Published : 20 Jul 2026, 08:24 PM
ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
এর মধ্যে ঢলের তীব্র স্রোতে সোমবার দুপুরে নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের দক্ষিণ সন্ন্যাসী ভিটা এলাকায় চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটি ভেসে গেছে। এ সময় ব্রিজের উপর থাকা দুই শিশুসহ চারজন অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, সকাল ৯টায় চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৩২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সন্ধ্যা ৬টায় তা বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময় সোমেশ্বরী এবং মহারশি নদীর পানিও কমে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, ঢলের পানির তোড়ে অনেক গ্রামীণ সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চেল্লাখালী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সন্ন্যাসী ভিটা এলাকার ব্রিজটির অধিকাংশ অংশ পানিতে তলিয়ে যায়।
এক পর্যায়ে প্রবল স্রোতের তোড়ে ব্রিজটি ভেঙে পড়লে নদীর দুই পাড়ের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
চেল্লাখালী নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে শেরপুর-নালিতাবাড়ী ভায়া গাজীরখামার সড়কের গোল্লারপাড় এলাকায় প্রবল স্রোতের পানি ওঠায় সকাল থেকে এ সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সোমেশ্বরী নদীর পানির স্রোতে আয়নাপুর ও কারাগাঁও এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। মহারশি নদীর পানি বেড়ে ঝিনাইগাতী উপজেলার রামেরকুড়া এলাকার পুরোনো ভাঙন দিয়ে ঢলের পানি সদর বাজারে প্রবেশ করে। এতে বাজারের বিভিন্ন দোকানপাটে পানি ঢুকে দুর্ভোগে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় নদীর পানি নামতে শুরু করেছে। নতুন করে ভারি বৃষ্টি না হলে এবং উজান থেকে অতিরিক্ত পানি না এলে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।