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জন্য বেইলি সেতুটি ছিল যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। সেটি না থাকায় বিপাকে পড়েছেন তারা। 

স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। নদীর পশ্চিম পাড়ে থাকা কৃষিজমিতে যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরাও।  

এদিকে মঙ্গলবার থেকে ভারি বৃষ্টি না হওয়ায় নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। 

বুধবার সকাল ৯টার দিকে চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদ সীমার ৭৬ সেন্টিমিটার নিজ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী জিয়াসমীন খাতুন রুনা। 

তিনি আরও বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই নদীর পানি, ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশী ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে সদর উপজেলার পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপদ সীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

এছাড়া বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত শেরপুর পয়েন্টে ১৬ দশমিক ৫০মিলিমিটার, নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ১৪ মিলিমিটার এবং নাকুগাঁও পয়েন্টে ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান তিনি।  

এর আগে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সোমবার উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত বেইলি সেতুটি তীব্র স্রোতে ভেসে যায়। সেসময় শিশুসহ চারজন নদীতে পড়ে গেলেও সাঁতার কেটে নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হন।

ভেসে যাওয়া ব্রিজটি এখনো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে আছে। কাছাকাছি কোনো বিকল্প সড়ক না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার লোকজন। জরুরি প্রয়োজনে অনেককে কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পাহাড়ি ঢলের কারণে এ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধানে দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী রিয়াজ আহম্মেদ বলেন, “সেতুটি আমাদের এলাকার মানুষের একমাত্র সহজ যোগাযোগের পথ ছিল। এখন বিদ্যালয়ে যেতে অনেকটা পথ ঘুরতে হচ্ছে। দ্রুত একটি বিকল্প ব্যবস্থা এবং স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।”

স্থানীয় বাসিন্দা জমশেদ আলী বলেন, “পানি কমতে শুরু করেছে, কিন্তু ব্রিজ না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা না হলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে।”

তবে নদীর পানি পুরোপুরি না কমা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজে সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেক বলেন, “নদীর পানি আরও কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজটি সংস্কার কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তবে স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের সুবিধায় সাময়িকভাবে একটি নৌকার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ইউএনও। 

আগের সংবাদ

শেরপুরে ঢলের পানিতে ভেসে গেল বেইলি ব্রিজপানিবন্দি অনেক পরিবার