Published : 29 Jun 2026, 10:47 PM
উপসাগরে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের পরও কাতারের দোহায় মঙ্গলবার ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা শান্তিবৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
ওয়াশিংটন-তেহরান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে চলতি সপ্তাহে কোনও কারিগরি আলোচনার পরিকল্পনা নেই বলে ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্যের দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ট্রাম্প এই ঘোষণা দিলেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরান একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছে। আগামীকাল দোহায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে!”
তবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী শর্ত পূরণের পর বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানালেও বিস্তারিত কোনও তথ্য দেননি।
তাসনিম বার্তা সংস্থাকে তিনি বলেন, অন্য পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ফলোআপসহ কাতারের সঙ্গে যথারীতি পরামর্শ চলমান থাকলেও দোহায় ওয়ার্কিং গ্রুপগুলোর কারিগরি আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়টি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে যেভাবে এসেছে, তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের পক্ষ থেকে আসা এই দুটি বক্তব্য আপাতদৃষ্টে সাংঘর্ষিক মনে হলেও, গরিবাবাদীর মন্তব্যের পর বৈঠকটি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, দোহায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্প জামাতা জ্যারেড কুশনার।
ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলমান থাকর এই সময়ে বিশেষ দূত উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার চলতি সপ্তাহে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে দোহা যাচ্ছেন। উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনার পাশাপাশি মূল বৈঠকের ফাঁকে কারিগরি আলোচনাও অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান লেভিট।
চলতি মাসের শুরুর দিকে যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছায়, যার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে জটিল বিষয়, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ৬০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব শুরু হয়।
তবে লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবির মুখে এই চুক্তিটি বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়েছে।
১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের প্রথম দফায় লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করে পূর্ণ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র লেবানন সরকার ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি পৃথক চুক্তি করিয়েছে, যেখানে লেবাননে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা প্রণালির রুটগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান এবং তেহরানের নির্ধারিত নয় এমন লেনে চলাচলকারী জাহাজে গুলি চালিয়েছে।
এর জবাবে জলপথের কাছে ইরানি অবস্থানগুলোতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যার পাল্টা জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করায় ইরান।
তবে হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও উত্তেজনা হ্রাসের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। লেভিট সোমবার বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে আমরা যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছি। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরান যদি বাণিজ্যিক জাহাজ বা মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানে, তবে সহিংসতার জবাব সহিংসতা দিয়েই দেওয়া হবে।
এদিকে, চুক্তির পর তেলের দাম কমে আসায় সোমবার সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালীতে তেহরানের অবরোধ প্রত্যাহার হয় এবং ইরানের জ্বালানি পণ্যের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়।
নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, “গ্যাসের দাম দ্রুত কমছে! খুচরা পর্যায়ে কোনো অনিয়ম দেখলে জানান।” যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি গ্যালন (৩.৮ লিটার) গ্যাসোলিনের গড় দাম ৩ ডলার ৮৬ সেন্টে নেমে এসেছে, যা গত মে মাসে সর্বোচ্চ ৪ ডলার ৫৬ সেন্টে পৌঁছেছিল। যুদ্ধের আগে এই দাম ৩ ডলারের নিচে ছিল।