Published : 02 Feb 2026, 02:39 PM
লাল গ্রহ মঙ্গলের পাথুরে ও বিপজ্জনক পথে নাসার পার্সিভ্যারেন্স রোভারকে পথ দেখিয়ে নিয়ে গেল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। প্রথমবারের মতো কোনো চ্যাটবট ব্যবহার করে মঙ্গল গ্রহের একটি রুটের ম্যাপ তৈরি করেছে নাসা।
প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট লিখেছে, ২০২১ সাল থেকে মঙ্গল গ্রহে একের পর এক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করে চলেছে নাসার পার্সিভ্যারেন্স, যার মধ্যে লাল গ্রহ থেকে প্রথমবারের মতো অডিও রেকর্ড পাঠানোর বিষয়টি অন্যতম। এবার অবতরণের প্রায় পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার মুখে নতুন এ মাইলফলক স্পর্শ করল রোভারটি।
গত ডিসেম্বরে মঙ্গলের ‘জেজেরো ক্রেটার’-এর একটি নির্দিষ্ট পথ সফলভাবে অতিক্রম করেছে পার্সিভ্যারেন্স। পথটি নির্ধারণ করেছে এআই স্টার্টআপ অ্যানথ্রপিক-এর চ্যাটবট ক্লড। প্রথমবারের মতো এবারই গাড়ি আকৃতির এ রোবটটি চালানোর জন্য কোনো ‘লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’ এআই ব্যবহার করল নাসা।
গত ৮ থেকে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে মঙ্গল গ্রহের এক পাথুরে এলাকার মধ্য দিয়ে প্রায় চারশ মিটার পথ পাড়ি দিয়েছে পার্সিভ্যারেন্স। ওই পথের ম্যাপ তৈরি করে দিয়েছে ক্লড। তবে পার্সিভ্যারেন্সের জন্য পথ নির্ধারণের কাজটি কেবল একটি কমান্ড বা প্রম্পট দেওয়ার মতো সহজ ছিল না।
নাসা বলেছে, রোভারের পথ ঠিক করা একজন মানুষের জন্যও বেশ কঠিন কাজ, বিশেষ করে “রোভারের প্রতিটি ড্রাইভ খুব সতর্কতার সঙ্গে পরিকল্পনা করতে হয়, যাতে যন্ত্রটি পিছলে, উল্টে, চাকা জ্যাম বা বালিতে আটকে না পড়ে।
“ফলে রোভারটি মঙ্গলে অবতরণের পর থেকেই পরিশ্রমের সঙ্গে ছোট ছোট পথচিহ্ন বা ‘ওয়েপয়েন্ট’ তৈরি করেছেন এর মানব চালকরা। মহাকাশ থেকে তোলা ছবি ও রোভারের নিজস্ব ক্যামেরার ছবির সমন্বয়ে এসব পথ নির্ধারণ করতেন” তারা।
ক্লডকে দিয়ে কাজটি করানোর জন্য নাসাকে প্রথমে প্রোগ্রামিং এজেন্ট ‘ক্লড কোড’কে রোভার থেকে পাওয়া কয়েক বছরের সংগৃহীত তথ্য দিতে হয়েছে। এরপর পরিকল্পিতভাবে ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু করেছে ক্লড।
১০ মিটারের ছোট ছোট অংশে ভাগ করে পুরো পথটি সাজায় এবং প্রতিটি অংশ নিজে থেকেই বারবার পর্যালোচনা ও সংশোধন করে চূড়ান্ত পথ তৈরি করেছে চ্যাটবটটি।
এসব তথ্য রোভারের কাছে পাঠানোর আগে এআইয়ের তৈরি করা প্রতিটি ধাপ পুনরায় ভালো করে যাচাই করে নিয়েছেন নাসার ‘জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি’র প্রকৌশলীরা।
ক্লডের দেওয়া বিভিন্ন পথচিহ্নকে নিজেদের প্রতিদিনের ব্যবহৃত সিমুলেশন সফটওয়্যারে চালিয়ে দেখেছেন তারা, যাতে কোনো ভুল কমান্ড রোভারের কাছে না যায়।
নাসা বলেছে, ক্লডের তৈরি করা পথে তাদের খুব সামান্যই পরিবর্তন করতে হয়েছে। যার মধ্যে একটি পরিবর্তনের কারণ, নাসার কাছে মঙ্গল গ্রহের মাটির একদম কাছ থেকে তোলা কিছু ছবি ছিল, যা ক্লড পরিকল্পনা করার সময় দেখার সুযোগ পায়নি।
নাসা বলেছে, “প্রকৌশলীদের ধারণা, এভাবে ক্লডকে ব্যবহারের ফলে পথ পরিকল্পনার সময় অর্ধেক কমে আসবে এবং এসব যাত্রা আরও ধারাবাহিক হবে।
“পরিকল্পনার ক্লান্তিকর কাজ ও প্রশিক্ষণে কম সময় ব্যয় হওয়ায় রোভার অপারেটররা এখন আগের চেয়ে বেশি ড্রাইভ পরিচালনা, বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ ও অধিক বিশ্লেষণ করতে পারবেন। ফলে আমাদের প্রতিবেশি গ্রহটি সম্পর্কে আরও কিছু জানতে পারব আমরা।”
গেল গ্রীষ্মে ট্রাম্প প্রশাসনের বাজেট ছাঁটাইয়ের কারণে মোট জনশক্তির প্রায় ২০ শতাংশ বা চার হাজার কর্মী হারিয়েছে নাসা।
এর আগে, ২০২৬ সালের শুরুতে নাসার বিজ্ঞান বাজেট প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে জানুয়ারির শুরুতে সেই পরিকল্পনা বাতিল করেছে মার্কিন কংগ্রেস।
বাজেটটি ২০২৫ সালের তুলনায় কিছুটা কম রেখে রক্ষা করা গেলেও নাসার সামনে এখন কঠিন পথ। অ্যাপোলো অভিযানের সোনালী সময়ের তুলনায় বর্তমানে অর্ধেকেরও কম জনশক্তি নিয়ে সংস্থাটির আবার চাঁদে ফেরার লক্ষ্য পূরণ করতে হচ্ছে।