Published : 28 May 2026, 12:05 PM
স্যামসাংয়ের সবচেয়ে বড় দুটি ইউনিয়ন এক ঐতিহাসিক মজুরি চুক্তি অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে কোম্পানির মেমরি ও চিপ বিভাগের কর্মীরা প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ডলার পর্যন্ত বোনাস পেতে যাচ্ছেন।
তবে এ মোটা অংকের বোনাস কাঠামো নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্টটির অন্য বিভাগের কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
দক্ষিণ কোরিয়ার কর্পোরেট দুনিয়ায় বড় ধরনের ধর্মঘট ঠেকাতে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স তাদের মেমোরি চিপ কর্মীদের রেকর্ড পরিমাণ বোনাস দিতে বাধ্য হয়েছে।
দেশটির সংবাদমাধ্যম ইয়োনহাপ নিউজের তথ্য অনুসারে, গত ২২ মে থেকে শুরু হওয়া ছয় দিনের ভোটাভুটিতে অংশ নিয়ে দুই ইউনিয়নের মোট ৬২ হাজার ৬১৬ জন সদস্যের মধ্যে ৭৩.৭ শতাংশ কর্মী এ চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন।
ইউনিয়ন থেকে বোনাসের সুনির্দিষ্ট অংক এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও ধারণা করা হচ্ছে এ বছর স্যামসাং প্রায় ৩০০ ট্রিলিয়ন কোরিয়ান ওন পরিচালন মুনাফা করতে যাচ্ছে।
এ মোটা অংকের মুনাফার ওপর ভিত্তি করেই কোম্পানির চিপ বিভাগের ২৮ হাজার কর্মীর প্রত্যেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৪ লাখ ডলার পর্যন্ত বোনাস পেতে পারেন।
মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লুমবার্গ প্রতিবেদনে লিখেছে, স্যামসাং এ বোনাস দেওয়ার জন্য মোট ২ হাজার ৬৬০ কোটি ডলার বরাদ্দ করতে যাচ্ছে।
কোম্পানিটির হিসাব মতে, কর্মীপ্রতি এ বোনাসের গড় পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার। বোনাসের সুনির্দিষ্ট অংক যা-ই হোক না কেন স্যামসাংয়ের সবচেয়ে বেশি লাভজনক এ বিভাগের কর্মীরা নিজেদের বার্ষিক বেতনের প্রায় তিন গুণ বোনাস পেতে যাচ্ছেন।
তবে কোম্পানি এ বোনাসের অর্থ সরাসরি ক্যাশ বা নগদে দেবে না, বরং আগামী অন্তত ১০ বছর ধরে কোম্পানির শেয়ার হিসেবে এ অর্থ দেবে।
শর্ত হচ্ছে, কোম্পানির মেমরি বিভাগকে ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত বার্ষিক অন্তত ১৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ও ২০২৯ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বার্ষিক ৬ হাজার ৬০০ কোটি ডলার মুনাফা পেতে হবে।
বোনাসের বিষয় নিয়ে কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায়, স্যামসাংয়ের সবচেয়ে বড় ইউনিয়নটি গত ২১ মে থেকে ১৮ দিনের ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছিল।

এ ইউনিয়নে ৪৮ হাজার সদস্য রয়েছেন, যাদের সিংহভাগই কোম্পানির চিপ বিভাগে কর্মরত। এ ধর্মঘট কেবল স্যামসাংয়ের ওপরই নয়, বরং পুরো দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারত। কারণ দেশটির মোট জিডিপির ১২.৫ শতাংশই আসে স্যামসাং থেকে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ১৮ দিনের ধর্মঘটের কারণে সরাসরি প্রায় ৬৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার লোকসান হতে পারত।
তবে ধর্মঘট শুরু হওয়ার কেবল এক ঘণ্টা আগে দুই পক্ষ এক চুক্তিতে পৌঁছাতে পেরেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমমন্ত্রী কিম ইয়ং-হুন নিজে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এগিয়ে আসায় এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুসারে, অধিকাংশ কর্মী এ চুক্তির পক্ষে ভোট দিলেও বোনাস দেওয়ার এ বিশেষ কাঠামোটি নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা ও ক্ষোভও তৈরি হচ্ছে।
ইউনিয়নের দাবি মেনে স্যামসাং কর্মীদের বোনাসের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দিতে রাজি হয়েছে এবং বোনাস দেওয়ার জন্য কোম্পানির বার্ষিক পরিচালন মুনাফার ১০.৫ শতাংশ বরাদ্দ করেছে।
কোম্পানির সিংহভাগ আয় এনে দেন চিপ বিভাগের কর্মীরা, তারা নিজেরাই মোট বোনাস ফান্ডের ৪০ শতাংশ পাচ্ছেন। অন্যদিকে, বাকি সব বিভাগকে মিলেমিশে অবশিষ্ট অংশ ভাগ করে নিতে হচ্ছে।
এর ফলে স্যামসাংয়ের স্মার্টফোন, টিভি ও গৃহস্থালি পণ্য বিভাগের কর্মীরা বোনাস হিসেবে কেবল প্রায় ৪ হাজার ডলার পেতে যাচ্ছেন, যা চিপ বিভাগের কর্মীদের তুলনায় একেবারেই নগণ্য।
স্যামসাংয়ের সবচেয়ে বড় ইউনিয়নে চিপ বিভাগের কর্মীরাই বেশি, সেখানকার ৮০ শতাংশ সদস্য এ মজুরি চুক্তির পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
তবে অন্য সব বিভাগের কর্মীদের প্রতিনিধিত্ব করা ছোট ইউনিয়নটির কেবল ২১ শতাংশ সদস্য এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন।