Published : 28 May 2026, 05:06 PM
সর্বশেষ অভিযানের ব্যর্থতা কাটিয়ে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে আবারও রকেট উৎক্ষেপণের সবুজ সংকেত পেয়েছে জেফ বেজোসের মহাকাশ কোম্পানি ব্লু অরিজিন।
মার্কিন ‘ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ বা এফএএ-এর তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে একটি ‘ক্রায়োজেনিক লিক’কে চিহ্নিত করার পর প্রয়োজনীয় ত্রুটি সংশোধন করে এখন নিজেদের ‘নিউ গ্লেন’ রকেটের পরবর্তী মিশনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি শুরু করেছে কোম্পানিটি।
ব্লু অরিজিন এখন তাদের ‘নিউ গ্লেন’ রকেটের ‘এনজি-৪’ নামের পরবর্তী ফ্লাইটের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করতে পারবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
নিউ গ্লেন-এর তৃতীয় অভিযানের সময় রকেটটি তার পেলোড বা স্যাটেলাইটকে সঠিকভাবে কক্ষপথে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছিল। ফলে এ রকেটের উৎক্ষেপণ সাময়িকভাবে স্থগিত করে দিয়েছিল এফএএ।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ব্লু অরিজিন ঘোষণা করেছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএএ ব্যর্থ হওয়া সেই অভিযানের তদন্ত প্রতিবেদন অনুমোদন করেছে এবং ত্রুটি সংশোধনের জন্য তারা যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে তা গ্রহণ করেছে।
Fun video showcasing "No, It's Necessary" lifting on the Transporter Erector. Next stop integrated hotfire. "Never Tell Me The Odds" is in the house, too (well into it’s refurb cycle) pic.twitter.com/HnQO31inoq
— Dave Limp (@davill) May 22, 2026
রকেটের পরবর্তী ফ্লাইটের দিকে ইঙ্গিত করে ব্লু অরিজিন লিখেছে, “এনজি-৪-এর প্রস্তুতি চলছে, খুব শিগগিরই নতুন আপডেট আসছে।”
গেল এপ্রিলে কোম্পানিটি নিউ গ্লেন-এর তৃতীয় অভিযানে প্রথমবারের মতো সফলভাবে তাদের রকেটের ফার্স্ট-স্টেজ বুস্টারটি পুনরায় ব্যবহার করেছিল।
সব কিছু ঠিকঠাকভাবেই এগোচ্ছিল, যতক্ষণ না রকেটের বহন করা ‘এএসটি স্পেসমোবাইল’-এর স্যাটেলাইটটিকে কক্ষপথে বসানোরর সময় আসে।
ওই সময় ব্লু অরিজিন বলেছিল, রকেটটি স্যাটেলাইটটিকে ‘অস্বাভাবিক বা ত্রুটিপূর্ণ কক্ষপথে’ বসিয়েছে।
পরবর্তীতে এএসটি স্পেসমোবাইল বলেছে, তাদের স্যাটেলাইটটি রকেট থেকে আলাদা হতে পেরেছিল ঠিকই তবে এর ‘উচ্চতা এতটাই কম ছিল যে, অন-বোর্ড থ্রাস্টার প্রযুক্তির সাহায্যে সেটির কার্যক্রম টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয় এবং তা কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে’।
এ ঘটনার পর ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিষয়টিকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করে নিউ গ্লেনের উৎক্ষেপণ স্থগিত এবং ‘ঘটনার মূল কারণ উদ্ঘাটন ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নির্ধারণের’ জন্য তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনার পরপরই ব্লু অরিজিনের প্রধান নির্বাহী ডেভ লিম্প বলেছিলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, রকেটের ‘আপার স্টেজ’ বা দ্বিতীয় স্তরের দ্বিতীয়বার বার্নের সময় এর একটি ‘বিই-৩ইউ’ ইঞ্জিন লক্ষ্যমাত্রার কক্ষপথে পৌঁছানোর জন্য পর্যাপ্ত থ্রাস্ট বা ধাক্কা তৈরি করতে পারেনি।
এক্স-এ দেওয়া কোম্পানির নতুন পোস্টেও তার সেই বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি পাওয়া গেছে।
ব্লু অরিজিন লিখেছে, “আমাদের দ্বিতীয় জিএস২ বার্নের আগে আমরা তাপসংশ্লিষ্ট অস্বাভাবিক এক পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলাম। ফলে, আমাদের লক্ষ্যমাত্রার কক্ষপথে পৌঁছানোর জন্য বিই-৩ইউ ইঞ্জিন পূর্ণ থ্রাস্ট দিতে পারেনি।”
এক বিবৃতিতে এফএএ বলেছে, তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষ কারণ হিসেবে ‘ক্রায়োজেনিক লিক’ বা অতিশীতল জ্বালানি নিঃসরণকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা এক হাইড্রোলিক লাইনকে বরফ বানিয়ে জমিয়ে দিয়েছিল এবং এর ফলেই রকেটের দ্বিতীয় স্তরের ইঞ্জিন প্রজ্জ্বলনের সময় থ্রাস্ট বা ধাক্কায় অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে’।
এ সমস্যাটি চিহ্নিতের পর ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে তা নিশ্চিত করতে ব্লু অরিজিন এরইমধ্যে নয়টি প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
কোম্পানিটি এখনও ‘এনজি-৪’ অভিযানের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেনি।
তবে লিম্প সম্প্রতি নিউ গ্লেন-এর ‘ট্রান্সপোর্টার ইরেক্টর’-এর এক ভিডিও পোস্ট করে বলেছেন, ব্লু অরিজিন এখন ‘ইন্টিগ্রেটেড হটফায়ার টেস্টিং’ বা সমন্বিত ইঞ্জিন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা সম্ভবত এই আসন্ন অভিযানের জন্যই করা হচ্ছে।