Published : 03 Feb 2026, 04:54 PM
ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই স্টার্টআপ এক্সএআই’কে কিনে নিয়েছে তারই মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্স।
প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট লিখেছে, মহাকাশ প্রযুক্তি ও এআইকে এক ছাদের নিচে আনার মাধ্যমে চাঁদে ঘাঁটি গড়া থেকে শুরু করে মঙ্গলে মানব সভ্যতা ছড়িয়ে দেওয়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাটি আরও এগিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করলেন মার্কিন এই ধনকুবের।
এক বার্তায় মাস্ক বলেছেন, এ দুই কোম্পানির মিলে হবে পৃথিবী ও পৃথিবীর বাইরের তৈরি হবে সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী উদ্ভাবনী শক্তি, যেখানে এআই, রকেট, মহাকাশভিত্তিক ইন্টারনেট স্টারলিংক, সরাসরি মোবাইলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিশ্বের অন্যতম সেরা রিয়াল-টাইম তথ্য ও মুক্ত বাক-স্বাধীনতার প্ল্যাটফর্ম এক্স সব একসূত্রে কাজ করবে।
এ লেনদেন সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি বলেছেন, এ চুক্তিতে স্পেসএক্সের মূল্য ধরা হয়েছে ১ ট্রিলিয়ন ডলার ও এক্সএআইয়ের মূল্য ২৫ হাজার কোটি ডলার।
ওই ব্যক্তি বলেছেন, এ অধিগ্রহণের অংশ হিসেবে এক্সএআইয়ে বিনিয়োগকারীরা তাদের প্রতিটি শেয়ারের বিনিময়ে স্পেসএক্সের ০.১৪৩৩টি শেয়ার পাবেন। এক্সএআইয়ের কিছু নির্বাহী কর্মকর্তা স্পেসএক্সের শেয়ারের বদলে শেয়ার প্রতি ৭৫ দশমিক ৪৬ ডলার নগদ নেওয়ার সুযোগও পেতে পারেন।
বর্তমানে বিতর্কিত কনটেন্ট তৈরির চ্যাটবট হিসেবে পরিচিত এক্সএআই। ফলে রকেট কোম্পানির সঙ্গে এআই কোম্পানিটির এ চুক্তি অনেকের কাছেই কিছুটা অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে মাস্কের মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টার তৈরির নতুন পরিকল্পনার মূলে রয়েছে এই স্পেসএক্স।
মাস্ক লিখেছেন, “এআইয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে বিদ্যুতের যে বিপুল চাহিদা তা কেবল পৃথিবীর সম্পদ দিয়ে মেটানো সম্ভব নয়।” ফলে এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে মহাকাশে সরিয়ে নেওয়াই তার মতে “একমাত্র যৌক্তিক সমাধান।”
এ লক্ষ্যেই কয়েক দিন আগে ১০ লাখ নতুন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ‘অরবিটাল ডেটা সেন্টার’ তৈরির জন্য মার্কিন ‘ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন’ বা এফসিসি’র কাছে আবেদন করেছে স্পেসএক্স।
মাস্ক আরও দাবি করেছেন, মহাকাশভিত্তিক এসব ডেটা সেন্টার ভবিষ্যতে মহাকাশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে অন্যান্য অগ্রগতিও নিশ্চিত করবে।
“মহাকাশে ডেটা সেন্টার তৈরির মাধ্যমে আমরা যে সক্ষমতা পাব তা চাঁদে স্বয়ংসম্পূর্ণ ঘাঁটি তৈরি, মঙ্গলে আস্ত এক সভ্যতা গড়ে তোলা এবং পরিশেষে মহাবিশ্বে মানুষের পদচারণের পথ প্রশস্ত করবে ও প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাবে।”
মঙ্গল গ্রহ নিয়ে মাস্কের এমন উচ্চাভিলাষী দাবির বিষয়টি এবারই প্রথম নয়। এর আগে, ২০১৭ সালেও তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ২০২৪ সালের মধ্যেই স্পেসএক্স মঙ্গলে মানুষবাহী মিশন পাঠাবে।
মাস্কের নিজের কোম্পানি তারই অন্য আরেকটি কোম্পানিকে কিনে নেওয়ার ঘটনাও এটাই প্রথম নয়। গত বছর নিজের দুটি কোম্পানি এক্সএআই ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স’কে একীভূত করেছিলেন তিনি। ফলে ২০২২ সালে মাস্ক টুইটার (বর্তমানে এক্স) কিনেছিলেন এখন সেটিরও মালিক স্পেসএক্স।
এ ছাড়া সম্প্রতি মাস্ক ঘোষণা দিয়েছেন, এক্সএআই’তে ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে মাস্কের বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি বা ইভি কোম্পানি টেসলা।
মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লুমবার্গ প্রতিবেদনে লিখেছে, এ বছরের শেষদিকে শেয়ার বাজারে আসার পরিকল্পনা করছে স্পেসএক্স। ফলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ‘টেসলার সঙ্গে একীভূত হওয়ার বিষয়েও আলোচনা করেছে’ মাস্কের মহাকাশ কোম্পানিটি।