১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মাস্কের বিরুদ্ধে কর্মীদের পাওনা অর্থ না মেটানোর অভিযোগ

নিজের এআই স্টার্টআপ এক্সএআই-এর একদল কর্মীর কাছে ৪২০ ডলার করে ঋণী রয়েছেন মাস্ক।

মাস্কের বিরুদ্ধে কর্মীদের পাওনা অর্থ না মেটানোর অভিযোগ
মাস্কের মতো একজন মানুষের হাতে ট্যাক্স রিটার্নের মতো এত সংবেদনশীল তথ্য মানুষ কেন তুলে দিল তা আসলেই ভাববার বিষয়। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 May 2026, 03:09 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:39 PM

প্রতারণার অভিযোগে বাংলাদেশে মামলার সবচেয়ে পরিচিত ধারা হচ্ছে ৪২০।  এবার ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, প্রতিশ্রুতি দিয়েও কর্মীদেরকে অর্থ পরিশোধ না করার এবং সেই পাওনার পরিমাণ জনপ্রতি ৪২০ ডলার।

এআই চ্যাটবট গ্রক-এর কার্যসক্ষমতা বাড়াতে নিজের কোম্পানির কর্মীদের কাছ থেকেই ব্যক্তিগত ট্যাক্স রিটার্নের ডেটা নিয়েছিলেন ইলন মাস্ক। বিনিময়ে প্রত্যেককে ৪২০ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তবে এর কয়েক মাস পার হয়ে গেলেও সেই পাওনা অর্থ এখনও পাননি কর্মীরা।

মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশণা ব্লুমবার্গ প্রতিবেদনে লিখেছে, নিজের এআই স্টার্টআপ এক্সএআই-এর একদল কর্মীর কাছে ৪২০ ডলার করে ঋণী রয়েছেন মাস্ক।

এ বছরের শুরুতে কোম্পানিটির সিইও মাস্ক কর্মীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তারা যদি গ্রক’কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ডেটা হিসেবে তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত ট্যাক্স রিটার্ন বা আয়কর বিবরণী জমা দেন তবে মাস্ক তাদের এ অর্থ দেবেন।

আগামী ১৫ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাক্স জমা দেওয়ার শেষ সময়ের আগে গ্রকের সক্ষমতা উন্নত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।

নানা ঝুঁকি থাকার পরও অনেকেই ট্যাক্স রিটার্ন তৈরির কাজে এআই চ্যাটবটের সাহায্য নিয়েছেন। তবে বেশিরভাগ মানুষই গ্রকের চেয়ে অ্যানথ্রপিকের ‘ক্লড’ ও ওপেনএআইয়ের ‘চ্যাটজিপিটি’ ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। আর এ প্রবণতা বদলে নিজেদের চ্যাটবটের জনপ্রিয়তা বাড়াতেই এমন চেষ্টা করছিল এক্সএআই।

ব্লুমবার্গের হাতে আসা কোম্পানির অভ্যন্তরীণ কিছু বার্তা থেকে জানা গেছে, কর্মীদেরকে রাজি করাতে ম্যানেজাররা ওই নির্দিষ্ট নগদ অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দিতে শুরু করেন।

পাশাপাশি কর্মীদের ‘এক্স মানি’তে আগেভাগে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ারও লোভ দেখানো হয়েছিল, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এর পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ও অনেক দিন ধরেই চালুর অপেক্ষায় রয়েছে।

কিছু কর্মী এ লোভনীয় প্রস্তাবে রাজি হয়ে তাদের প্রয়োজনীয় ডেটা জমাও দিয়েছিলেন। যার মধ্যে এ বছরের বা গত বছরের কর নথি এবং এর সহযোগী অন্যান্য জরুরি নথিপত্র ও প্রমাণাদিও ছিল।

তবে কয়েক মাস পার হয়ে গেলেও সে ৪২০ ডলারের চেক কর্মীদের হাতে পৌঁছায়নি। প্রতিবেদন বলেছে, কর্মীরা এ পাওনা অর্থের বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে জানতে পারেন, পুরো প্রোগ্রামটির দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার আর সেই কোম্পানিতে কর্মরত নেই।

এদিকে, ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের জবাবে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি এক্সএআই।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মাস্কের মতো একজন মানুষের হাতে ট্যাক্স রিটার্নের মতো এত সংবেদনশীল তথ্য মানুষ কেন তুলে দিল তা আসলেই ভাববার বিষয়।

আমেরিকার সাধারণ মানুষ এখন বেশ আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের বাজারে কয়েকশ ডলার হয়ত খুব বড় কোনো অংক নয় তবে কমও নয়!

এবার আসা যাক বোনাসের ওই নির্দিষ্ট অংকের অর্থের বিষয়ে। মাস্ক কেন বোনাস হিসেবে ঠিক ৪২০ ডলারই প্রস্তাব করলেন? পেছনের কারণটির অবশ্য প্রতারণাসংশ্লিষ্ট নয়। এ সংখ্যাটি গাঁজা বা উইডের বহুল পরিচিত কোড বা রেফারেন্স, যার ইতিহাস ১৯৭০-এর দশকের। মাস্ক এ কৌতুকটি করতে বেশ পছন্দ করেন।

এর আগেও ৪২০ সংখ্যার চক্করে পড়ে বড় ঝামেলায় জড়িয়েছেন মাস্ক। তিনি একবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন, ৪২০ ডলার প্রতি শেয়ার মূল্যে টেসলার সব স্টক কিনে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল তিনি নিশ্চিত করেছেন।

তার এ পোস্টের কারণে বাজারে স্বাভাবিকভাবেই তীব্র বিভ্রান্তি ও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল।

এর জেরে নাসডাক সাময়িকভাবে টেসলার শেয়ার লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছিল ও মার্কিন ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’ বা সিইএস মাস্কের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা জালিয়াতির মামলা ঠুকে দেয়।

পরবর্তীতে জুরি বোর্ড রায় দিয়েছিল, ওই পোস্টের কারণে টেসলার বিনিয়োগকারীদের হওয়া কোনো আর্থিক লোকসানের জন্য মাস্ক দায়ী নন।

সেই মামলার বিচার চলাকালীন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মাস্ক বলেছিলেন, তিনি কোনো কিছু পোস্ট করেছেন বলেই যে “মানুষ তা বিশ্বাস করবে বা সেই অনুসারে কাজ করবে, এমন কোনো কথা নেই।”