Published : 24 Oct 2025, 11:34 AM
কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সক্ষমতা এখন আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকরের দিকে এগোনোর পথে বড় এক অগ্রগতির ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগল।
গত বছর ‘উইলো’ নামের কোয়ান্টাম চিপ চালু করে গুগল, যার সাহায্যে যুগান্তকারী এক গবেষণা করেছে কোম্পানিটি। বুধবার গুগল দাবি করেছে, গবেষণাটিতে প্রমাণ মিলেছে, কোয়ান্টাম কম্পিউটারের জন্য এখন বাস্তব জীবনে ব্যবহার উপযোগী অ্যালগরিদম তৈরি করা যেতে পারে।
কোয়ান্টাম কম্পিউটিং নিয়ে কোম্পানিটির ‘কোয়ান্টাম ইকোস’ অ্যালগরিদম সম্পর্কে গবেষণাপত্রটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার’-এ।
গুগল বলেছে, ‘কোয়ান্টাম ইকোস’ নামে এক বিশেষ অ্যালগরিদম তৈরি করেছে তারা। এ অ্যালগরিদমটি ‘আউট-অফ-অর্ডার টাইম কোরিলেটর’ বা ওটিওসি অ্যালগরিদম ব্যবহার করে কাজ করেছে, যা ‘কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সক্ষমতারই প্রমাণ’।
কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মূল ধারণা হচ্ছে কিউবিট ব্যবহার করে এমন কম্পিউটার সিস্টেম তৈরি করা, যা আমাদের আশপাশের বিভিন্ন কোয়ান্টাম সিস্টেমকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করতে পারে। সাধারণ কম্পিউটারে তথ্য কেবল ‘১’ বা ‘০’ দিয়ে দেখানো হয়। তবে কিউবিট একইসঙ্গে একাধিক অবস্থা প্রকাশ করতে পারে।
গুগলের ধারণা, তাদের তৈরি এ নতুন অ্যালগরিদমটি সেই ধারণার আরও একটি প্রমাণ। কোম্পানিটির ‘কোয়ান্টাম ইকোস’ অ্যালগরিদমটি দেখিয়েছে, একটি কোয়ান্টাম সিস্টেমের বিভিন্ন অংশ একে অপরের সঙ্গে কীভাবে মিথস্ক্রিয়া করে, যা অন্যান্য কোয়ান্টাম কম্পিউটারেও পুনরায় করা যেতে পারে।
এ ছাড়া, অ্যালগরিদমটি গুগলের ‘উইলো কোয়ান্টাম চিপে বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম সুপারকম্পিউটারের ক্লাসিক্যাল অ্যালগরিদমের তুলনায় ১৩ হাজার গুণ দ্রুত কাজ করে’ বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট এনগ্যাজেট।
‘কোয়ান্টাম ইকোস’ অ্যালগরিদমে ‘ইকো’ শব্দটি এসেছে গুগলের অ্যালগরিদমটি যেভাবে একটি কোয়ান্টাম সিস্টেমের (এই ক্ষেত্রে উইলো চিপ) সঙ্গে কাজ করে সেই প্রক্রিয়া থেকে।
ব্লগ পোস্টে কোম্পানিটি বলেছে, “আমাদের কোয়ান্টাম সিস্টেমে বা উইলো চিপের বিভিন্ন কিউবিটে সতর্কতার সঙ্গে তৈরি করা সংকেত পাঠাই আমরা, যেখানে একটি কিউবিটকে সামান্য নাড়িয়ে এবং এরপর সংকেতটির অগ্রগতিকে নিখুঁতভাবে উল্টে দিই, যাতে যে ‘ইকো’ বা প্রতিধ্বনি ফিরে আসে, তা শোনা যায়।”
এ ইকো কোয়ান্টাম তরঙ্গের ‘গঠনমূলক হস্তক্ষেপ’ বা শক্তিশালী সমন্বয়ের মাধ্যমে আরও বড় হয়। ফলে খুবই সংবেদনশীল পরিমাপ করতে পারে গুগল। এ পদ্ধতিতে কোয়ান্টাম সিস্টেমের অত্যন্ত সূক্ষ্ম তথ্য ধরতে পারছে কোম্পানিটি।

এ অতিসংবেদনশীলতা থেকে বোঝা যায়, ভবিষ্যতে কণার পারস্পরিক ক্রিয়া বা অণুর কাঠামোর মতো মডেল তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে কোয়ান্টাম কম্পিউটার।
‘ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে’র সঙ্গে আলাদা এক পরীক্ষায় ‘কোয়ান্টাম ইকোস’ অ্যালগরিদম ব্যবহার করে দুইটি ভিন্ন অণুর গঠন বোঝার চেষ্টা করেছে গুগল।
রাসায়নিক কাঠামো বোঝার জন্য বর্তমানে যে, ‘নিউক্লিয়ার ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স’ বা এনএমআর পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন বিজ্ঞানীরা তার সঙ্গে এ পরীক্ষার ফলাফল তুলনা করেছে গুগল, যেখানে উঠে এসেছে, দুইটি পদ্ধতির ফলাফল পুরোপুরি মিলে গিয়েছে।
গুগল বলেছে, ‘কোয়ান্টাম ইকোস’ থেকে তারা এমন তথ্যও পেয়েছে, যা ‘সাধারণত এনএমআর থেকে পাওয়া যায় না’। ফলে কোয়ান্টাম কম্পিউটার দিয়ে আরও গভীর ও নতুন ধরনের তথ্য জানা সম্ভব।
দীর্ঘমেয়াদে পূর্ণ সক্ষমতার এক কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার করা যেতে পারে ওষুধ আবিষ্কার থেকে শুরু করে নতুন ব্যাটারি উপাদান তৈরি পর্যন্ত নানা কাজে।
আপাতত গুগল বলেছে, তাদের ‘কোয়ান্টাম ইকোস’ গবেষণার মানে হচ্ছে, বাস্তবে ব্যবহার করা যায় এমন কোয়ান্টাম কম্পিউটার অ্যালগরিদম আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে চলে আসতে পারে।