Published : 07 Jun 2026, 09:42 PM
বিসিবি নির্বাচন শেষে নির্বাচন কমিশনার যখন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মনোনীত দুই পরিচালকের নাম ঘোষণা করলেন, সংবাদ সম্মেলন কক্ষে মৃদু গুঞ্জন উঠল। সংবাদ সম্মেলনের পরে সেই গুঞ্জন উচ্চকিত হলো আরও। সবারই প্রশ্ন ও আগ্রহ এই দুজনের পরিচয় নিয়ে। পরে নতুন পরিচালনা পর্ষদের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা এক পরিচালককে জিজ্ঞেস করা হলে তিনিও মৃদু হাসলেন। যে হাসির মানে, তারও জানা নেই!
বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তিন ক্যাটেগরিতে নির্বাচনে জিতে পরিচালক হন ২৩ জন। বাকি দুজনকে সরাসরি মনোনয়ন দেয় দেশের ক্রীড়া অভিভাবক সংস্থা এনএসসি। এবার সেই দুই পরিচালক শেখ মোঃ রুহুল আমিন ও মোঃ সরফরাজ আহমেদ।
এমনিতে ভোটের লড়াইয়ে চমক খুব বেশি ছিল না। প্রত্যাাশিতভাবেই সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হন তামিম ইকবাল এবং পরে তার কাঁধে উঠেছে বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব। সহ-সভাপতির নির্বাচিত হয়েছেন ফাহিম সিন্হা।
বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় পরিচালক হয়েছেন ৮ জন। রোববারের নির্বাচনে বাকি ১৫ পরিচালক পায় বিসিবি। সেই ২৩ পরিচালকের মধ্যে সাবেক ক্রিকেটার, অভিজ্ঞ সংগঠক যেমন আছে, তেমনি সরকারী দল বিএনপির সংশ্লিষ্ট ও ঘনিষ্ট আছেন বেশ কজন।
তাদের নিয়েও প্রশ্ন আছে। তবে সব ছাপিয়ে গেল যেন এনএসসি মনোনীত দুজনকে নিয়ে কৌতূহল। খোঁজ নিয়ে কিছুটা ধারণা পাওয়া গেল তাদেরকে নিয়ে।
এই দুজনের একজন শেখ মোঃ রুহুল আমিনের বাড়ি বাগেরহাট। তিনি মূলত আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা রুহুল আমিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বললেন, এসব পরিচয়ের বাইরেও তিনি একজন ক্রিকেট অনুরাগী। যদিও বিসিবি পরিচালক হয়ে আসার আগে সংগঠক হিসেবে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না সেভাবে।
“ক্রিকেটকে পছন্দ করি, ক্রিকেটের সঙ্গে আছি। আমি ওইভাবে গত ২০ বছর ধরে কোনো সময় স্পন্সরশিপে বা কোনো কিছুতে ছিলাম না। এখন একটা সুযোগ পেয়েছি, ক্রিকেটকে ভালো কিছু দেওয়ার জন্য, ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।”
এনএসসি মনোনীত অন্য পরিচালক সরফরাজ আহমেদের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায়। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সরফরাজ আহমেদ কাজ করছেন আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে।
তিনিও পেশায় ব্যবসায়ী। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে জানালেন তিনি।
নিজের সেই খেলোয়াড়ি জীবনে সফল না হলেও সংগঠক হিসেবে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে জানান সরফরাজ আহমেদ। আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্টের মাধ্যমে লম্বা সময় ধরে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করছেন বলেও জানান।
“আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া চক্রের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করছি আজকে ১১ বছর ধরে। খেলাধুলা অনেক আগে থেকেই করি আমি। আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্টের মাধ্যমেই আমি টুর্নামেন্টগুলো প্রত্যেক বছরই করে গিয়েছি। আমি প্রায় ১১ বছর ধরে, বলা যায় উনার (আরাফাত রহমান কোকো) মৃত্যুর পর থেকে ক্রিকেট নিয়েই সম্পৃক্ত ছিলাম।”
“সবসময় খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকি। সংগঠক হিসেবে বেশি ভালো কাজ করতে পছন্দ করি।”