Published : 09 Oct 2025, 11:35 AM
২০২৬ সালের নভেম্বরে ঐতিহাসিক মাইলফলকে পৌঁছাতে চলেছে নাসার মহাকাশযান ভয়েজার ১।
এ দিনটি চিহ্নিত করবে প্রায় ৫০ বছর ধরে মহাকাশ যাত্রার এক অনন্য মুহূর্ত, যেখানে মানবজাতির তৈরি কোনো বস্তুর মধ্যে সবচেয়ে দূরে পৌঁছানোর রেকর্ড আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে ভয়েজার ১। মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে দিনটি।
১৯৭৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ভয়েজার ১-কে মহাকাশে পাঠায় যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা, যার লক্ষ্য ছিল আমাদের সৌরজগতের বাইরের বিভিন্ন গ্রহ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা।
ভয়েজার ১-এর কয়েক সপ্তাহ পর উৎক্ষেপিত হয় মহাকাশযানটির সহযাত্রী ভয়েজার ২। দুটি মহাকাশযানই সৌরজগতের সীমা পেরিয়ে এখন মহাশূন্যের অজানা প্রান্তে পাড়ি জমিয়েছে, যা মানব ইতিহাসে তৈরি সবচেয়ে দূরে পৌঁছানো বস্তু হিসেবে রেকর্ড গড়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে স্ল্যাশগিয়ার।
প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে চলা এই মহাকাশ মিশন পৃথিবীতে পাঠিয়েছে অমূল্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভাণ্ডার, যা আমাদেরকে দিয়েছে সৌরজগতের বাইরের গ্রহ, মহাশূন্যের রহস্য ও সূর্যের প্রকৃতি সম্পর্কে গভীর ধারণা।
এ দুটি মহাকাশযান এমন সময়ে উৎক্ষেপিত হয়েছিল যে সময় বিভিন্ন গ্রহের অবস্থান বিজ্ঞানীদের নির্ভুলভাবে জানা ছিল। ফলে ‘স্লিংশট ম্যানুভার’ বা গ্রহের মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মহাকাশের আরও দূরে এ দুটি মহাকাশযানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন বিজ্ঞানীরা।
এ কৌশলের ফলে ভয়েজার ১ এখন প্রায় ঘণ্টায় ৩৮ হাজার মাইল বেগে ছুটছে। এ গতি মানব প্রযুক্তির জন্য এক অসাধারণ সাফল্য হলেও, আলোর গতির তুলনায় খুব কম। আলোর গতির তুলনায় ভয়েজার ১-এর গতি যেন যেন শামুকের মতো ধীরে চলছে।
বর্তমানে পৃথিবী থেকে প্রায় এক হাজার পাঁচশ ৬৭ কোটি মাইল দূরে অবস্থান করছে ভয়েজার ১, যা ভয়েজার ২-এর চেয়ে প্রায় দুইশ ৬১ কোটি মাইল বেশি দূরত্বে। ভয়েজার ১ নিজের মিশনে এরইমধ্যে একাধিক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে। যার মধ্যে অন্যতম ২০১২ সালের ২৫ অগাস্ট মহাকাশের হেলিওপজ সীমা পেরিয়ে আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশে প্রবেশের বিষয়টি, এর মাধ্যমে আমাদের সৌরজগতের আওতা ছাড়িয়ে গিয়েছে ভয়েজার ১।
ভয়েজার ১-এর এক আলোক দিবস দূরের যাত্রা
২০২৬ সালের নভেম্বর আরেকটি বিস্ময়কর মাইলফলকে পৌঁছাবে মহাকাশযানটি। ওই সময় ভয়েজার ১-ই হবে পৃথিবী থেকে ‘এক আলোক দিবস’ দূরত্বে পৌঁছানো প্রথম কোনো মানবসৃষ্ট বস্তু। শূন্যস্থানে আলো ২৪ ঘণ্টায় যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক দিবস বলে, যা আনুমানিক প্রায় ১.৬০৯ × ১০¹⁰ মাইল বা এক হাজার ছয়শ নয় কোটি মাইল।
ভয়েজার ১ মিশনটির পর্ব শেষ হবে ২০৩৬ সালে। ওই সময় পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগের সীমার বাইরে চলে যাবে মহাকাশযানটি। এর শক্তির উৎস ওই পর্যন্তই কার্যকর থাকবে। ফলে সেই সময়ের কাছাকাছি গিয়েই মহাকাশযানটি সম্পূর্ণভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেবে।
এরপর কোনো বাহ্যিক শক্তি প্রভাব না পড়লে নিজের নির্ধারিত পথে নীরবে ও মহাকাশের গভীরে চলতে থাকবে ভয়েজার ১।
তবে এর আগে, নাসা এক অসাধারণ কীর্তি গড়েছিল, পৃথিবী থেকে দেড় হাজার কোটি মাইল দূরে অবস্থান করা ভয়েজার ১-এর এক সিস্টেম দূর থেকে সারাই করতে পেরেছিল সংস্থাটি, যা মহাকাশ ইতিহাসে এক অনন্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত।