Published : 17 May 2026, 10:04 AM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিপর্যয় কাটানোর উপায় পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তথ্যের ওপর বারবার প্রশিক্ষণ নিয়ে এআই সিস্টেমগুলো যেভাবে অকেজো হয়ে পড়ছিল তা ঠেকাতে এক নতুন গাণিতিক সমাধান বের করেছেন তারা।
গবেষকদের দাবি, বাস্তব পৃথিবী থেকে নেওয়া কেবল একটি সঠিক তথ্যই চ্যাটজিপিটি বা স্বচালিত গাড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রযুক্তিকে এ বড় বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারে।
চ্যাটজিপিটি’র মতো বিভিন্ন এআই ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে হলে সেগুলোকে আসল ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হয়। তবে এসব ডেটার বড় অংশ নেওয়া হয় ইন্টারনেট থেকে, যা কিনা এ ধরনের এআই মডেল ব্যবহার করেই লেখা হচ্ছে।
ফলে ইন্টারনেটে আসল ডেটার পরিমাণ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যেতে পারে। আর অন্য এআইয়ের তৈরি ডেটা দিয়ে যখন নতুন কোনো এআই’কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তখন খুব দ্রুত ‘মডেল কলাপ্স’ বা মডেলের বিপর্যয় ঘটে।
এমন পরিস্থিতিকে গবেষকরা ‘ডেটা ক্যানিবালিজম’ বা ‘তথ্য-স্বজাতীভক্ষণ’ বলে উল্লেখ করেছেন, যেখানে বিভিন্ন এআই সিস্টেম নিজেদের তৈরি করা তথ্যের ওপরেই নিজেরা প্রশিক্ষণ নিতে থাকে। ফলে মডেলগুলো দ্রুত অকেজো হয়ে পড়ে এবং ভুল ও বিপজ্জনক তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা অনেক বেড়ে যায়।
তবে গবেষকরা বলেছেন, বাইরের বাস্তব পৃথিবী থেকে নেওয়া মাত্র একটি নতুন ডেটাপয়েন্ট’ও এ বড় সমস্যাটি ঠেকাতে পারে।
‘এক্সপোনেনশিয়াল ফ্যামিলিজ’ নামের একগুচ্ছ বিশেষ গাণিতিক বা পরিসংখ্যানগত মডেল ব্যবহার করে তারা এ সমাধানটি খুঁজে পেয়েছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো এআই সিস্টেমকে যদি কেবল এর নিজের তৈরি করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তবে এর বিপর্যয় বা ‘মডেল কলাপ্স’ ঘটবেই।
তবে এ প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে মাত্র একটি বাস্তব ডেটাপয়েন্ট, যেমন আগে থেকে সংরক্ষিত বা পাওয়া কোনো জ্ঞান যোগ করলেই এ ক্ষতিকর প্রভাব পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব।
গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে, এআইয়ের তৈরি করা তথ্যের পরিমাণ যদি অসীম বা বিশালও হয় তবুও এ নিয়মটি একইভাবে খাটবে।
‘কিংস কলেজ লন্ডন’-এর ‘ডিজঅর্ডারড সিস্টেমস’-এর অধ্যাপক ইয়াসের রুদি বলেছেন, “মডেল কলাপ্স নিয়ে এর আগের বিভিন্ন গবেষণা বড় ও জটিল লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছিল। এসব জটিল মডেল আসলে কীভাবে কাজ করে এবং তাদের ফলাফলগুলো বারবার একই রকম আসবে কি না তা স্পষ্ট নয়।
“আর এ কারণেই এআইয়ের মধ্যে ব্যাখ্যাতীত ‘হ্যালুসিনেশন’ বা বিভ্রান্তি দেখা যায়, যেখানে এআই কেন একটি ভুল উত্তর তৈরি করল এর কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।
“একটি সাধারণ মডেলের ওপর মনোযোগ দেওয়ার কারণে আমরা গাণিতিক ও পরিসংখ্যানগত দৃষ্টিকোণ থেকে একদম নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছি, কেন কেবল একটি বাইরের ডেটাপয়েন্ট যোগ করলেই এআই’কে আবোলতাবোল বা অর্থহীন তথ্য তৈরি করা থেকে আটকে দেওয়া যায়।”
এ গবেষণার পেছনের গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের মডেল বিপর্যয় কেবল চ্যাটবটের মধ্যেই সীমিত নয়, এমনটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, যেমন স্বচালিত গাড়ির ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
অধ্যাপক রুদি বলেছেন, “এ মৌলিক ভিত্তি থেকে আমরা এমন কিছু নিয়ম তৈরি করতে পারব, যা ভবিষ্যতে এআই নির্মাণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
“যেহেতু চ্যাটজিপিটি থেকে শুরু করে স্বচালিত গাড়ির মতো বিভিন্ন মডেল আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে এবং এআই প্রশিক্ষণে কৃত্রিম ডেটা’র ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে, ফলে কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা এখন এ সম্ভাব্য বিপর্যয়কর পরিস্থিতি ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় হাতিয়ার পাবেন।”
গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্স’-এ।