Published : 11 Sep 2025, 03:39 PM
মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট মেটার বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা লঙ্ঘন ও কোটি কোটি ব্যবহারকারীকে ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগ করেছেন হোয়াটসঅ্যাপের সাবেক নিরাপত্তা প্রধান।
২০২১ সালে হোয়াটসঅ্যাপের মূল কোম্পানি মেটাতে যোগ দিয়েছিলেন আত্তাউল্লাহ বেইগ এবং ২০২৫ সালে চুক্তি শেষ হয়ে গেলে তাকে কাজ থেকে বের করে দেয় মেটা। সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে তিনি এক মামলা দায়ের করেছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।
মামলায় বেইগ অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন নিরাপত্তা সমস্যাকে ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করেছে মেটা এবং ত্রুটি ঠিক করার বদলে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ানোর দিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে কোম্পানিটি।
মামলায় বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে তিনশ কোটির বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপের। তবে প্রতিদিন এক লাখেরও বেশি অ্যাকাউন্ট হ্যাক বা অন্যের দখলে চলে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে অ্যাপটিতে, যা যথাযথভাবে ঠেকাতে পারছে না মেটা।
একশ ১৫ পৃষ্ঠার মামলার নথিতে আরও অভিযোগ রয়েছে, ব্যবহারকারীদের গোপন তথ্য, বিশেষ করে ছবি, অবস্থান বা লোকেশন ও কনটাক্ট লিস্ট ‘কোনো নজরদারি বা রেকর্ড ছাড়াই’ দেখতে পারতেন হোয়াটসঅ্যাপ ও মেটার প্রায় দেড় হাজার প্রকৌশলী।
এসব অভিযোগ সত্য হলে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফেডারেল ট্রেড কমিশন’ বা এফটিসি’র সঙ্গে করা এক প্রাইভেসি সংক্রান্ত চুক্তি লঙ্ঘন করবে মেটা। সেই চুক্তিটি মেটার বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর তথ্য সঠিকভাবে পরিচালনা না করার অভিযোগে করেছিল এফটিসি।
বেইগ বলেছেন, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গসহ মেটার শীর্ষ কর্মকর্তাদের যখন হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তা ত্রুটি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন তিনি তখনই তাকে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
মামলার তথ্য অনুসারে, ২০২২ সালে বেইগ হোয়াটসঅ্যাপের নির্বাহীদের বলেছেন, “আমাদের ব্যবহারকারী ও তাদের তথ্য রক্ষার আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব আছে। ব্র্যান্ডের ক্ষতি ও জরিমানার দিক থেকে এর শাস্তি গুরুতর হতে পারে।”
এর আগে ‘ক্যাপিটাল ওয়ান’ ও ‘পেপ্যাল’সহ বেশ কয়েকটি প্রধান আর্থিক কোম্পানিতে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছিলেন বেইগ।
এদিকে, বেইগের এসব অভিযোগকে ‘বিকৃত’ বা ‘ভুলভাবে উপস্থাপন করা’ হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে হোয়াটসঅ্যাপ। প্লাটফর্মটির দাবি, তার অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের অধীনস্থ ‘অকপেশনাল সেইফটি অ্যান্ড হেলথ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ বা ওএসএইচএ।
এক বিবৃতিতে হোয়াটসঅ্যাপের কমিউনিকেশনস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট কার্ল উগ বলেছেন, “দুঃখজনকভাবে বিষয়টি খুব পরিচিত কৌশল, যেখানে কোনো সাবেক কর্মী নিজের খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে বরখাস্ত হওয়ার পর দলটির চলমান কঠোর পরিশ্রমকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে বিকৃত অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে আসেন।
“নিরাপত্তার বিষয়টি চ্যালেঞ্জপূর্ণ এক ক্ষেত্র। তবে আমরা গর্বিত যে, ব্যবহারকারীদের প্রাইভেসি রক্ষায় আমাদের শক্তিশালী অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে কাজ করছি আমরা।”
এর আগেও কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির সময় ৫ কোটি ফেইসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য অনুপযোগী উপায়ে সংগ্রহের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিল ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক মেটা।
এ মামলায় ক্ষতিপূরণ, বেতন ফেরত ও হোয়াটসঅ্যাপে তার পদ পুনর্বহালের অনুরোধ করেছেন বেইগ।