Published : 30 Sep 2025, 05:57 PM
অনেকেই চ্যাটবট ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। তবে ব্যহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি তাদের এআই বটকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, যেখানে সংগ্রহ করা হচ্ছে ব্যবহারকারীর আলাপও। বিষয়টি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার জন্য ঝূঁকিপূর্ণ।
আপনি যদি এমনটি না চান তবে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা ছাড়াই চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের এক কার্যকর সমাধান রয়েছে। আমেরিকান দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে জেনে নিন সেই সমাধান–
ব্যবহারকারী চাইলে এখন থেকে প্রাইভেসিকেন্দ্রিক সার্চ ইঞ্জিন ও ওয়েব ব্রাউজার ‘ডাকডাকগো’-তেও ব্যবহার করতে পারেন এসব চ্যাটবট।
ওয়েব সার্চ ইঞ্জিন ও ব্রাউজার চালানো এ কোম্পানিটি তাদের চ্যাটবট ফিচারে কিছু পরিবর্তন এনেছে, যার ফলে ব্যবহারকারী এখন আরও বেশি নিরাপত্তা ও প্রাইভেসি নিশ্চিত করতে চ্যাটজিপিটি ও অন্যান্য জনপ্রিয় বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবেন।
যেসব ব্যবহারকারী কখনো-সখনো চ্যাটবট ব্যবহার করেন ও নিজের ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ারের বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত থাকেন তাদের জন্য ‘ডাকডাকগো’-এর চ্যাটবট হতে পারে ভালো সমাধান।
যারা কখনোই ‘ডাকডাকগো’ ব্যবহার করেননি তাদের ক্ষেত্রে কোম্পানিটি দেখাচ্ছে, কীভাবে এআইকে আপনার প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী গড়ে তোলা যেতে পারে।
একই চ্যাটবট আরও বেশি প্রাইভেসি সহকারে ব্যবহারের উপায়
প্রায় ছয় মাস ধরে যে কেউ ব্যবহার করতে পারছেন ‘ডাকডাকগো’-এর ফ্রি চ্যাটবট ‘ডাক এআই’। এটি মূলত একটি গেটওয়ের মতো কাজ করে, যার মাধ্যমে আপনি ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি, অ্যানথ্রপিকের ক্লড চ্যাটবট ও মেটার লামা এআই ব্যবহার করতে পারবেন। এক্ষেত্রে ব্যবহারকারী চাইলে যে কোনো একটি চ্যাটবট নিজের পছন্দ অনুসারে বেছে নিতে পারেন।
ডাকডাকগো-এর চ্যাটবটে চ্যাটজিপিটি, ক্লড বা লামা প্রযুক্তি ব্যবহার করলে কোম্পানিটি এক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা রাখে। ফলে বিভিন্ন এআই কোম্পানি আপনার সম্পর্কে ও আপনার কথোপকথনের বিষয় সম্পর্কে সীমিত তথ্যই জানবে।
কোম্পানিটি বলেছে, ডাকডাকগো-এর চ্যাটবট ব্যবহার করলে ব্যবহারকারীর বিভিন্ন আলাপ কোনো এআই কোম্পানি নিজেদের এআই প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করতে পারে না। এখানে কিছু নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম ছাড়া ব্যবহারকারীর আলাপ বেনামী হিসেবে সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে।
অন্যান্য এআই কোম্পানিও আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন– ডিভাইসের ইউনিক ডিজিটাল আইডি নম্বরে প্রবেশ করতে পারে না। কারণ, কারো ডিজিটাল আইডি নম্বরে প্রবেশ করতে পারলে ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করা সম্ভব।
ডাকডাকগো-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও গ্যাব্রিয়েল ওয়াইনবার্গ বলেছেন, ব্যবহারকারীর ডেটা নিরাপদ রাখার জন্য বিভিন্ন এআই কোম্পানির সঙ্গে এক বিশেষ ধরনের চুক্তি করেছে তারা।
তিনি বলেছেন, “মানুষ এ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চায়। আর আমরা চাই এ প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি তাদের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে।”
এ বিষয়ে ওপেনএআইয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ব্যবহারকারী নিজেদের সেটিং পরিবর্তন করে কোম্পানির ডেটা ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করতে পারবেন। তবে, এ বিষয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি মেটা ও অ্যানথ্রপিক।
অনেক এআই কোম্পানিই নিজেদের চ্যাটবটকে প্রশিক্ষণ দিয়ে উন্নত করতে ব্যবহারকারীর বিভিন্ন চ্যাটিং আলাপ ব্যবহার ও তা দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করে। তবে ডাকডাকগো তাদের চ্যাটবটের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর ডেটা খুবই সীমিতভাবে ব্যবহার করে, যাতে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ থাকে। এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর প্রাইভেসি রক্ষায় আলাদা ধারা অনুসরণ করছে কোম্পানিটি।